hadith book logo

কীভাবে আমরা সন্তানদের লালন-পালন করব

লেখকঃ আখতারুজ্জামান মুহাম্মদ সুলাইমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

চারিত্রিক গুণাবলী ও আদব কায়দা

১। আমরা বাচ্চাদের এমন অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করব, যাতে তারা কোনো কিছু গ্রহণ করার সময়, প্রদান করার সময়, পান করার সময়, লেখার সময় ও মেহমানদারী করার সময় ডান হাত ব্যবহার করে। আর তাদেরকে এই শিক্ষাও দিতে হবে যে প্রতিটি কাজের পূর্বে যেন ‘বিসমিল্লাহ’ বলে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার সময় এবং পান করার সময়। আর খাবার গ্রহণ করবে বসা অবস্থায়। যখন খানাপিনা শেষ হয়ে যাবে তখন যেন বলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

২। তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকায় অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এতে আছে- হাত পায়ের নখ ছোট করা, খাবার গ্রহণের পূর্বে ও পরে হস্তদ্বয় ধৌত করা, এমনভাবে ইস্তেঞ্জা করতে শিক্ষা দেওয়া যেন তারা প্রশ্রাবের পর টিস্যু কাগজ অথবা ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করে, অথবা পানি দ্বারা ধৌত করে, তাদের সালাত শুদ্ধ হবে এবং তাদের পোশাক পরিচ্ছদেও কোনো নাপাকি স্পর্শ করবে না।

৩। তাদেরকে গোপনে উপদেশ দান করতে হবে। যদি কোনো ভুল ত্রুটি করেও থাকে, তথাপি প্রকাশ্যভাবে অপমান করা ঠিক হবে না।

৪। যখন আযান হয়, তখন তাদের নীরব থাকতে বলা উচিৎ। আর সাথে সাথে মুয়াযযিন যা বলে তার জবাব দেওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত ও সালাম পড়তে হবে এবং উসীলার দো‘আ করতে হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«اَللهم رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلاَةِ القَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الوَسِيلَةَ وَالفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ»

“হে আল্লাহ, আপনি এ পরিপূর্ণ আহ্বানের ও সালাতের রব। অনুগ্রহ করে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‌ উসীলা ও মর্যাদা দান করুন। আর যে প্রশংসিত স্থানের ওয়াদা আপনি করেছেন, তা তাকে দান করুন”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬১৪।]

৫। যদি সম্ভব হয়, তবে প্রতিটি সন্তানকে আলাদা বিছানার ব্যবস্থা করতে হবে অথবা গায়ের চাদর আলাদা দিতে হবে। উত্তম হচ্ছে- মেয়েদের জন্য আলাদা এবং ছেলেদের জন্য আলাদা কামরার ব্যবস্থা করা। ফলে, এটা তাদের চরিত্র ও স্বাস্থ্যের হিফাযত করবে।

৬। তাদের এমন অভ্যাস গড়তে হবে যাতে রাস্তা ঘাটে কোনো আবর্জনা না ফেলে। বরঞ্চ এই অভ্যাস করাতে হবে, যাতে সম্মুখে কখনও কোনো আবর্জনা দেখলে তা যেন দূরে সরিয়ে রাখে।

৭। খারাপ বন্ধুদের সাথে উঠাবসার ব্যাপারে সর্বদা সাবধান করতে হবে। আর রাস্তা ঘাটে তাদের অবস্থান করার ব্যাপারে সাবধান করতে হবে।

৮। সন্তানদের বাড়িতে, রাস্তায় এবং শ্রেণিকক্ষে ‘আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ’ বলে সালাম দেওয়ার অভ্যাস করাতে হবে।

৯। প্রতিবেশীর সাথে সদ্ভাব রাখার ব্যাপারে উপদেশ দিতে হবে এবং তাদের কষ্ট দেওয়া থেকেও তাদেরকে বিরত রাখতে হবে।

১০। বাচ্চাদের এমন অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা মেহমানদের সম্মান করে এবং উত্তমভাবে তাদের মেহমানদারী করে।