hadith book logo

সোনামনিদের হাদীস শিক্ষা আসর-১

লেখকঃ আলী হাসান তৈয়ব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

প্রতিবেশিকে কষ্ট দিও না

আবূ শুরাইহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ» قِيلَ : وَمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ : «الَّذِي لاَ يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَايِقَهُ»

‘আল্লাহর শপথ সে মুমিন নয়, আল্লাহর শপথ সে মুমিন নয়, আল্লাহর শপথ সে মুমিন নয়। জিজ্ঞেস করা হলো হে আল্লাহর রাসূল কে মুমিন নয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশি নিরাপদ নয়’। [বুখারী : ৬০১৬]

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ»

‘ওই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার প্রতিবেশি তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ নয়’। [মুসলিম : ৪৬]

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা : মানুষ সামাজিক জীব। সমাজ থেকে দূরে গিয়ে মানুষ বেশি দিন টিকতে পারে না। পরিবারের বাইরে যারা আমাদের পাশাপাশি বসবাস করেন তারাই আমার প্রতিবেশি। আমাদের বাড়ির আশপাশের লোকজন, বিদ্যালয়ের সহপাঠীরা, মাঠে খেলার সাথীরাও এর অন্তর্ভুক্ত। এদের কাউকে আমরা কষ্ট দিতে পারি না। মুমিন তথা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে হলে আমাদের অবশ্যই চারপাশের লোকজনকে কষ্ট দেয়ার মতো কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।

তোমার হাত থেকে পড়ে গিয়ে হয়তো কাঁচের আয়না বা ওষুধের বোতল ভেঙ্গে গেল, অমনি তুমি আম্মুর বকুনির ভয়ে জানালা দিয়ে পাশের রাস্তায় ভাঙ্গা কাঁচগুলো ফেলে দিলে। কিংবা আব্বু তোমার জন্য কলা আনলেন, তুমি সে কলা খেয়ে বেখেয়ালে তার ছাল ফেলে দিলে পাশের বাড়ির লোকদের চলার পথে। বুঝতেই পারছ এতে করে কী হতে পারে। পাশের বাড়ির বুড়ো নানু নামাজ পড়তে যাবার সময় ওই কলার ছালে পা পিছলে ধপাস করে পড়ে যাবেন। নয়তো ও বাড়ির খালাম্মার পায়ে বিঁধবে ওই ভাঙ্গা কাঁচ। তাঁর পা কেটে রক্ত বেরিয়ে সেই লঙ্কাকাণ্ড বেঁধে যাবে। কতই না কষ্ট পাবেন তারা!?

আর বিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে কিংবা বিকেলে মাঠে খেলতে গিয়েও আমরা মানুষকে কষ্ট দিয়ে বসি। দুষ্টুমি করে হয়তো একজনের কলম বা পেন্সিল নিলে কিংবা সহপাঠীর জুতো নিয়ে গেলে বাথরুমে। এদিকে বেচারা তো খুঁজে পেরেশান। আম্মুর বকুনির ভয়ে অস্থির। অথবা মাঠে গিয়ে লক্ষ্য না করে বাবার সঙ্গে হাঁটি হাঁটি পা পা করে চলতে থাকা বাচ্চাটিকে দিলে জোরসে বল মেরে। চিৎকার করে ও কান্না জুড়ে দিল। এতে করে শুধু ওই বাবুটিই নয়; তার মা-বাবাও কষ্ট পেতে পারেন। এভাবেই আমরা অবচেতনে প্রতিবেশিদের কষ্ট দিয়ে ফেলি।

আমাদের প্রিয় নবীজী বলেছেন মানুষকে কষ্ট দেবার মতো সব কাজ বাদ দিতে। মানুষকে কষ্ট দেবার মতো কিছু না করতে বা বলতে। হ্যা, শুধু কাজ দিয়েই নয়; মুখের কথা দিয়েও মানুষকে কষ্ট দিয়ে ফেলি আমরা। যেমন ধরো, মাঠে ক্রিকেট বা ফুটবল খেলতে গিয়ে তোমারই মতো আরেক ছেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গেল, সে কিন্তু ইচ্ছে করে এমন করেনি। এখন তুমি যদি প্রতিশোধ হিসেবে তাকে একটা ধাক্কা দাও তাহলে সে যেমন কষ্ট পাবে, তেমনি তাকে একটা অভদ্র ভাষায় বকা দিলেও সে মনে কষ্ট নেবে। অতএব এমন টুকিটাকি বিষয়ে ধৈর্য ধরাই হবে উত্তম। মানুষকে কটু কথা একদমই বলা যাবে না।