hadith book logo

বৈধ অবৈধের মানদণ্ডে পবিত্র মক্কার বিভিন্ন স্থানসমূহের সম্মাননা

লেখকঃ শাইখ সা‘দ ইবন আলী আশ-শাহরানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক, আর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত নবীর প্রতি, তাঁর পরিবারের প্রতি এবং তাঁর সাহাবাগণের প্রতি।

অতঃপর, আল্লাহ্ তা‘আলা যা ইচ্ছা তা তিনি সৃষ্টি করেন এবং বাছাই করেন। আর তিনি যা বাছাই করেছেন তাতে রয়েছে তাঁর পরিপূর্ণ হিকমতের পরিচয়। মক্কা মোকাররামাকে তিনি তাঁর মহিমান্বিত শহরে পরিণত করেছেন এবং তাঁর আদি গৃহের অবস্থান স্থল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, এই শহরকে সম্মানিত করেছেন বিশেষ বৈশিষ্ট্য, ফযিলত ও বিধি-বিধান দ্বারা, যার মাধ্যমে এই শহর পৃথিবীর অনান্য শহরের চেয়ে অদ্বিতীয় হয়ে আছে, এটি বরকতময় নগরী, ওহী অবতীর্ণের স্থল, রিসালাতের ভূমি, এই শহরের ফযিলত জ্ঞাত, আর এ ব্যাপারে দলীল প্রমাণ প্রসিদ্ধ এবং অসংখ্য। নিশ্চয়ই আল্লাহ মক্কা মোকাররামাকে কিছু ফযিলতপূর্ণ স্থানের এবং পবিত্র ও স্পষ্ট নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যময় করেছেন আর আমাদের জন্য সেখানে কিছু ইবাদতকে বিধিসম্মত করেছেন, যার মাধ্যমে আমরা তাঁর নৈকট্য লাভ করব। আমি এই প্রবন্ধে এই সম্মানিত স্থানসমূহের ফযিলত নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হয়েছি, আল্লাহর এই মহিমান্বিত শহরে হাজী, ওমরাকারী ও যিয়ারতকারীগণকে আহ্বান করার জন্য যে, তারা যেন আরো অধিক প্রচেষ্টা চালায় আল্লাহর ইবাদত এবং নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে; যাতে করে অসংখ্য ছাওয়াব হাসিল করতে পারে। পক্ষান্তরে অন্যান্য স্থানে যে সমস্ত বিদ‘আত ও শির্ক করা হয়, যার ফযিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো সহীহ হাদীস প্রমাণিত নয়, তা থেকে সতর্ক করা যায়।

নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ স্থানসমূহকে সম্মান করা থেকে বৈধ স্থানসমূহকে সম্মান করাই মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে। যে ব্যক্তি নিজেকে বৈধ ইবাদতে ব্যস্ত রাখল তা তাকে সমস্ত বিদ‘আতী তরীকা থেকে যথেষ্ট করবে; বরং সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যে সমস্ত স্থানকে সম্মানিত করেছেন সেখানে এমন স্বাদ, স্বাভাবিকতা এবং বরকত হাসিল করবে যা অন্যত্র পাবে না। অতএব সুন্নাতের মাঝে নিজেকে অটল রাখা বিদ‘আতে কঠোর সাধনা করা থেকে উত্তম।

আমি আমার হজ্জ এবং ওমরাকারী সে সব মুসলিম ভাই যারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই মহিমান্বিত শহরে এসেছেন, যাদের অন্তরসমূহ এই আদি গৃহের প্রতি আগ্রহী হয়ে আছে, তাদেরকে আহ্বান জানাই তারা যেন তাদের সময়কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের অনুসরণের মাধ্যমে কাজে লাগান এবং তারা যেন নিজেদেরকে এমন কষ্ট না দেয় যা আল্লাহ্ তাদের উপর চাপিয়ে দেন নি এবং তারা যেন সতর্ক থাকে বিদ‘আতে লিপ্ত হওয়া থেকে। আর তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করবে ঐ বিধান মোতাবেক যা আল্লাহ তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। বস্তুত হেদায়েত ও সাহায্য করার জন্য তোমার রবই যথেষ্ট।

নিবেদক

সা‘দ ইবন আলী আশ শাহরানী।