hadith book logo

সমুদ্র নি‘আমতের অফুরান ভাণ্ডার

লেখকঃ আলী হাসান তৈয়ব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

সাগর নিয়ে গবেষণা

সাগর সৈকতে জোয়ার ভাটায় যা চোখে পড়ে তাতে জ্ঞানীদের মনে অনেক ভাবনার উদ্রেক হয়। ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে যখন লবণাক্ত পানির গতি সামনে বাড়ে তখন মানুষের মনের আতংক বেড়ে যায়। সমুদ্রে জোয়ার-ভাটা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষ ক্ষণে ধনী আবার ক্ষণে গরীব হতে পারে। মৃত্যুর ভয়ে যেমন আমরা ভীত তেমনি এ সাগরের জোয়ার মানুষকে যেন সব কেড়ে নেয়ার ভয় দেখায়। ভাটায় যখন পানি শুকিয়ে যায় তখন মানুষের দারিদ্র্য ও বার্ধক্যের চিত্র ভেসে ওঠে। আকাশের চাঁদের অমাবস্যার পূর্ণিমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাগরে আসে জোয়ার-ভাটা। জেলেরা সাগরের জোয়ারে ধরে তাজা ইলিশ মাছ। চিংড়ির পোনা শিকার করে একদল মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। আসলে সাগর হলো বৈচিত্র্য ও বিস্ময়ের অফুরন্ত উৎস। সাগর নিয়ে মানুষ যত জানছে, যত গবেষণা করছে, নিত্য-নতুন চমকপ্রদ সব তথ্য আবিষ্কৃত হচ্ছে। আল্লাহর মানুষের যে অফুরান কল্যাণের ভাণ্ডার সুপ্ত রেখেছেন সাগরে, গ্যাসসহ বহুবিধ খনিজ সম্পদ মজুদ রেখেছেন সাগরবুকে, তা গবেষণা ও আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ তথা মানবতা উপকৃত হবে। তাই কল্যাণের ধর্ম ইসলামে সাগর নিয়ে চিন্তা-গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿أَلَمۡ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَٱلۡفُلۡكَ تَجۡرِي فِي ٱلۡبَحۡرِ بِأَمۡرِهِۦ وَيُمۡسِكُ ٱلسَّمَآءَ أَن تَقَعَ عَلَى ٱلۡأَرۡضِ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِٱلنَّاسِ لَرَءُوفٞ رَّحِيمٞ ٦٥﴾ [ الحج : ٦٥ ]

“তুমি কি দেখ না যে, ভূপৃষ্ঠে যা আছে এবং সমুদ্রে চলমান নৌকা তৎসমুদয়কে আল্লাহ নিজ আদেশে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন এবং তিনি আকাশ স্থির রাখেন, যাতে তার আদেশ ব্যতীত ভূপৃষ্ঠে পতিত না হয়। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি করুণাশীল, দয়াবান।” [সূরা আল-হজ, আয়াত: ৬৫]

বিশ্বাসী চিন্তানায়ক ও ধর্মতাত্ত্বিকরা সব সময়ই বলেন আল্লাহর পরিচয় জানতে সাগর ভ্রমণে অশেষ উপকারিতার কথা। মহান স্রষ্টা আল্লাহর অতুলনীয় সৃষ্টিকুশলতার বিন্দুমাত্র মানুষ উপলব্ধি করতে পারে সমুদ্রের বুকে গিয়ে। আমরা তো দয়ালু ও দাতা আল্লাহকে চেনার মতো চিনতে কসুর করি, আল্লাহর অসীমতা উপলব্ধি করে তাঁর নির্দেশানুযায়ী জীবন পরিচালনায় ত্রুটি করি। এক্ষেত্রে সুবিস্তৃত আকাশ, সুউচ্চ পর্বত ও সুবিশাল সাগর প্রত্যক্ষলব্ধ জ্ঞানই পারে মানুষকে মহান আল্লাহর কুদরতের বাস্তব উপলব্ধি এনে দিতে। সাগরের বুকে ঘুরতে গিয়ে দিগন্তহীন অথৈ জলরাশির বিশাল তরঙ্গমালায় কেউ যখন মৃত্যুর খুব কাছে নিজেকে আবিষ্কার করে, তখনই সত্যিকার উপলব্ধি করে আল্লাহর অসীমতার অর্থ কী আর সৃষ্টির ক্ষুদ্রতা ও সীমাবদ্ধতার বাস্তবতা কী। এ জন্যই আল্লাহর নির্দেশ,

﴿قُلۡ سِيرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَٱنظُرُواْ كَيۡفَ بَدَأَ ٱلۡخَلۡقَۚ ثُمَّ ٱللَّهُ يُنشِئُ ٱلنَّشۡأَةَ ٱلۡأٓخِرَةَۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ ٢٠﴾ [ العنكبوت : ٢٠ ]

“বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখ, কীভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন। অতঃপর আল্লাহ পুনর্বার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।” [সূরা আল-‘আনকাবূত, আয়াত: ২০]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿إِنَّ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَٱخۡتِلَٰفِ ٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ وَٱلۡفُلۡكِ ٱلَّتِي تَجۡرِي فِي ٱلۡبَحۡرِ بِمَا يَنفَعُ ٱلنَّاسَ وَمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مِن مَّآءٖ فَأَحۡيَا بِهِ ٱلۡأَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَآبَّةٖ وَتَصۡرِيفِ ٱلرِّيَٰحِ وَٱلسَّحَابِ ٱلۡمُسَخَّرِ بَيۡنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يَعۡقِلُونَ ١٦٤﴾ [ البقرة : ١٦٤ ]

“নিশ্চয়ই আসমান ও যমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাগুলোর চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ আকাশ থেকে যে পানি অবতীর্ণ করেছেন, তা দ্বারা মৃত জমিনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সব রকম জীব-জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তারই হুকুমের অধীনে আসমান ও জমিনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সেসব বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৪]