hadith book logo

সমুদ্র নি‘আমতের অফুরান ভাণ্ডার

লেখকঃ আলী হাসান তৈয়ব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

সাগরে প্রাণবৈচিত্র্য

আল্লাহর সৃষ্টি অপার রহস্যের আধার এই সাগর। সাগরের সব জায়গায় বিচরণ করার সামর্থ্য মানুষের হয় নি এখনও। ইচ্ছে করলেই মানুষ যখন তখন পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এভারেস্টে উঠছে; কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও সাগরের সর্বনিম্ন স্থানে মানুষ পৌঁছাতে পারছে না। সাগরের সবচেয়ে গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চের ‘চ্যালেঞ্জার ডিপ’। গভীরতা ১০৯৯৪ মিটার (৩৬০৭০ ফুট)। হিমালয় পর্বতকে (২৯০২৮ ফুট) অনায়াসে লুকিয়ে রাখা যাবে এখানে। আর সাগরে ব্যপ্তি ও প্রসারতার পরিমাণ এখনো অপরিমেয়। সুবিশাল গভীর সমুদ্রে কত জাতের, কত বর্ণের, কত আকারের কত রকম প্রাণী যে বিদ্যমান তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।

আমাদের বঙ্গোপসাগর কোনো সাগর নয়, মহাসাগর তো নয়ই। সামান্য এ বঙ্গোপসাগরেই কত প্রাণবৈচিত্র্য বিদ্যমান। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন্সের আশপাশের সমুদ্রে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় ১৯৯৭-৯৮ সালে একটি জরিপ করে। জরিপে ৫৮ প্রজাতির জীবিত এবং ২১ প্রজাতির মৃত প্রবাল, ১০১ প্রজাতির ঝিনুক এবং শামুক পাওয়া যায়। সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে প্রচুর শামুক এবং ঝিনুক পাওয়া যায়। শামুক এবং ঝিনুক প্রধানত জলজ প্রাণী। এদের বেশির ভাগই সামুদ্রিক তবে কিছু স্বাদু পানিতে এবং কিছু স্থলেও পাওয়া যায়। এরা খুব আস্তে চলাফেরা করে। চলার সময় হামাগুড়ি দিয়ে চলে, আবার গর্তে লুকায়, কখনও সাঁতার কাটে। তাদের পা এ তিন কাজের উপযোগী করেই তৈরি। পরিবেশ রক্ষায় ঝিনুকেরও অবদান আছে। জীব বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঝিনুক নিয়ে গঠিত। সামুদ্রিক খাদ্যচক্রকে সচল রাখতে ঝিনুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা মৃত জৈব বস্তু খেয়ে জলজ পরিবেশের স্বচ্ছতা বাড়ায়। শামুক এবং ঝিনুক সামুদ্রিক কচ্ছপ ও বিভিন্ন প্রকার মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাগরের মণিমুক্তা ও প্রবালকে আল্লাহর নি‘আমত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সূরা রাহমানেও। আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন বলেন,

﴿ مَرَجَ ٱلۡبَحۡرَيۡنِ يَلۡتَقِيَانِ ١٩ بَيۡنَهُمَا بَرۡزَخٞ لَّا يَبۡغِيَانِ ٢٠ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٢١ يَخۡرُجُ مِنۡهُمَا ٱللُّؤۡلُؤُ وَٱلۡمَرۡجَانُ ٢٢ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٢٣ ﴾ [ الرحمن : ١٩، ٢٣ ]

‘তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন। উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরায়, যা তারা অতিক্রম করে না। সুতরাং তোমাদের রবের কোন নি‘আমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? উভয় সমুদ্র থেকে উৎপন্ন হয় মণিমুক্তা ও প্রবাল। সুতরাং তোমাদের রবের কোন নি‘আমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে?” [সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ১৯-২৫]