মুয়াত্তা ইমাম মালিক
১৫. কুরআন
موطأ مالك
১৫/১ পরিচ্ছেদঃ
কুরআন স্পর্শ করার জন্য ওযূর নির্দেশ
৪৫৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي كَتَبَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنْ لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ ৬৮১-قَالَ مَالِك وَلَا يَحْمِلُ أَحَدٌ الْمُصْحَفَ بِعِلَاقَتِهِ وَلَا عَلَى وِسَادَةٍ إِلَّا وَهُوَ طَاهِرٌ وَلَوْ جَازَ ذَلِكَ لَحُمِلَ فِي خَبِيئَتِهِ وَلَمْ يُكْرَهْ ذَلِكَ لِأَنْ يَكُونَ فِي يَدَيْ الَّذِي يَحْمِلُهُ شَيْءٌ يُدَنِّسُ بِهِ الْمُصْحَفَ وَلَكِنْ إِنَّمَا كُرِهَ ذَلِكَ لِمَنْ يَحْمِلُهُ وَهُوَ غَيْرُ طَاهِرٍ إِكْرَامًا لِلْقُرْآنِ وَتَعْظِيمًا لَهُ ৬৮২قَالَ مَالِك أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي هَذِهِ الْآيَةِ { لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ } إِنَّمَا هِيَ بِمَنْزِلَةِ هَذِهِ الْآيَةِ الَّتِي فِي عَبَسَ وَتَوَلَّى قَوْلُ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءَ ذَكَرَهُ فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ بِأَيْدِي سَفَرَةٍ كِرَامٍ بَرَرَةٍ }.
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর ইবনু হাযম (র)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আমর ইবনু হাযমের কাছে যে পত্র লিখেছিলেন তাতে এটাও লিখিত ছিল যে, পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কুরআনকে যেন কেউ স্পর্শ না করে। (‘আমর বিন হাযেম (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি ইমাম হাকেম বর্ণনা করেছেন। ১/৫৫২, বাইহাকী, কুবরা ১/৮৭, হাদীসটি আল্লামা আলবানী সহীহ বলেছেন [ইরওয়া ১২২])
ইয়াহইয়া (র) বলেন, মালিক (র) বলেছেন, কুরআন শরীফকে জুয্বদান-এর ফিতা ধরে অথবা বালিশের উপর রেখে যেন উত্তোলন না করে, তবে পবিত্রতাবস্থায়।
যদি তা (ফিতা ধরে এবং বালিশের উপর কুরআন রেখে ওযূ ছাড়া স্পর্শ করা) যায়েজ হত, তবে জিলদকেও পবিত্রতা ছাড়া স্পর্শ করা যেত। আর এটা এই কারণে মাকরূহ করা হয়নি যে, যে ব্যক্তি কুরআন উঠাচ্ছে তার হাতে এমন কোন জিনিস আছে যাদ্বারা’ এটা অপরিষ্কার হয়ে যাবে। অপবিত্র অবস্থায় উহা উঠান মাকরূহ, এই হুকুম করা হয়েছে কুরআন শরীফের তাযীম ও সম্মানার্থে।
ইয়াহইয়া (র) বলেন, মালিক (র) বলেছেন [১] , لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে সর্বোত্তম যা আমি শুনেছি তা হল যেরূপ সূরা ‘আবাসা’তে ইরশাদ করা হয়েছে
كَلاَّ اِنَّهَا تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءِ ذَكَرَهُ فِى صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ .
এই প্রকার আচরণ অনুচিত, ইহা উপদেশবাণী; যে ইচ্ছা করবে সে ইহা স্মরণ রাখিবে। উহা আছে মহান উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন পবিত্র গ্রন্থে, মহান, পুতচরিত্র লিপিকারদের হস্তে। (৮০/১১-১৫)
ইয়াহইয়া (র) বলেন, মালিক (র) বলেছেন, কুরআন শরীফকে জুয্বদান-এর ফিতা ধরে অথবা বালিশের উপর রেখে যেন উত্তোলন না করে, তবে পবিত্রতাবস্থায়।
যদি তা (ফিতা ধরে এবং বালিশের উপর কুরআন রেখে ওযূ ছাড়া স্পর্শ করা) যায়েজ হত, তবে জিলদকেও পবিত্রতা ছাড়া স্পর্শ করা যেত। আর এটা এই কারণে মাকরূহ করা হয়নি যে, যে ব্যক্তি কুরআন উঠাচ্ছে তার হাতে এমন কোন জিনিস আছে যাদ্বারা’ এটা অপরিষ্কার হয়ে যাবে। অপবিত্র অবস্থায় উহা উঠান মাকরূহ, এই হুকুম করা হয়েছে কুরআন শরীফের তাযীম ও সম্মানার্থে।
ইয়াহইয়া (র) বলেন, মালিক (র) বলেছেন [১] , لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে সর্বোত্তম যা আমি শুনেছি তা হল যেরূপ সূরা ‘আবাসা’তে ইরশাদ করা হয়েছে
كَلاَّ اِنَّهَا تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءِ ذَكَرَهُ فِى صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ .
এই প্রকার আচরণ অনুচিত, ইহা উপদেশবাণী; যে ইচ্ছা করবে সে ইহা স্মরণ রাখিবে। উহা আছে মহান উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন পবিত্র গ্রন্থে, মহান, পুতচরিত্র লিপিকারদের হস্তে। (৮০/১১-১৫)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] যারা পুত-পবিত্র তারা ব্যতীত অন্য কেহ তা স্পর্শ করে না। (সূরা: ওযাক্বি‘য়াহ, ৭৯)
১৫/২ পরিচ্ছেদঃ
ওযূ ব্যতীত কুরআন পাঠে অনুমতি
৪৫৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي تَمِيمَةَ السَّخْتِيَانِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ فِي قَوْمٍ وَهُمْ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ فَذَهَبَ لِحَاجَتِهِ ثُمَّ رَجَعَ وَهُوَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَتَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَلَسْتَ عَلَى وُضُوءٍ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ مَنْ أَفْتَاكَ بِهَذَا أَمُسَيْلِمَةُ.
এক সময় উমার (রা)থেকে বর্ণিতঃ
এমন এক সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিলেন, যারা কুরআন পাঠ করতেছিলেন, (ইতিমধ্যে) তিনি প্রস্রাব-পায়খানার আবশ্যকে গমন করলেন, পুনরায় প্রত্যাবর্তন করলেন এবং কুরআন পাঠ করতে শুরু করলেন। (এটা দেখে) এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, হে আমিরুল মু’মিনীন! আপনি (কুরআন) পাঠ করতেছেন অথচ আপনি বে-ওযূ। তখন উমার (রা) বললেন এইরূপ ফত্ওয়া কে দিয়েছে? মুসায়লামা কি? (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
১৫/৩ পরিচ্ছেদঃ
তাহযিবুল কুরআন
৪৫৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ، مَنْ فَاتَهُ حِزْبُهُ مِنْ اللَّيْلِ فَقَرَأَهُ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ إِلَى صَلَاةِ الظُّهْرِ فَإِنَّهُ لَمْ يَفُتْهُ أَوْ كَأَنَّهُ أَدْرَكَهُ.
আবদুর রহমান ইবনু আবদিল কারী (র)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বলেন, যার রাত্রের (নির্দিষ্ট তিলাওয়াতের) অংশ ছুটে যায়, সে উহা যোহরের নামাযের পূর্ব পর্যন্ত (সময়ে) পড়ে নিবে; তবে তার সে ওযীফা যেন ছুটেনি (রাবী বলেন) অথবা তিনি বলেছেন, যেন তা পূর্ণ করেছে। (সহীহ, মুসলিম ৭৪৭)
৪৫৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ أَنَا وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ جَالِسَيْنِ فَدَعَا مُحَمَّدٌ رَجُلًا فَقَالَ أَخْبِرْنِي بِالَّذِي سَمِعْتَ مِنْ أَبِيكَ فَقَالَ الرَّجُلُ أَخْبَرَنِي أَبِي أَنَّهُ أَتَى زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ فَقَالَ لَهُ كَيْفَ تَرَى فِي قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فِي سَبْعٍ فَقَالَ زَيْدٌ حَسَنٌ وَلَأَنْ أَقْرَأَهُ فِي نِصْفٍ أَوْ عَشْرٍ أَحَبُّ إِلَيَّ وَسَلْنِي لِمَ ذَاكَ قَالَ فَإِنِّي أَسْأَلُكَ قَالَ زَيْدٌ لِكَيْ أَتَدَبَّرَهُ وَأَقِفَ عَلَيْهِ.
ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (র)থেকে বর্ণিতঃ
আমি ও মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাব্বান (র) (এক জায়গায়) বসা ছিলাম। তারপর মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া এক ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং বললেন, আপনার পিতা হতে যা শুনেছেন তা আমার কাছে বলুন। সে ব্যক্তি বললেন, আমাকে আমার পিতা বলেছেন তিনি একবার যায়দ ইবনু সাবিত (রা)-এর কাছে গেলেন; তারপর তাঁকে বললেন, সাত দিনে কুরআন পাঠ (খতম) করা সম্বন্ধে আপনি কি মনে করেন? (উত্তরে) যায়দ (রা) বললেন, ভাল। কিন্তু পনর অথবা বিশ দিনে পাঠ (শেষ) করা আমার কাছে অতি পছন্দনীয়। আর তুমি এর কারণ কি জানতে চাইলে শোন (তিনি বললেন), এটা এজন্য যে, (কুরআনকে) থেমে থেমে পড়লে আমি কুরআনের মর্ম বোঝার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করতে পারব। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
১৫/৪ পরিচ্ছেদঃ
কুরআন সম্পর্কীয় বর্ণনা
৪৬০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا مَثَلُ صَاحِبِ الْقُرْآنِ كَمَثَلِ صَاحِبِ الْإِبِلِ الْمُعَقَّلَةِ إِنْ عَاهَدَ عَلَيْهَا أَمْسَكَهَا وَإِنْ أَطْلَقَهَا ذَهَبَتْ.
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআনওয়ালা রশিতে বাঁধা উটওয়ালার মত; যদি উহাকে তদারক করে, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে; আর যদি উহাকে ছেড়ে দেয়, তবে উহা চেপে যাবে। (বুখারী ৫০৩১, মুসলিম ৭৮৯)
৪৬২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ أُنْزِلَتْ عَبَسَ وَتَوَلَّى فِي عَبْدِ اللهِ بْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ يَقُولُ يَا مُحَمَّدُ اسْتَدْنِينِي وَعِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ مِنْ عُظَمَاءِ الْمُشْرِكِينَ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْرِضُ عَنْهُ وَيُقْبِلُ عَلَى الْآخَرِ وَيَقُولُ يَا أَبَا فُلَانٍ هَلْ تَرَى بِمَا أَقُولُ بَأْسًا فَيَقُولُ لَا وَالدِّمَاءِ مَا أَرَى بِمَا تَقُولُ بَأْسًا فَأُنْزِلَتْ عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى.
হিশাম ইবনু উরওয়াহ (র) তারথেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, عَبَسَ وَتَوَلَّى অবতীর্ণ করা হয়েছে আবদুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতুম (রা)-এর শানে। তিনি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলতে লাগলেনঃ হে মুহাম্মদ! আমাকে আপনার কাছে বসতে দিন, সে সময় নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মুশরিকগণের নেতাদের একজন বড় নেতা উপস্থিত ছিল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হতে মনোযোগ ফিরিয়ে সে নেতা ব্যক্তির দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বলছিলেন হে আবূ ফুলান (অমুকের পিতা), আমি যা বলি তাতে কোন ত্রুটি দেখেছ কি? (উত্তরে) সে বলছিলঃ মূর্তির কসম, না, আপনি যা বলেন তাতে কোন প্রকার ত্রুটি দেখছি না। অতঃপর এই সূরা [১] عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى অবতীর্ণ হয়। (সহীহ, মুত্তাসিল, ইমাম তিরমিযী আয়েশা (রা) কর্তৃক হাদীসটি মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেছেন [তিরমিযী ৩৩৩১] আলবানী (রহ) হাদীসটি সহীহ বলেছেন)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] সে ভ্রুকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল; কারণ তার কাছে এক অন্ধ এল। (সূরা: আবাসা, ১-২)
[২] আমরা তোমাদের জন্য অবধারিত করলাম প্রকাশ্য বিজয়। (ফাতহ, ১)
[২] আমরা তোমাদের জন্য অবধারিত করলাম প্রকাশ্য বিজয়। (ফাতহ, ১)