মুয়াত্তা ইমাম মালিক
২০. হজ্জ
موطأ مالك
২০/১ পরিচ্ছেদঃ
ইহরামকালীন গোসল
৬৯৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ عُمَيْسٍ وَلَدَتْ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَأَمَرَهَا أَبُو بَكْرٍ أَنْ تَغْتَسِلَ ثُمَّ تُهِلَّ.
সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র)থেকে বর্ণিতঃ
জুল-হুলায়ফা নামক স্থানে আসমা বিনত উমাইসের গর্ভে আবূ বক্র (রা)-এর পুত্র মুহাম্মদের জন্ম হয়। আবূ বক্র (রা) তখন আসমাকে গোসল করে ইহরাম বেঁধে নিতে নির্দেশ দেন। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] আসমা বিনত উমাইস (রা) আবূ বাকর (রা)-এর স্ত্রী ছিলেন। তাঁর গর্ভে আবূ বাকর (রা)-এর পুত্র মুহাম্মদের জন্ম হয়। তখন তাঁরা হজ্জের উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে রওয়ানা হয়েছিলেন। অন্য এক বর্ণনায় দেখা যায় জুল-হুলায়ফা নামক স্থানে উক্ত ঘটনাটি ঘটেছিল। উভয় স্থানই মদীনার নিকটবর্তী। এই হাদীসটি দ্বারা বোঝা যায় ঋতুমতী ও নিফাসওয়ালী মহিলাগণ ইহরাম বাঁধতে পারেন।
৬৯৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَغْتَسِلُ لِإِحْرَامِهِ قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ وَلِدُخُولِهِ مَكَّةَ وَلِوُقُوفِهِ عَشِيَّةَ عَرَفَةَ.
নাফি’ (র)থেকে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) ইহরাম বাঁধার উদ্দেশ্যে গোসল করতেন। মক্কায় প্রবেশের পূর্বে এবং যিলহজ্জ মাসের নবম তারিখে আরাফাতে অবস্থানের জন্যও গোসল করতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
৬৯৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ أَنَّهَا وَلَدَتْ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ بِالْبَيْدَاءِ فَذَكَرَ ذَلِكَ أَبُو بَكْرٍ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مُرْهَا فَلْتَغْتَسِلْ ثُمَّ لِتُهِلَّ.
আসমা বিনত উমাইস (রা)থেকে বর্ণিতঃ
বায়দা নামক স্থানে মুহাম্মদ ইবনু আবূ বক্র (রা)-এর জন্ম হয়। আবূ বক্র সিদ্দীক (রা) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আসমাকে বলে দিন সে যেন গোসল করে ইহরাম বেঁধে নেয়। (সহীহ, মুসলিম ১২০৯)
২০/২ পরিচ্ছেদঃ
মুহরিমের গোসল
৬৯৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا دَنَا مِنْ مَكَّةَ بَاتَ بِذِي طُوًى بَيْنَ الثَّنِيَّتَيْنِ حَتَّى يُصْبِحَ ثُمَّ يُصَلِّي الصُّبْحَ ثُمَّ يَدْخُلُ مِنْ الثَّنِيَّةِ الَّتِي بِأَعْلَى مَكَّةَ وَلَا يَدْخُلُ إِذَا خَرَجَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا حَتَّى يَغْتَسِلَ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ مَكَّةَ إِذَا دَنَا مِنْ مَكَّةَ بِذِي طُوًى وَيَأْمُرُ مَنْ مَعَهُ فَيَغْتَسِلُونَ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلُوْا.
নাফি’ (র)থেকে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) যখন মক্কার নিকটবর্তী হতেন তখন দুই গিরিপথের মধ্যবর্তী যি-তুওয়া নামক স্থানে রাত্রিযাপন করতেন। পরে ফজরেই নামাযের পর উপরের গিরিপথ বেয়ে মক্কায় প্রবেশ করতেন। আর হজ্জ বা উমরার উদ্দেশ্যে আসলে যি-তুওয়ায় গোসল না করে সেখানে প্রবেশ করতেন না। সঙ্গীগণকে মক্কা প্রবেশের পূর্বে গোসল করতে তিনি নির্দেশ দিতেন। (সহীহ, বুখারী ১৫৭৩)
৬৯৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ حُمَيْدِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ لِيَعْلَى بْنِ مُنْيَةَ وَهُوَ يَصُبُّ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ مَاءً وَهُوَ يَغْتَسِلُ اصْبُبْ عَلَى رَأْسِيْ فَقَالَ يَعْلَى أَتُرِيدُ أَنْ تَجْعَلَهَا بِي إِنْ أَمَرْتَنِي صَبَبْتُ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ اصْبُبْ فَلَنْ يَزِيدَهُ الْمَاءُ إِلَّا شَعَثًا.
‘আতা ইবনু আবি রাবাহ (র)থেকে বর্ণিতঃ
নিশ্চয় উমার ইবনু খাত্তাব (রা) গোসল করতেছিলেন এবং ই’য়ালা ইবনু মুনইয়া (র) পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। উমার (রা) ই’য়ালাকে বললেন, আমার মাথায় পানি ঢেলে দাও। তখন তিনি বললেন, আপনি কি আমার দ্বারা এ কাজ করাতে চান ? (অর্থাৎ পানি মাথায় ঢালা সম্পর্কে ই’য়ালার ভিন্নমত ছিল।) যদি হুকুম করেন তবে পানি ঢালতে পারি। উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বললেন, পানি ঢাল, কারণ পানি চুলের রুক্ষতাই বাড়াবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
৬৯৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ لَا يَغْسِلُ رَأْسَهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ إِلَّا مِنْ الْاحْتِلَامِ ১১৫৮-قَالَ مَالِك سَمِعْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ يَقُولُونَ لَا بَأْسَ أَنْ يَغْسِلَ الرَّجُلُ الْمُحْرِمُ رَأْسَهُ بِالْغَسُولِ بَعْدَ أَنْ يَرْمِيَ جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ وَقَبْلَ أَنْ يَحْلِقَ رَأْسَهُ وَذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ فَقَدْ حَلَّ لَهُ قَتْلُ الْقَمْلِ وَحَلْقُ الشَّعْرِ وَإِلْقَاءُ التَّفَثِ وَلُبْسُ الثِّيَابِ.
নাফি’ (র)থেকে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) ইহরামের অবস্থায় মাথা ধুতেন না। তবে স্বপ্নদোষ হলে বাধ্যতামূলক ধুতে হত। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) বলেন, বিজ্ঞ আলিমদের কাছে শুনেছি যে, জমরা-এ-‘আকাবার রমি করার পর মাথা কামাবার পূর্বেই সাবান ইত্যাদি দ্বারা মাথা ধৌত করা যায়। কেননা জমরা-এ-‘আকবার প্রস্তর নিক্ষেপের পর উকুন মারা, মাথা কামানো, ময়লা বিদূরিত করা, কাপড় পরা ইত্যাদি কাজ মুহরিমের জন্য হালাল হয়ে যায়।
মালিক (র) বলেন, বিজ্ঞ আলিমদের কাছে শুনেছি যে, জমরা-এ-‘আকাবার রমি করার পর মাথা কামাবার পূর্বেই সাবান ইত্যাদি দ্বারা মাথা ধৌত করা যায়। কেননা জমরা-এ-‘আকবার প্রস্তর নিক্ষেপের পর উকুন মারা, মাথা কামানো, ময়লা বিদূরিত করা, কাপড় পরা ইত্যাদি কাজ মুহরিমের জন্য হালাল হয়ে যায়।
৬৯৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ حُنَيْنٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ اخْتَلَفَا بِالْأَبْوَاءِ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ يَغْسِلُ الْمُحْرِمُ رَأْسَهُ وَقَالَ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ لَا يَغْسِلُ الْمُحْرِمُ رَأْسَهُ قَالَ فَأَرْسَلَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ إِلَى أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ بَيْنَ الْقَرْنَيْنِ وَهُوَ يُسْتَرُ بِثَوْبٍ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ مَنْ هَذَا فَقُلْتُ أَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ حُنَيْنٍ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ أَسْأَلُكَ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْسِلُ رَأْسَهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ قَالَ فَوَضَعَ أَبُو أَيُّوبَ يَدَهُ عَلَى الثَّوْبِ فَطَأْطَأَهُ حَتَّى بَدَا لِي رَأْسُهُ ثُمَّ قَالَ لِإِنْسَانٍ يَصُبُّ عَلَيْهِ اصْبُبْ فَصَبَّ عَلَى رَأْسِهِ ثُمَّ حَرَّكَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُ.
ইবরাহীম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হুনায়ন (র)থেকে বর্ণিতঃ
ইবরাহীম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হুনায়ন (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) এবং মিসওয়ার ইবনু মাখরামার মধ্যে ‘আবওয়া’ নামক স্থানে বিতর্ক হয়। ইবনু আব্বাস (রা)-এর অভিমত ছিল মুহরিম অর্থাৎ ইহরামরত ব্যক্তি মাথা ধুতে পারে আর মিসওয়ারের অভিমত ছিল যে, মুহ্রিম মাথা ধুতে পারে না।
আবদুল্লাহ্ ইবনু হুনায়ন বলেন, শেষে আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা) আমাকে এই বিষয়ের মীমাংসার জন্য আবূ আইয়ূব আনসারী (রা)-এর কাছে প্রেরণ করেন। তখন তিনি একটি কুয়ার ধারে পর্দা টাঙ্গিয়ে গোসল করতেছিলেন। আমি পর্দার বাহির হতে তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, কে ? আমি বললাম আবদুল্লাহ্ ইবনু হুনায়ন। আমাকে আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা) পাঠিয়েছেন, ইহরাম অবস্থায় রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিভাবে মাথা ধুতেন তা জানবার জন্য। আবূ আইয়ূব (রা) মাথায় হাত রেখে মাথার কাপড় সরিয়ে দিলেন, আমি তাঁর মাথাটি তখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। যে ব্যক্তি তাঁর গায়ে পানি ঢালতেছিল তাকে বললেন, পানি ঢাল। ঐ ব্যক্তি তাঁর মাথায় পানি ঢালতে লাগল আর তিনি তাঁর দুই হাত মাথার সামনে এবং পিছনে মর্দন করে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এইরূপ করতে দেখেছি। (বুখারী ১৮৪০, মুসলিম ১২০৫)
আবদুল্লাহ্ ইবনু হুনায়ন বলেন, শেষে আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা) আমাকে এই বিষয়ের মীমাংসার জন্য আবূ আইয়ূব আনসারী (রা)-এর কাছে প্রেরণ করেন। তখন তিনি একটি কুয়ার ধারে পর্দা টাঙ্গিয়ে গোসল করতেছিলেন। আমি পর্দার বাহির হতে তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, কে ? আমি বললাম আবদুল্লাহ্ ইবনু হুনায়ন। আমাকে আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা) পাঠিয়েছেন, ইহরাম অবস্থায় রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিভাবে মাথা ধুতেন তা জানবার জন্য। আবূ আইয়ূব (রা) মাথায় হাত রেখে মাথার কাপড় সরিয়ে দিলেন, আমি তাঁর মাথাটি তখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। যে ব্যক্তি তাঁর গায়ে পানি ঢালতেছিল তাকে বললেন, পানি ঢাল। ঐ ব্যক্তি তাঁর মাথায় পানি ঢালতে লাগল আর তিনি তাঁর দুই হাত মাথার সামনে এবং পিছনে মর্দন করে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এইরূপ করতে দেখেছি। (বুখারী ১৮৪০, মুসলিম ১২০৫)
২০/৩ পরিচ্ছেদঃ