মুয়াত্তা ইমাম মালিক
২৩. কুরবানী সম্পর্কিত অধ্যায়
موطأ مالك
২৩/১ পরিচ্ছেদঃ
কি ধরনের পশু কুরবানী করা দুরস্ত নয়
১০১৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ فَيْرُوزٍ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ مَاذَا يُتَّقَى مِنْ الضَّحَايَا فَأَشَارَ بِيَدِهِ وَقَالَ أَرْبَعًا وَكَانَ الْبَرَاءُ يُشِيرُ بِيَدِهِ وَيَقُولُ يَدِي أَقْصَرُ مِنْ يَدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ ظَلْعُهَا وَالْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا وَالْعَجْفَاءُ الَّتِي لَا تُنْقِي.
বারা ইবনু আযিব (রা)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল : কি ধরনের পশু কুরবানী করা উচিত নয়। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন অঙ্গুলি দ্বারা গুণে বললেন : চার ধরনের পশু হতে বিরত থাকা উচিত। বারা ইবনু আযিব (রা) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুকরণে অঙ্গুল গুণে এই হাদীস বর্ণনা করতেন। বলতেন : আমার হাত রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত হতে ছোট। এমন খোঁড়া যা হাঁটতে অক্ষম। এমন কানা যা সকলেই ধরতে পারে। স্পষ্ট রোগা। এমন কৃশ যার হাড্ডির মগজ পর্যন্ত শুকিয়ে গিয়েছে। (সহীহ, আবূ দাঊদ ২৮০২, তিরমিযী ১৪৯৭, ইবনু মাজাহ ৩১৪৪, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন [সহীহ আলজামে ৮৮৬])
১০২০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَتَّقِي مِنْ الضَّحَايَا وَالْبُدْنِ الَّتِي لَمْ تُسِنَّ وَالَّتِي نَقَصَ مِنْ خَلْقِهَا قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ.
নাফি’ (র)থেকে বর্ণিতঃ
মুসিন্না [১] নয় বা অঙ্গহীন এমন পশুর কুরবানী করা হতে ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বিরত থাকতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) বলেন: আমি যা শুনেছি তন্মধ্যে এই বিষয়টি আমার অধিক প্রিয়।
মালিক (র) বলেন: আমি যা শুনেছি তন্মধ্যে এই বিষয়টি আমার অধিক প্রিয়।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] যে পশুর দুধ দাঁত পরে গিয়ে সামনে দু’টি দাঁত গজিয়েছে তাকে মুসিন্নাহ্ বলা হয়।
২৩/২ পরিচ্ছেদঃ
কি ধরনের পশু কুরবানী করা মুস্তাহাব
১০২১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ ضَحَّى مَرَّةً بِالْمَدِينَةِ قَالَ نَافِعٌ فَأَمَرَنِي أَنْ أَشْتَرِيَ لَهُ كَبْشًا فَحِيلًا أَقْرَنَ ثُمَّ أَذْبَحَهُ يَوْمَ الْأَضْحَى فِي مُصَلَّى النَّاسِ قَالَ نَافِعٌ فَفَعَلْتُ ثُمَّ حُمِلَ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ فَحَلَقَ رَأْسَهُ حِينَ ذُبِحَ الْكَبْشُ وَكَانَ مَرِيضًا لَمْ يَشْهَدْ الْعِيدَ مَعَ النَّاسِ قَالَ نَافِعٌ وَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ يَقُولُ لَيْسَ حِلَاقُ الرَّأْسِ بِوَاجِبٍ عَلَى مَنْ ضَحَّى وَقَدْ فَعَلَهُ ابْنُ عُمَرَ.
নাফি’ (র)থেকে বর্ণিতঃ
একবার আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রা) মদীনায় কুরবানী করেন। আমাকে বললেন : শিংওয়ালা একটি ছাগল খরিদ করে ঈদুল আযহার দিন ইদগাহে নিয়ে যবেহ কর। আমি তাই করলাম। যবেহকৃত ছাগলটি তাঁর নিকট পাঠিয়ে দেয়া হল। তিনি তখন তাঁর মাথার চুল কাটলেন। সে সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন। ঈদের জামাতে হাজির হতে পারেননি। নাফি’ (র) বলেন : ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রা) বলতেন কুরবানীদাতার উপর মাথা মুন্ডন ওয়াজিব নয়। তবে তিনি নিজে মাথা মুন্ডন করেছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
২৩/৩ পরিচ্ছেদঃ
ঈদের জামাআত হতে ইমামের প্রত্যাবর্তনের পূর্বে কুরবানী করা দুরস্ত নয়
১০২২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ أَبَا بُرْدَةَ بْنَ نِيَارٍ ذَبَحَ ضَحِيَّتَهُ قَبْلَ أَنْ يَذْبَحَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْأَضْحَى فَزَعَمَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ أَنْ يَعُودَ بِضَحِيَّةٍ أُخْرَى قَالَ أَبُو بُرْدَةَ لَا أَجِدُ إِلَّا جَذَعًا يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ وَإِنْ لَمْ تَجِدْ إِلَّا جَذَعًا فَاذْبَحْ.
বুশাইর ইবনু ইয়াসার (র)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানী করবার আগেই কুরবানী করেছিলেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পুনরায় কুরবানী করতে নির্দেশ দেন। আবূ বুরদা বললেন : আমার নিকট এক বৎসরের এক বকরী ব্যতীত আর কিছুই নেই। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এটিকেই কুরবানী দিয়ে দাও। (বুখারী ৯৫১, ৯৫৫, মুসলিম ১৯৬১)
১০২৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ أَنَّ عُوَيْمِرَ بْنَ أَشْقَرَ ذَبَحَ ضَحِيَّتَهُ قَبْلَ أَنْ يَغْدُوَ يَوْمَ الْأَضْحَى وَأَنَّهُ ذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَهُ أَنْ يَعُودَ بِضَحِيَّةٍ أُخْرَى.
আব্বাদ ইবনু তামীম (র)থেকে বর্ণিতঃ
২৩/৪ পরিচ্ছেদঃ
কুরবানীর গোশত রেখে দেয়া
১০২৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ أَكْلِ لُحُومِ الضَّحَايَا بَعْدَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ثُمَّ قَالَ بَعْدُ كُلُوا وَتَصَدَّقُوا وَتَزَوَّدُوا وَادَّخِرُوا.
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা)থেকে বর্ণিতঃ
তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত রাখতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছিলেন। পরে বললেন : তোমরা নিজেরা তা খাও, পাথেয় হিসেবে ব্যবহার কর এবং (ভবিষ্যতের জন্য) রেখে দাও। (সহীহ, মুসলিম ১৯৭২)