মুয়াত্তা ইমাম মালিক
৫১. চুল বিষয়ক অধ্যায়
موطأ مالك
৫১/১ পরিচ্ছেদঃ
চুলের সুন্নত প্রসঙ্গে
১৭০৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ الْإِخْصَاءَ وَيَقُولُ فِيهِ تَمَامُ الْخَلْقِ
বর্ণণাকারীথেকে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ) জীবজন্তু খাসি করানোকে খারাপ মনে করতেন এবং বলতেন যে, অণ্ডকোষ রাখার অর্থ বংশ জারি রাখা। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
১৭০৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ سَدَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَاصِيَتَهُ مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ فَرَقَ بَعْدَ ذَلِكَ
قَالَ مَالِك لَيْسَ عَلَى الرَّجُلِ يَنْظُرُ إِلَى شَعَرِ امْرَأَةِ ابْنِهِ أَوْ شَعَرِ أُمِّ امْرَأَتِهِ بَأْسٌ
ইবনু শিহাব (রহঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে বেশ কিছু কাল পর্যন্ত স্বীয় চুল কপালের দিকে ঝুলিয়ে রাখতেন। পরে তাতে সিথি বানিয়ে দিতেন (অর্থাৎ চিরুণি দ্বারা চুলকে মাথার মধ্যভাগে দুই ভাগ করে দিতেন)। (বুখারী ৩৫৫৮, মুসলিম ২৩৩৬)
মালিক (রহঃ) বলেন, কোন পুরুষের জন্য স্বীয় পুত্রবধুর অথবা শাশুড়ীর চুল দেখাতে কোন ক্ষতি নেই।
মালিক (রহঃ) বলেন, কোন পুরুষের জন্য স্বীয় পুত্রবধুর অথবা শাশুড়ীর চুল দেখাতে কোন ক্ষতি নেই।
১৭১০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ فِي الْجَنَّةِ كَهَاتَيْنِ إِذَا اتَّقَى وَأَشَارَ بِإِصْبُعَيْهِ الْوُسْطَى وَالَّتِي تَلِي الْإِبْهَامَ
সাফওয়ান ইবনু সুলাইম (রহঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি ও ইয়াতীমের অভিভাবক -- এই অভিভাবক সংশ্লিষ্ট ইয়াতীমের আত্মীয় হোক কিংবা অনাত্মীয়, যদি তারা আল্লাহ্কে ভয় করে, তবে বেহেশতে আমরা একে অপরের এমন নিকট হব যেমন এই দুইটি আঙ্গুল। এই বলে তিনি (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ্ সা.) শাহাদতের অঙ্গুলি ও মধ্যমার দিকে ইঙ্গিত করলেন। [১] (বুখারী ৬০০৫, মুসলিম ২৯৮৩)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] অর্থাৎ ইয়াতীমের অভিভাবক যদি আল্লাহভীরু হয় এবং ইয়াতীমের মালের রক্ষণাবেক্ষণে ঈমানদারী ও আল্লাহ্ভীরুতার পরিচয় দেয়, তা হলে সে বেহেশতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পার্শ্বেই অবস্থান করবে।
১৭০৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ عَامَ حَجَّ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَتَنَاوَلَ قُصَّةً مِنْ شَعَرٍ كَانَتْ فِي يَدِ حَرَسِيٍّ يَقُولُ يَا أَهْلَ الْمَدِينَةِ أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنْ مِثْلِ هَذِهِ وَيَقُولُ إِنَّمَا هَلَكَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ حِينَ اتَّخَذَ هَذِهِ نِسَاؤُهُمْ
হুমাইদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি মু‘আবিয়া ইব্নু আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর নিকট সেই বৎসর শুনেছেন, যেই বৎসর তিনি (মু‘আবিয়া) হজ্জব্রত পালন করতে গিয়েছিলেন। তিনি মিম্বরের উপর উপবিষ্ট হয়ে খাদেমের হাত হতে চুলের একটি গুচ্ছ নিয়ে বললেন, হে মদীনাবাসিগণ! তোমাদের উলামায়ে কিরাম কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ইহা হতে নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ) এটাও বলেছেন যে, বানী ইসরাঈলের মহিলাগণ এই কাজ করেছিল বিধায় তারা ধ্বংস হয়েছে। (বুখারী ৩৪৬৮, মুসলিম ২১২৭)
১৭০৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ نَافِعٍ عَنْ أَبِيهِ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِإِحْفَاءِ الشَّوَارِبِ وَإِعْفَاءِ اللِّحَى
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গোঁফ কামাতে এবং দাড়ি না কাঁটতে নির্দেশ দিয়েছেন। [১] (সহীহ, মুসলিম ২৫৯)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] গোঁফ কামান এবং ছাঁটের ব্যাপারে উলামায়ে কিরামের মধ্যে মতবিরোধ আছে। কারো মতে ছেঁটে ফেলা ভাল আর কারো মতে মুড়িয়ে ফেলা উত্তম। স্বয়ং সাহাবীগণের মধ্যেও এই মতবিরোধ ছিল। তাঁদের মধ্যেও কেউ মুড়াতেন আর কেউ ছাঁটতেন। তিরমিযীর রেওয়ায়ত মুতাবিক রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাঁটতেন।
দাঁড়ি ছাঁটার সম্পর্কে যত হাদীস আছে সবই যঈফ, বিশুদ্ধ মত হচ্ছে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি ছাঁটেননি বরং তিনি সর্বদা দাড়ি ছেড়ে দিতেন এটা সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত।
দাঁড়ি ছাঁটার সম্পর্কে যত হাদীস আছে সবই যঈফ, বিশুদ্ধ মত হচ্ছে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি ছাঁটেননি বরং তিনি সর্বদা দাড়ি ছেড়ে দিতেন এটা সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত।
৫১/২ পরিচ্ছেদঃ
চুলে চিরুনি করা প্রসঙ্গ
১৭১২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ أَخْبَرَهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ فَدَخَلَ رَجُلٌ ثَائِرَ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ أَنْ اخْرُجْ كَأَنَّهُ يَعْنِي إِصْلَاحَ شَعَرِ رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ فَفَعَلَ الرَّجُلُ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَيْسَ هَذَا خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدُكُمْ ثَائِرَ الرَّأْسِ كَأَنَّهُ شَيْطَانٌ
আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে বসেছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এল যার চুল ও দাড়ি এলোমেলো ছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে হাতে ইশারা করে বললেন, মসজিদের বাইরে গিয়ে চুল-দাড়ি ঠিক করে আস। লোকটি তাই করল এবং (চুল-দাড়ি ঠিক করে) পুনরায় এল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের কেউ স্বীয় চুল-দাড়ি এলোমেলো অবস্থায় শয়তানের মতো থাকার তুলনায় ইহা (চুল-দাড়ি) ঠিক করে রাখা উত্তম নয় কি? [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] চুল ও দাঁড়িকে এলোমেলোভাবে রাখা এবং উহার যতœ না করা বা উহার সম্মান না করাকে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয়তানের মতো হওয়া বলে ফরমায়েছেন। আমাদের দেশে যেই সকল যুবক লম্বা চুল, গোঁফ ও নখ রাখে তাদের অত্র হাদীসের মর্ম উপলব্ধি করতে অনুরোধ করি।
১৭১১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيَّ قَالَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِي جُمَّةً أَفَأُرَجِّلُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ وَأَكْرِمْهَا فَكَانَ أَبُو قَتَادَةَ رُبَّمَا دَهَنَهَا فِي الْيَوْمِ مَرَّتَيْنِ لِمَا قَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ وَأَكْرِمْهَا
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ)থেকে বর্ণিতঃ
একদা আবূ কাতাদা আনসারী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বললেন, আমার চুল কাঁধ পর্যন্ত (অর্থাৎ বাবরী চুল) আছে। তবে কি আমি উহাতে চিরুনি করব? রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, চিরুনি কর এবং চুলের সম্মান কর। অতঃপর আবূ কাতাদা কোন কোন সময় দিনে দুইবার চুলে তৈল লাগাতেন। কারণ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, চুলের সম্মান কর। (বাইহাকী, শাবগ্রন্থ ২/২৬৫/২, ইবনু আসাকির তারিখে দামেস্ক ৮/৫০৯/১, আলবানী বলেন এই হাদীসের সমর্থনে অনেক শাওয়াহেদ রয়েছে যে গুলো সহীহ হওয়ার উপর প্রমাণ করে।)
৫১/৩ পরিচ্ছেদঃ