মুয়াত্তা ইমাম মালিক
২৭. ফারায়েয
موطأ مالك
২৭/১ পরিচ্ছেদঃ
সন্তানের মীরাস
মালিক (রঃ) বলেন : আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত মাসআলা এই, আমাদের শহরের আলিমগণকে মীরাসের অংশ বন্টন সম্পর্কে এই মতই পোষণ করতে দেখেছি : যখন ছেলেমেয়ের পিতা-মাতার মৃত্যু হয় এবং তার সম্পদ রেখে যায়, তবে মেয়ের দ্বিগুণ মীরাস ছেলে পাবে; যদি শুধু দুই মেয়ে কিংবা ততোধিক মেয়ে থাকে তবে পূর্ণ মালের দুই-তৃতীয়াংশ মেয়েগণ মীরাস পাবে। যদি এক মেয়ে থাকে তবে অর্ধেক অংশ মীরাস পাবে। আর যদি মৃত ব্যক্তির কোন যবিল ফুরূয (যাদেরকে হিস্যা কুরআন মজীদে নির্ধারিত আছে) থাকে এবং ছেলেমেয়েও বিদ্যমান থাকে তবে প্রথমত অংশীদারগণের হিস্যা আদায় করে ছেলেমেয়েদেরকে পূর্ব বর্ণিত নিয়মে অংশ দিবে অর্থাৎ ছেলে পাবে মেয়ের দ্বিগুণ। তবে পিতা যবিল ফুরূয হিসাবে এক-ষষ্ঠাংশ পাবে অবশিষ্ট ওয়ারিশগণ বাকী পাঁচ হিস্যার দুই হিস্যা এক ছেলে এবং তিন হিস্যা তিন মেয়ে পাবে।
মালিক (রঃ) বলেন, যদি মৃতের পুত্র কন্যা কেউ না থাকে তবে নাতি এবং নাতনিগণ ওয়ারিস হবে। নাতি-নাতনীদের হিস্যাও পুত্র-কন্যাদের হিস্যার মতো বন্টন করা হবে, মীরাস পাওয়া না পাওয়ার ব্যাপারে হাদের হুকুম পুত্রদের মতো। তবে মৃতের একটি পুত্র ও নাতি থাকলে নাতি ওয়ারিস হবে না। মৃতের দুই অথবা ততোধিক কন্যা থাকলেও নাতনিগণ ওয়ারিস হবে না। হ্যাঁ, যদি নাতনীদের সঙ্গে কোন নাতিও থাকে, মৃত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কন্যাদের মতো অথবা তাদের তুলনায় কিছু দূর-সম্পর্কীয়। তবে যবিল ফুরূযের হিস্যা দেওয়ার পর কিছু মাল বেঁচে থাকলে তা কন্যাদের সমপর্যায়ের নাতি এবং নাতির তুলনায় উচ্চ অর্থাৎ নিকট সম্পর্কীয়া নাতনীগণ পাবে এবং নাতনীর দ্বিগুণ নাতি পাবে। যদি যবিল ফুরূযকে দেওয়ার পর অবশিষ্ট না থাকে তবে তারা কিছুই পাবে না। যদি মৃতের একটি মেয়ে থাকে তবে সে অর্ধেক পাবে। আর তার পুত্রের মেয়ে সন্তান অর্থাৎ তার নাতনী এক বা একাধিক হলে এরা সকলেই মৃতের ওয়ারিস হিসাবে এক-ষষ্ঠাংশ পাবে আর যদি নাতনীদের সঙ্গে নাতিও থাকে তবে নাতনীরা কিছুই পাবে না, যদি যবিল ফুরূযকে দিয়ে কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে তা ঐ নাতির হিস্যা এবং তার সঙ্গে অন্য যে তার সমকক্ষ এবং তার ঊর্ধ্বের নাতনীরাও তার সঙ্গে হিস্যা পাবে, পুরুষ মেয়ের দ্বিগুণ এই হিসাবে আর দূরবর্তীদের জন্য কোন অংশ নাই যবিল যুরূযুকে দিয়ে কিছু অবশিষ্ট না থাকলে তাদের জন্য কিছুই নাই।
আর ইহা এজন্য যে, আল্লাহ্ পাক স্বীয় কিতাবে বলেন :
يُوْصِيْكُمُ اللهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ
আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিতেছেন, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান, কিন্তু কেবল কন্যা দুই-এর অধিক থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ, আর এক কন্যা থাকলে তাদের জন্য অর্ধাংশ। (সূরা নিসা - ১১)
মালিক (রঃ) বলেন : আতরাফ অর্থাৎ দূরবর্তীগণ।
২৭/২ পরিচ্ছেদঃ
মিরাস বণ্টনে স্বামীর অংশ স্ত্রী হতে এবং স্ত্রীর অংশ স্বামী হতে কি পরিমাণ
মালিক (র) বলেন : স্ত্রীর মৃত্যুর পর যদি তার কোন ছেলে কিংবা নাতি না থাকে তবে স্বামী অর্ধেক মালের মীরাস পাবে। যদি কোন ছেলে অথবা ছেলের ঔরসজাত নাতি বা নাতনী বিদ্যমান থাকে তবে স্বামী এক-চতুর্থাংশ মীরাস পাবে, তবে শর্ত এই মৃতের কোন ওসীয়্যত থাকলে কিংবা কোন ঋণ থাকলে তা পূর্বেই আদায় করতে হবে। তদ্রূপ স্বামীর মৃত্যু হলে যদি কোন ছেলে কিংবা নাতি না থাকে, তবে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদ হতে স্ত্রী এক-চতুর্থাংশ পাবে। আর যদি কোন ছেলে কিংবা নাতি-নাতনী থাকে, তবে স্ত্রী এক-অষ্টমাংশ মীরাস পাবে। এ স্থলেও স্বামীর কোন ওসীয়্যত কিংবা ঋণ থাকলে তা মীরাস বন্টনের পূর্বেই আদায় করতে হবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা কুরআন পাকে বলেছেন :
وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمْ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكُمْ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ .
তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ তোমাদের জন্য যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে এবং তাদের সন্তান থাকলে তোমাদের জন্য তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ। তোমরা যা ওসীয়্যত করবে তা দেওয়া ও ঋণ পরিশোধের পর।
২৭/৩ পরিচ্ছেদঃ
সন্তানের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পিতা-মাতার মীরাস
মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা এই- আমাদের শহরের ‘আলিমগণকেও অনুরূপ মত পোষণ করতে দেখেছি যে, মৃত ব্যক্তি যদি ছেলে কিংবা পুত্রের ঔরসজাত নাতি রেখে মারা যায়, তবে মৃতের পিতা এক-ষষ্ঠাংশ মীরাস পাবে। আর যদি মৃতের ছেলে কিংবা নাতি না থাকে তবে যবিল ফুরূযের হিস্যা দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা এক-ষষ্ঠাংশের সমান হোক কিংবা বেশি হোক তা পিতা পাবে। যদি যবিল ফুরূযের হিস্যা দেওয়ার পর ষষ্ঠাংশ না থাকে তবে ষষ্ঠাংশ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। মৃত ব্যক্তির যদি মাতা, ছেলেমেয়ে কিংবা ছেলের পক্ষের নাতি, নাত্নী কিংবা দুই ভাই কিংবা ততোধিক ভাই থাকে, আপন ভাই কিংবা মাতৃপক্ষের ভাই কিংবা পিতৃপক্ষের ভাই কিংবা বোনসমূহ থাকে তবে মাতা এক-ষষ্ঠাংশ পাবে। আর যদি উপরিউল্লিখিত কেউ না থাকে, তবে মাতা পূর্ণ এক-তৃতীয়াংশ পাবে। হ্যাঁ, শুধু দুই অবস্থায় এক-তৃতীয়াংশ পাবে না বরং অবশিষ্ট মালের এক-তৃতীয়াংশ পাবে। এক অবস্থা এই যে, যদি মৃতের মাতা-পিতা বিদ্যমান থাকে এবং স্ত্রী থাকে তবে স্ত্রী এক-চতুর্থাংশ মাল পাবে। এবং মাতা এক-তৃতীয়াংশ পাবে।
দ্বিতীয় অবস্থা এই যে, মৃত ব্যক্তির যদি স্বামী এবং মাতা-পিতা থাকে তবে স্বামী অর্ধেক অংশ পাবে এবং মাতা যা বাকী থাকে তার এক-তৃতীয়াংশ পাবে। অর্থাৎ মাতা এক-ষষ্ঠাং এবং পিতা এক-ষষ্ঠাংশ পাবে। কেননা তাই আল্লাহ্ তা‘আলা স্বীয় কিতাবে ইরশাদ করেছেন
وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ فَإِنْ كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ
তার সন্তান থাকলে তার পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ, সে নিঃসন্তান হলে এবং শুধু পিতামাতাই উত্তরাধিকারী হলে তার মাতার জন্য এক-তৃতীয়াংশ; তার ভাই-বোন থাকলে মাতার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ।
মালিক (র) বলেন : ভাইসমূহের অর্থ দুই ভাই কিংবা ততোধিক ভাই অর্থ লওয়াও প্রচলিত সুন্নতরূপে গণ্য।
২৭/৪ পরিচ্ছেদঃ
মাতৃপক্ষীয় ভাইয়ের এবং বোনের মীরাসের বর্ণনা
মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারিত মাসআলা এই যে, মৃত ব্যক্তির যদি কোন সন্তান থাকে কিংবা তার পিতা কিংবা দাদা (পিতামহ) জীবিত থাকে তবে মাতৃপক্ষের ভাই-বোন মীরাস হতে বঞ্চিত (মাহ্রূম) হবে। যদি উল্লিখিত ওয়ারিসগণ না থাকে তবে তারাও মীরাস পাবে। যদি একজন আখিয়াফি ভাই কিংবা বোন থাকে তবে সে অর্ধেক মীরাস পাবে। যদি দুজন আখিয়াফি ভাই কিংবা বোন থাকে তবে প্রত্যেকে অর্ধেক অংশ পাবে। যদি ততোধিক থাকে তবে এক-তৃতীয়াংশ সম্পদের সকলে মিলে সমান সমান অংশ পাবে এবং বোন ভাইয়ের সমান অংশই পাবে। আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় কিতাবে বলেন :
وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوْ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ فَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ
যদি পিতা-মাতা ও সন্তানহীন কোন পুরুষ অথবা নারীর উত্তরাধিকারী থাকে তার এক বৈপিত্রেয় ভাই অথবা ভগ্নী তবে প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ, তারা এর অধিক হলে সকলে সমঅংশীদার হবে এক-তৃতীয়াংশে। অর্থাৎ এরূপ অবস্থায় পুরুষ ও স্ত্রীলোকে তফাৎ হবে না, সকলে সমান অংশ পাবে।
২৭/৫ পরিচ্ছেদঃ
সহোদর ভাই-বোনদের হিস্যা
মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারিত মাসআলা এই যে, মৃত ব্যক্তির ছেলে কিংবা নাতি কিংবা পিতা জীবিত থাকলে সহোদর ভাই-বোন মীরাস পাবে না। আর যদি মৃত ব্যক্তির দাদা জীবিত না থাকে শুধু কন্যা বা নাতিন (পুত্রের কন্যা) থাকে তবে সহোদর ভাই-বোন ওয়ারিস হবে; যবীল ফুরূযের হিস্যা দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সহোদর ভাই-বোন পাবে। ভাই বোনের দ্বিগুণ পাবে। যদি যবীল ফুরূযের হিস্যা দেওয়ার পর মাল না থাকে তবে তারা মাহরূম হবে।
মালিক (র) বলেন : মৃত ব্যক্তির বাপ ও দাদা যদি না থাকে, আর না ছেলে এবং নাতি থাকে, শুধু একজন সহোদর বোন থাকে, তবে সে অর্ধেক হিস্যা পাবে। যদি দুই বোন কিংবা ততোধিক সহোদর বোন থাকে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। যদি এই বোনদের সঙ্গে কোন ভাইও থাকে তবে কন্যাদের জন্য নির্দিষ্ট অংশ থাকবে না, তারা যবীল ফুরূযদের অংশ প্রদান করে আসাবা হবে। যা অবশিষ্ট থাকে তা হতে বোনেরা দ্বিগুণ এই হারে তারা পাবে। শুধু এক অবস্থায় তাদের জন্য কিছুই থাকবে না, বরং বৈপিত্রেয় ভাই বোনদের সঙ্গে শরীক হয়ে যাবে।
যেমন কোন মৃত স্ত্রীলোকের স্বামী বিদ্যমান আছে, মাতা আছে এবং বৈপিত্রেয় ভাই সকল আছে এবং সহোদর ভাই সকলও বিদ্যমান আছে। প্রথমত স্বামী অর্ধেক অংশ পাবে। মাতা এক-ষষ্ঠাংশ এবং বৈপিত্রেয় ভাইয়েরা এক-তৃতীয়াংশ পাওয়ার পর আর মাল অবশিষ্ট রইল না। এমতাবস্থায় সহোদর ভাইগণ বৈপিত্রেয় ভাইদের সাথে এক-তৃতীয়াংশ হিস্যার শরীক হবে। কেননা সকলের মাতা এক হওয়াতে সবাই তৃতীয়াংশে শরীক হল। অংশের ভাগ এই হারে, ভাই বোনের দ্বিগুণ এ সম্বন্ধে আল্লাহ্ পাক স্বীয় কিতাবে বলেন :
“যদি পিতা-মাতা সন্তানহীন কোন পুরুষ অথবা নারীর উত্তরাধিকারী থাকে তার এক বৈপিত্রেয় ভাই অথবা ভগ্নী তবে প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ তারা এর অধিক সমঅংশীদার হবে এক-তৃতীয়াংশে।”
২৭/৬ পরিচ্ছেদঃ
বৈমাত্রেয় ভাই-বোনদের মীরাস সম্বন্ধে
মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারিত মাসআলা এই যে, মৃতের যদি সহোদর ভাই-বোন না থাকে তবে অর্থাৎ বৈমাত্রেয় ভাই সহোদর ভাই ও বৈমাত্রেয় বিমাতা ভাই-বোনগণ তাদের স্থালাভিষিক্ত হবে। বোন সহোদর বোনের মত অংশ পাবে। উহা এইরূপ : একজন বৈমাত্রেয় ভাই থাকে তবে সে সম্পূর্ণ মাল পাবে। যদি একজন বৈমাত্রেয় বোন থাকে তবে অর্ধেক মাল পাবে। যদি দুই কিংবা ততোধিক বৈমাত্রেয় বোন থাকে তবে দুই-তৃতীয়াংশ মাল পাবে। যদি ভাই বোন উভয়ই থাকে তবে বোনের দ্বিগুণ ভাই পাবে। কিন্তু বৈমাত্রেয় ভাই-বোন বৈপিত্রেয় ভাই-বোনদের সাথে শরীক হবে না। কেননা তাদের মাতা পৃথক, এক নয়।
যদি সহোদর বোনদের সাথে বৈমাত্রেয় বোনও থাকে এবং সহোদর কোন ভাইও থাকে তবে বৈমাত্রেয় বোনগণ মাহরূম (বঞ্চিত) হয়ে যাবে। যদি সহোদর ভাই না থাকে শুধু একজন সহোদর বোন থাকে এবং বৈমাত্রেয় বোনগণ থাকে, তবে সহোদর বোন অর্ধেক অংশ পাবে এবং বিমাতা বোনেরা ষষ্ঠাংশ পাবে। যদি বিমাতা বোনদের সাথে কোন বিমাতা ভাইও থাকে তবে তার হিস্যা নির্দিষ্ট হবে না। বরং যবীল ফুরূযকে হিস্যা দিয়ে যা অবশিষ্ট থাকবে তা বিমাতা ভাইও থাকে তবে তার হিস্যা নির্দিষ্ট হবে না। বরং যবীল ফুরূযকে হিস্যা দিয়ে যা অবশিষ্টথাকবে তা বিমাতা ভাই-বোনগণ ভাইয়ের দ্বিগুণ হিস্যা দিয়ে বন্টন করে নিবে। আর যদি কিছু অবশিষ্ট না থাকে তবে তারা মাহরূম হয়ে যাবে। যদি সহোদর বোনগণ দুই কিংবা ততোধিক থাকে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ পাবে এবং বিমাতা বোনেরা মাহরূম হয়ে যাবে। হ্যাঁ, যদি বিমাতা বোনদের সাথে তাদের কোন ভাই থাকে তবে ভাই তাদেরকে ‘আসাবা বানাবে। বৈপিত্রেয় ভাই-বোন যদি সহোদর ভাই-বোনদের সাথে হয়, কিংবা বৈমাত্রেয় ভাই বোনদের সাথে হয়, তবে একজন হলে ষষ্ঠাংশ পাবে, আর দুজন বা আরো অধিক হলে এক- তহৃতীয়াংশ পাবে। এমতাবস্থায় ভাই-বোন সমান সমান অংশ পাবে, এখানে পুরুষ ও নারী এক পর্যায়ের গণ্য হবে।
২৭/৭ পরিচ্ছেদঃ
দাদার (পিতামহের) অংশ
১০৬৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَرَضَ لِلْجَدِّ الَّذِي يَفْرِضُ النَّاسُ لَهُ الْيَوْمَ.
মালিক (র)থেকে বর্ণিতঃ
উমার ইবনু খাত্তাব (রা) দাদাকে এইরূপ হিস্যা দিতেন যেরূপ আজকাল লোকেরা দিয়ে থাকে। মালিক (র) বলেন, সুলায়মান ইবনু ইয়াসার হতেও এইরূপ বর্ণিত আছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
১০৬৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ كَتَبَ إِلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ يَسْأَلُهُ عَنْ الْجَدِّ فَكَتَبَ إِلَيْهِ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ إِنَّكَ كَتَبْتَ إِلَيَّ تَسْأَلُنِي عَنْ الْجَدِّ وَاللهُ أَعْلَمُ وَذَلِكَ مِمَّا لَمْ يَكُنْ يَقْضِي فِيهِ إِلَّا الْأُمَرَاءُ يَعْنِي الْخُلَفَاءَ وَقَدْ حَضَرْتُ الْخَلِيفَتَيْنِ قَبْلَكَ يُعْطِيَانِهِ النِّصْفَ مَعَ الْأَخِ الْوَاحِدِ وَالثُّلُثَ مَعَ الْاثْنَيْنِ فَإِنْ كَثُرَتْ الْإِخْوَةُ لَمْ يُنَقِّصُوهُ مِنْ الثُّلُثِ.
মালিক (র)থেকে বর্ণিতঃ
মু‘আবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান যায়দ ইবনু সাবিত (র)-কে দাদার মীরাস সম্বন্ধে প্রশ্ন করে লিখেছিলেন। যায়েদ উত্তরে লিখলেন, তুমি দাদার মীরাস সম্ভন্ধে জিজ্ঞেস করেছ, ইহা এমন একটি মাসআলা সেই সম্বন্ধে দুই খলীফা [উমার, উসমান (রা)] ফয়সালা করার সময় আমি স্বয়ং এতে উপস্থিত ছিলাম। মৃতের এক ভাই থাকলে দাদাকে অর্ধেক অংশ দিতেন এবং দুই ভাই থাকলে দাদার এক-তৃতীয়াংশ এবং অনেক ভাই-বোন থাকলেও ঐ এক-তৃতীয়াংশই দাদাকে দিতেন, উহা হতে কম দিতেন না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
১০৬৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ قَالَ فَرَضَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ لِلْجَدِّ مَعَ الْإِخْوَةِ الثُّلُثَ ১৮৬৭-قَالَ مَالِك وَالْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا وَالَّذِي أَدْرَكْتُ عَلَيْهِ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا أَنَّ الْجَدَّ أَبَا الْأَبِ لَا يَرِثُ مَعَ الْأَبِ دِنْيَا شَيْئًا وَهُوَ يُفْرَضُ لَهُ مَعَ الْوَلَدِ الذَّكَرِ وَمَعَ ابْنِ الْابْنِ الذَّكَرِ السُّدُسُ فَرِيضَةً وَهُوَ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ مَا لَمْ يَتْرُكْ الْمُتَوَفَّى أُمًّا أَوْ أُخْتًا لِأَبِيهِ يُبَدَّأُ بِأَحَدٍ إِنْ شَرَّكَهُ بِفَرِيضَةٍ مُسَمَّاةٍ فَيُعْطَوْنَ فَرَائِضَهُمْ فَإِنْ فَضَلَ مِنْ الْمَالِ السُّدُسُ فَمَا فَوْقَهُ فُرِضَ لِلْجَدِّ السُّدُسُ فَرِيضَةً ১৮৬৮- قَالَ مَالِك وَالْجَدُّ وَالْإِخْوَةُ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ إِذَا شَرَّكَهُمْ أَحَدٌ بِفَرِيضَةٍ مُسَمَّاةٍ يُبَدَّأُ بِمَنْ شَرَّكَهُمْ مِنْ أَهْلِ الْفَرَائِضِ فَيُعْطَوْنَ فَرَائِضَهُمْ فَمَا بَقِيَ بَعْدَ ذَلِكَ لِلْجَدِّ وَالْإِخْوَةِ مِنْ شَيْءٍ فَإِنَّهُ يُنْظَرُ أَيُّ ذَلِكَ أَفْضَلُ لِحَظِّ الْجَدِّ أُعْطِيَهُ الثُّلُثُ مِمَّا بَقِيَ لَهُ وَلِلْإِخْوَةِ أَوْ يَكُونُ بِمَنْزِلَةِ رَجُلٍ مِنْ الْإِخْوَةِ فِيمَا يَحْصُلُ لَهُ وَلَهُمْ يُقَاسِمُهُمْ بِمِثْلِ حِصَّةِ أَحَدِهِمْ أَوْ السُّدُسُ مِنْ رَأْسِ الْمَالِ كُلِّهِ أَيُّ ذَلِكَ كَانَ أَفْضَلَ لِحَظِّ الْجَدِّ أُعْطِيَهُ الْجَدُّ وَكَانَ مَا بَقِيَ بَعْدَ ذَلِكَ لِلْإِخْوَةِ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ إِلَّا فِي فَرِيضَةٍ وَاحِدَةٍ تَكُونُ قِسْمَتُهُمْ فِيهَا عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ وَتِلْكَ الْفَرِيضَةُ امْرَأَةٌ تُوُفِّيَتْ وَتَرَكَتْ زَوْجَهَا وَأُمَّهَا وَأُخْتَهَا لِأُمِّهَا وَأَبِيهَا وَجَدَّهَا فَلِلزَّوْجِ النِّصْفُ وَلِلْأُمِّ الثُّلُثُ وَلِلْجَدِّ السُّدُسُ وَلِلْأُخْتِ لِلْأُمِّ وَالْأَبِ النِّصْفُ ثُمَّ يُجْمَعُ سُدُسُ الْجَدِّ وَنِصْفُ الْأُخْتِ فَيُقْسَمُ أَثْلَاثًا لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَيَكُونُ لِلْجَدِّ ثُلُثَاهُ وَلِلْأُخْتِ ثُلُثُهُ.
১৮৬৯- قَالَ مَالِك وَمِيرَاثُ الْإِخْوَةِ لِلْأَبِ مَعَ الْجَدِّ إِذَا لَمْ يَكُنْ مَعَهُمْ إِخْوَةٌ لِأَبٍ وَأُمٍّ كَمِيرَاثِ الْإِخْوَةِ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ سَوَاءٌ ذَكَرُهُمْ كَذَكَرِهِمْ وَأُنْثَاهُمْ كَأُنْثَاهُمْ فَإِذَا اجْتَمَعَ الْإِخْوَةُ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ وَالْإِخْوَةُ لِلْأَبِ فَإِنَّ الْإِخْوَةَ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ يُعَادُّونَ الْجَدَّ بِإِخْوَتِهِمْ لِأَبِيهِمْ فَيَمْنَعُونَهُ بِهِمْ كَثْرَةَ الْمِيرَاثِ بِعَدَدِهِمْ وَلَا يُعَادُّونَهُ بِالْإِخْوَةِ لِلْأُمِّ لِأَنَّهُ لَوْ لَمْ يَكُنْ مَعَ الْجَدِّ غَيْرُهُمْ لَمْ يَرِثُوا مَعَهُ شَيْئًا وَكَانَ الْمَالُ كُلُّهُ لِلْجَدِّ فَمَا حَصَلَ لِلْإِخْوَةِ مِنْ بَعْدِ حَظِّ الْجَدِّ فَإِنَّهُ يَكُونُ لِلْإِخْوَةِ مِنْ الْأَبِ وَالْأُمِّ دُونَ الْإِخْوَةِ لِلْأَبِ وَلَا يَكُونُ لِلْإِخْوَةِ لِلْأَبِ مَعَهُمْ شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْإِخْوَةُ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ امْرَأَةً وَاحِدَةً فَإِنْ كَانَتْ امْرَأَةً وَاحِدَةً فَإِنَّهَا تُعَادُّ الْجَدَّ بِإِخْوَتِهَا لِأَبِيهَا مَا كَانُوا فَمَا حَصَلَ لَهُمْ وَلَهَا مِنْ شَيْءٍ كَانَ لَهَا دُونَهُمْ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ أَنْ تَسْتَكْمِلَ فَرِيضَتَهَا وَفَرِيضَتُهَا النِّصْفُ مِنْ رَأْسِ الْمَالِ كُلِّهِ فَإِنْ كَانَ فِيمَا يُحَازُ لَهَا وَلِإِخْوَتِهَا لِأَبِيهَا فَضْلٌ عَنْ نِصْفِ رَأْسِ الْمَالِ كُلِّهِ فَهُوَ لِإِخْوَتِهَا لِأَبِيْهَا لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ لَمْ يَفْضُلْ شَيْءٌ فَلَا شَيْءَ لَهُمْ.
উমার ইবনু খাত্তাব (রা)থেকে বর্ণিতঃ
মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারিত মাসআলা এই যে, মৃতের পিতা জীবিত থাকলে দাদা মাহরূম হয়ে যায় কিন্তু মৃতের ছেলে কিংবা নাতি বিদ্যমান থাকলে দাদা যবিল ফুরূয হিসাবে ষষ্ঠাংশ পাবে। যদি মৃতের ছেলে কিংবা নাতি না থাকে এবং সহোদর ভাই-বোন কিংবা বিমাতা ভাই-বোন না থাকে, তবে যবিল ফুরূয থাকলে তাদের হিস্যা দিয়ে যদি ষষ্ঠাং কিংবা ততোধিক মাল অবশিষ্ট থাকে তবে তা দাদা পাবে। আর যদি ষষ্ঠাংশের চেয়ে কম মাল থাকে তবে ষষ্ঠাংশ দাদার জন্য অংশ হিসাবে নির্দিষ্ট হবে।
মালিক (র) বলেন : যদি মৃতের দাদা এবং সহোদর ভাই-বোনদের সাথে কোন যবীল ফুরূয থাকে, তবে যবীল ফুরূযের হিস্যা দিয়ে যা কিছু অবশিষ্ট থাকবে এতে নিম্নলিখিত অবস্থায় যা উত্তম হয় তাই কার্যকরী করা হবে। (১) অবশিষ্ট মালের এক-তৃতীয়াংশ দাদাকে দেয়া হবে। (২) দাদাকে মৃতের ভাই ধার্য করে এক ভাইয়ের সমান হিস্যা দেয়া যাবে। (৩) পূর্ণ মালের ষষ্ঠাংশ দাদাকে দেয়ার পর যদি মাল অবশিষ্ট থেকে যায় তবে তা ভাই-বোনদেরকে বোনের দ্বিগুণ ভাইকে বন্টন করে দেওয়া হবে। কিন্তু আর একটি উদাহরণে বন্টন অন্যরূপে হবে। উদাহরণটি হল এই :
এক মহিলা মৃত্যুবরণ করেছে তার স্বামী, মাতা, সহোদরা ভগ্নী ও দাদা আছে, তার সম্পদের অর্ধেক পাবে স্বামী, এক-তৃতীয়াংশ মাতা, ষষ্ঠাংশ দাদা আর সহোদরা ভগ্নী অর্ধেক। অতঃপর দাদার ষষ্ঠাংশ ও বোনের অর্ধেক একত্রিত করা হবে, উহাকে এইভাবে বন্টন করা হবে যে, দাদা পাবে দুই-তৃতীয়াংশ ও বোন পাবে এক-তৃতীয়াংশ। (এই মাসআলাটি ‘আওলের [১] একটি উদাহরণ।)
মালিক (র) বলেন : যদি মৃত ব্যক্তির দাদার সঙ্গে তার বিমাতা ভাইও থাকে তবে সে সহোদর ভাইয়ের মতো গ্রাহ্য হবে। যদি সহোদরের সঙ্গে বিমাতা ভাই-বোনও থাকে, তবে বিমাতা ভাই শুধু ভাইদের গণনায় ধরা হবে এবং দাদার হিস্যা কম করে দিবে স্বয়ং কোন অংশ পাবে না। হ্যাঁ, যদি সহোদর ভাইদের সঙ্গে বৈপিত্রেয় ভাইও থাকে, তবে তারা ভাইদের শামিলে গণ্য হয়ে দাদার হিস্যায় কম করতে পারবে না। কেননা যদি দাদা থাকে এবং শুধু বৈপিত্রেয় ভাই থাকে তবে দাদা পূর্ণ মাল পাবে এবং বৈপিত্রেয় ভাই মাহরূম হয়ে যাবে। যে অবস্থায় দাদার সঙ্গে সহোদর ভাই এবং বৈমাত্রেয় ভাইবোনও থাকে তখন দাদার হিস্যা দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সহোদর ভাই-বোনদেরই হিস্যা হবে, বৈমাত্রেয় ভাই কিছুই পাবে না। হ্যাঁ, যদি সহোদর মাত্র এক বোন হয় এবং বাকী সকল বিমাতা ভাই-বোন হয় তবে বিমাতাদের কারণে সহোদর বোন দাদার হিস্যা কম করে দিবে এবং এই সহোদর বোন অর্ধেক অংশ পূর্ণ পাবে। তবুও যদি কিছু মাল অবশিষ্ট থেকে যায় তবে বিমাতা ভাই-বোনগণ নিজ নিজ হিস্যা ভাইয়েরা বোনদের দ্বিগুণ হিসেবে পাবে। আর যদি অবশিষ্ট না থাকে তবে বিমাতা ভাই-বোনগণ মাহরূম হয়ে যাবে।
মালিক (র) বলেন : যদি মৃতের দাদা এবং সহোদর ভাই-বোনদের সাথে কোন যবীল ফুরূয থাকে, তবে যবীল ফুরূযের হিস্যা দিয়ে যা কিছু অবশিষ্ট থাকবে এতে নিম্নলিখিত অবস্থায় যা উত্তম হয় তাই কার্যকরী করা হবে। (১) অবশিষ্ট মালের এক-তৃতীয়াংশ দাদাকে দেয়া হবে। (২) দাদাকে মৃতের ভাই ধার্য করে এক ভাইয়ের সমান হিস্যা দেয়া যাবে। (৩) পূর্ণ মালের ষষ্ঠাংশ দাদাকে দেয়ার পর যদি মাল অবশিষ্ট থেকে যায় তবে তা ভাই-বোনদেরকে বোনের দ্বিগুণ ভাইকে বন্টন করে দেওয়া হবে। কিন্তু আর একটি উদাহরণে বন্টন অন্যরূপে হবে। উদাহরণটি হল এই :
এক মহিলা মৃত্যুবরণ করেছে তার স্বামী, মাতা, সহোদরা ভগ্নী ও দাদা আছে, তার সম্পদের অর্ধেক পাবে স্বামী, এক-তৃতীয়াংশ মাতা, ষষ্ঠাংশ দাদা আর সহোদরা ভগ্নী অর্ধেক। অতঃপর দাদার ষষ্ঠাংশ ও বোনের অর্ধেক একত্রিত করা হবে, উহাকে এইভাবে বন্টন করা হবে যে, দাদা পাবে দুই-তৃতীয়াংশ ও বোন পাবে এক-তৃতীয়াংশ। (এই মাসআলাটি ‘আওলের [১] একটি উদাহরণ।)
মালিক (র) বলেন : যদি মৃত ব্যক্তির দাদার সঙ্গে তার বিমাতা ভাইও থাকে তবে সে সহোদর ভাইয়ের মতো গ্রাহ্য হবে। যদি সহোদরের সঙ্গে বিমাতা ভাই-বোনও থাকে, তবে বিমাতা ভাই শুধু ভাইদের গণনায় ধরা হবে এবং দাদার হিস্যা কম করে দিবে স্বয়ং কোন অংশ পাবে না। হ্যাঁ, যদি সহোদর ভাইদের সঙ্গে বৈপিত্রেয় ভাইও থাকে, তবে তারা ভাইদের শামিলে গণ্য হয়ে দাদার হিস্যায় কম করতে পারবে না। কেননা যদি দাদা থাকে এবং শুধু বৈপিত্রেয় ভাই থাকে তবে দাদা পূর্ণ মাল পাবে এবং বৈপিত্রেয় ভাই মাহরূম হয়ে যাবে। যে অবস্থায় দাদার সঙ্গে সহোদর ভাই এবং বৈমাত্রেয় ভাইবোনও থাকে তখন দাদার হিস্যা দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সহোদর ভাই-বোনদেরই হিস্যা হবে, বৈমাত্রেয় ভাই কিছুই পাবে না। হ্যাঁ, যদি সহোদর মাত্র এক বোন হয় এবং বাকী সকল বিমাতা ভাই-বোন হয় তবে বিমাতাদের কারণে সহোদর বোন দাদার হিস্যা কম করে দিবে এবং এই সহোদর বোন অর্ধেক অংশ পূর্ণ পাবে। তবুও যদি কিছু মাল অবশিষ্ট থেকে যায় তবে বিমাতা ভাই-বোনগণ নিজ নিজ হিস্যা ভাইয়েরা বোনদের দ্বিগুণ হিসেবে পাবে। আর যদি অবশিষ্ট না থাকে তবে বিমাতা ভাই-বোনগণ মাহরূম হয়ে যাবে।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] ফরায়েজ এর একটি বণ্টন নীতি।