মুয়াত্তা ইমাম মালিক
৩৬. বিচার সম্পর্কিত
موطأ مالك
৩৬/১ পরিচ্ছেদঃ
ন্যায়বিচারে উৎসাহ প্রদান
১৩৯৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ اخْتَصَمَ إِلَيْهِ مُسْلِمٌ وَيَهُودِيٌّ فَرَأَى عُمَرُ أَنَّ الْحَقَّ لِلْيَهُودِيِّ فَقَضَى لَهُ فَقَالَ لَهُ الْيَهُودِيُّ وَاللهِ لَقَدْ قَضَيْتَ بِالْحَقِّ فَضَرَبَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِالدِّرَّةِ ثُمَّ قَالَ وَمَا يُدْرِيكَ فَقَالَ لَهُ الْيَهُودِيُّ إِنَّا نَجِدُ أَنَّهُ لَيْسَ قَاضٍ يَقْضِي بِالْحَقِّ إِلَّا كَانَ عَنْ يَمِينِهِ مَلَكٌ وَعَنْ شِمَالِهِ مَلَكٌ يُسَدِّدَانِهِ وَيُوَفِّقَانِهِ لِلْحَقِّ مَا دَامَ مَعَ الْحَقِّ فَإِذَا تَرَكَ الْحَقَّ عَرَجَا وَتَرَكَاهُ.
সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব (র)থেকে বর্ণিতঃ
একদা উমার (রা)-এর দরবারে এক ইহুদী ও এক মুসলমান কোন বিবাদ নিয়ে এল। উমার (রা) বুঝতে পারলেন যে, ইহুদীর দাবি সত্য। তাই ইহুদীর সপক্ষে রায় দিয়ে দিলেন। ইহুদী সর্বশেষে বলল, আল্লাহর কসম, আপনি হক ফায়সালা করেছেন। ইহা শুনে উমার (রা) তাকে বেত্র দ্বারা আঘাত করে বললেন, কিভাবে জানতে পেরেছ যে, এই বিচার হক হয়েছে? ইহুদী বলল, আমি আমাদের আসমানী কিতাবে দেখেছি যে, যে বিচারক সত্য ফয়সালা করে তার ডান দিকের এবং বাম দিকের কাঁধে একজন করে ফেরেশতা থাকেন। তারা তাঁকে শক্তিশালী রাখে এবং সৎ পথ দেখাতে থাকে যতক্ষণ সে হকের উপর থাকে। আর যদি সে হককে ছেড়ে দেয় তবে ফেরেশতারাও তাকে ছেড়ে ঊর্ধ্বজগতে উঠে যায়। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
১৩৯৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَإِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَيَّ فَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُونَ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ فَأَقْضِيَ لَهُ عَلَى نَحْوِ مَا أَسْمَعُ مِنْهُ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ بِشَيْءٍ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ فَلَا يَأْخُذَنَّ مِنْهُ شَيْئًا فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنْ النَّارِ.
নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা (রা)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি একজন মানুষ, তোমরা আমার নিকট ঝগড়া-বিবাদ নিয়ে আস। এমনও হতে পারে যে, একে অপরের তুলনায় অধিক চালাকী ও চাতুরির আশ্রয় নিবে এবং নিজ দাবি প্রমাণিত করবে এবং আমি তার বাহ্যিক প্রমাণের দিকে লক্ষ্য করে তার পক্ষে রায় দিয়ে দিব। সুতরাং এমতাবস্থায় যদি আমি অপরের হক কাউকেও দিয়ে দেই তবে তার জন্য উক্ত বস্তু গ্রহণ করা উচিত নয়। কেননা উহা তার জন্য আগুনের টুকরা। (বুখারী ২৬৮০, মুসলিম ১৭১৩)
৩৬/২ পরিচ্ছেদঃ
সাক্ষ্য প্রদান
১৩৯৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ عَنْ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِ الشُّهَدَاءِ الَّذِي يَأْتِي بِشَهَادَتِهِ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلَهَا أَوْ يُخْبِرُ بِشَهَادَتِهِ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلَهَا.
যায়দ ইব্নু খালিদ জুহানী (রা)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাদেরকে সর্বোত্তম সাক্ষীর কথা বলব? তা হলো, যে জিজ্ঞেস করার পূর্বেই সাক্ষ্য প্রদান করে অথবা যার সাক্ষীর প্রয়োজন তাকে সংবাদ প্রদান করে তাকে জিজ্ঞেস করার পূর্বেই। (সহীহ, মুসলিম ১৭১৯)
১৪০০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ قَالَ قَدِمَ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَقَالَ لَقَدْ جِئْتُكَ لِأَمْرٍ مَا لَهُ رَأْسٌ وَلَا ذَنَبٌ فَقَالَ عُمَرُ مَا هُوَ قَالَ شَهَادَاتُ الزُّورِ ظَهَرَتْ بِأَرْضِنَا فَقَالَ عُمَرُ أَوَ قَدْ كَانَ ذَلِكَ قَالَ نَعَمْ فَقَالَ عُمَرُ وَاللهِ لَا يُؤْسَرُ رَجُلٌ فِي الْإِسْلَامِ بِغَيْرِ الْعُدُولِ.
و حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ لَا تَجُوزُ شَهَادَةُ خَصْمٍ وَلَا ظَنِيْنٍ.
রাবিয়া ইব্নু আবি আবদির রহমানথেকে বর্ণিতঃ
উমার (রা)-এর দরবারে ইরাক হতে এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি এমন এক ব্যাপার নিয়ে এসেছি যার কোন আগ-পাছ কিছুই নেই। উমার (রা) বললেন, “তা কি?” সে বলল, আমাদের দেশে মিথ্যা সাক্ষ্য ছড়িয়ে পড়েছে। উমার (রা) বললেন, তুমি কি সত্যই বলছ? সে বলল, হ্যাঁ, তখন উমার (রা) বললেন, ভবিষ্যতে নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য ব্যতীত কোন মুসলমানকে কয়েদ করা যাবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (রা) বলেন উমার (রা) বলেন যে, শত্র“ এবং দ্বীনের ব্যাপারে দোষারোপ করা হয়েছে এমন লোকদের সাক্ষ্য জায়েয হবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (রা) বলেন উমার (রা) বলেন যে, শত্র“ এবং দ্বীনের ব্যাপারে দোষারোপ করা হয়েছে এমন লোকদের সাক্ষ্য জায়েয হবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
৩৬/৩ পরিচ্ছেদঃ
অপবাদকারীর সাক্ষ্যের ফয়সালা করা
সুলায়মান ইব্নু ইয়াসার (র)-সহ আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, যে ব্যক্তি অপবাদের দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে কি? তারা বললেন, হ্যাঁ, যখন সে তাওবা করেছে বলে জানা যাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) বলেন যে, ইমাম জুহরী (র)-কে ঐরূপ প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনিও সুলায়মান ইব্নু ইয়াসারের মতো উত্তর দিয়েছিলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) বলেন আমার মতও অনুরূপ, “কেননা আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন যে, যে ব্যক্তি নেককার স্ত্রীলোকের উপর মিথ্যা অপবাদ দেয় এবং চারজন সাক্ষী হাযির করতে না পারে তবে তাদেরকে আশি দোররা মার, অতঃপর কোন সময়ই তার সাক্ষ্য কবুল করো না, কেননা, এরাই পাপাচারী। হ্যাঁ, পরে যারা তাওবা করে নেয় এবং সংশোধন হয়ে যায় তবে আল্লাহ্ নিশ্চয়ই ক্ষমাকারী ও দয়াবান”। (সূরা নূর আয়াত ৪)
মালিক (র) বলেন, এই ব্যাপারে আমাদের নিকট কোন মতভেদ নেই যে, যার উপরে অপবাদের শাস্তি হয়েছে অতঃপর সংশোধন হয়েছে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা যায় এবং আমি যা এই ব্যাপারে জেনেছি, তার মধ্যে এটাই খুব পছন্দনীয় কথা।
৩৬/৪ পরিচ্ছেদঃ
সাক্ষীসহ কসমের সাথে ফয়সালা
১৪০২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকو عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَتَبَ إِلَى عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ وَهُوَ عَامِلٌ عَلَى الْكُوفَةِ أَنْ اقْضِ بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ.
আবূ যিনাদ (র)থেকে বর্ণিতঃ
উমার ইব্নু আবদিল আযীয (র) কুফার শাসনকর্তা আবদুল হামিদ ইব্নু আবদির রহমানকে লিখে পাঠালেন যে, (এক) সাক্ষীর সাথে কসম গ্রহণ করে ফয়সালা করে নিতে পার। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
১৪০১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকقَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ.
জাফর সাদিক (র) তার পিতা মুহাম্মাদ (র)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষী ও কসমের উপর ফয়সালা করেছেন। (সহীহ, ইমাম মুসলিম মুত্তাসিল সনদে ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন ১৭১২, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)