১
যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন, ঈদ, কুরবানি ও আইয়ামে তাশরীকের দিনসমূহ
লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৩
যবেহ করার সময় যে সকল বিষয় লক্ষণীয়:
[১] যা যবেহ করা হবে তার সাথে সুন্দর আচরণ করতে হবে, তাকে আরাম দিতে হবে। যাতে সে কষ্ট না পায় সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। হাদীসে এসেছে: শাদ্দাদ ইবন আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إن الله كتب الإحسان على كل شيء، فإذا قتلتم فأحسنوا القتل، وإذا ذبحتم، فأحسنوا الذبح، وليحد أحدكم شفرته، فليرح ذبيحته » .
“আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সকল বিষয়ে সকলের সাথে সুন্দর ও কল্যাণকর আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব, তোমরা যখন হত্যা করবে তখন সুন্দরভাবে করবে আর যখন যবেহ করবে তখনও তা সুন্দরভাবে করবে। তোমাদের একজন যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং যা যবেহ করা হবে তাকে যেন প্রশান্তি দেয়”। [সহী মুসলিম, হাদীস নং ১৯৫৫।]
[২] যদি উট যবেহ করতে হয় তবে তা নহর করবে। নহর হলো উটটি তিন পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকবে আর সম্মুখের বাম পা বাধা থাকবে। তার বুকে ছুরি চালানো হবে। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন:
﴿فَٱذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ عَلَيۡهَا صَوَآفَّۖ ٣٦﴾ [ الحج : ٣٦ ]
“সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান অবস্থায় তাদের ওপর তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর।” [সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৩৬]
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, এর অর্থ হলো তিন পায়ে দাঁড়িয়ে থাকবে আর সামনের বাম পা বাধা থাকবে।
উট ছাড়া অন্য জন্তু হলে তা তার বাম কাতে শোয়াবে। ডান হাত দিয়ে ছুরি চালাবে। বাম হাতে জন্তুর মাথা ধরে রাখবে। মোস্তাহাব হলো যবেহকারী তার পা জন্তুটির ঘারে রাখবে। যেমন ইতোপূর্বে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত বুখারীর হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে।
[৩] যবেহ করার সময় বিসমিল্লাহ বলতে হবে। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,
﴿فَكُلُواْ مِمَّا ذُكِرَ ٱسۡمُ ٱللَّهِ عَلَيۡهِ إِن كُنتُم بَِٔايَٰتِهِۦ مُؤۡمِنِينَ ١١٨﴾ [ الانعام : ١١٨ ]
“যার ওপর আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ) উচ্চারণ করা হয়েছে তা থেকে তোমরা আহার কর।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১১৮] যবেহ করার সময় তাকবীর বলা মোস্তাহাব। যেমন হাদীসে এসেছে: জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
«... وأتى بكبش ذبحه رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده وقال : «بِسْمَ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُمَّ هَذَا عَنِّيْ وَعَمَّنْ لَمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِيْ» .
“...একটি দুম্বা আনা হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে যবেহ করলেন এবং বললেন ‘বিসমিল্লাহ ওয়া আল্লাহু আকবর, হে আল্লাহ! এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মাঝে যারা কুরবানি করতে পারে নি তাদের পক্ষ থেকে।” [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ২৮১০।] অন্য হাদীসে এসেছে:
«ضحى رسول الله- صلى الله عليه وسلم- بكبشين أملحين أقرنين، ويسمى ويكبر» .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি শিং ওয়ালা ভেড়া যবেহ করলেন, তখন বিসমিল্লাহ ওয়া আল্লাহু আকবার বললেন।” [দারেমী, হাদীস নং ১৯৮৮।] যবেহ করার সময় বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবর পাঠের পর— اللّهُمَّ هَذَا مِنْكَ وَلَكَ —[হে আল্লাহ এটা তোমার তরফ থেকে, তোমারই জন্য] বলা যেতে পারে। যার পক্ষ থেকে কুরবানি করা হচ্ছে তার নাম উল্লেখ করে দো‘আ করা জায়েয আছে। এ ভাবে বলা -‘হে আল্লাহ তুমি অমুকের পক্ষ থেকে কবুল করে নাও।’ যেমন হাদীসে এসেছে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানির দুম্বা যবেহ করার সময় বললেন:
«بِسْمِ اللهِ، اَللّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ، وَآلِ مُحَمَّدٍ، وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ»
“আল্লাহ নামে, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তার উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করে নিন।” [সহী মুসলিম, হাদীস নং ১৯৬৭]
«إن الله كتب الإحسان على كل شيء، فإذا قتلتم فأحسنوا القتل، وإذا ذبحتم، فأحسنوا الذبح، وليحد أحدكم شفرته، فليرح ذبيحته » .
“আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সকল বিষয়ে সকলের সাথে সুন্দর ও কল্যাণকর আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব, তোমরা যখন হত্যা করবে তখন সুন্দরভাবে করবে আর যখন যবেহ করবে তখনও তা সুন্দরভাবে করবে। তোমাদের একজন যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং যা যবেহ করা হবে তাকে যেন প্রশান্তি দেয়”। [সহী মুসলিম, হাদীস নং ১৯৫৫।]
[২] যদি উট যবেহ করতে হয় তবে তা নহর করবে। নহর হলো উটটি তিন পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকবে আর সম্মুখের বাম পা বাধা থাকবে। তার বুকে ছুরি চালানো হবে। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন:
﴿فَٱذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ عَلَيۡهَا صَوَآفَّۖ ٣٦﴾ [ الحج : ٣٦ ]
“সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান অবস্থায় তাদের ওপর তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর।” [সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৩৬]
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, এর অর্থ হলো তিন পায়ে দাঁড়িয়ে থাকবে আর সামনের বাম পা বাধা থাকবে।
উট ছাড়া অন্য জন্তু হলে তা তার বাম কাতে শোয়াবে। ডান হাত দিয়ে ছুরি চালাবে। বাম হাতে জন্তুর মাথা ধরে রাখবে। মোস্তাহাব হলো যবেহকারী তার পা জন্তুটির ঘারে রাখবে। যেমন ইতোপূর্বে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত বুখারীর হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে।
[৩] যবেহ করার সময় বিসমিল্লাহ বলতে হবে। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,
﴿فَكُلُواْ مِمَّا ذُكِرَ ٱسۡمُ ٱللَّهِ عَلَيۡهِ إِن كُنتُم بَِٔايَٰتِهِۦ مُؤۡمِنِينَ ١١٨﴾ [ الانعام : ١١٨ ]
“যার ওপর আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ) উচ্চারণ করা হয়েছে তা থেকে তোমরা আহার কর।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১১৮] যবেহ করার সময় তাকবীর বলা মোস্তাহাব। যেমন হাদীসে এসেছে: জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
«... وأتى بكبش ذبحه رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده وقال : «بِسْمَ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُمَّ هَذَا عَنِّيْ وَعَمَّنْ لَمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِيْ» .
“...একটি দুম্বা আনা হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে যবেহ করলেন এবং বললেন ‘বিসমিল্লাহ ওয়া আল্লাহু আকবর, হে আল্লাহ! এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মাঝে যারা কুরবানি করতে পারে নি তাদের পক্ষ থেকে।” [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ২৮১০।] অন্য হাদীসে এসেছে:
«ضحى رسول الله- صلى الله عليه وسلم- بكبشين أملحين أقرنين، ويسمى ويكبر» .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি শিং ওয়ালা ভেড়া যবেহ করলেন, তখন বিসমিল্লাহ ওয়া আল্লাহু আকবার বললেন।” [দারেমী, হাদীস নং ১৯৮৮।] যবেহ করার সময় বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবর পাঠের পর— اللّهُمَّ هَذَا مِنْكَ وَلَكَ —[হে আল্লাহ এটা তোমার তরফ থেকে, তোমারই জন্য] বলা যেতে পারে। যার পক্ষ থেকে কুরবানি করা হচ্ছে তার নাম উল্লেখ করে দো‘আ করা জায়েয আছে। এ ভাবে বলা -‘হে আল্লাহ তুমি অমুকের পক্ষ থেকে কবুল করে নাও।’ যেমন হাদীসে এসেছে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানির দুম্বা যবেহ করার সময় বললেন:
«بِسْمِ اللهِ، اَللّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ، وَآلِ مُحَمَّدٍ، وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ»
“আল্লাহ নামে, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তার উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করে নিন।” [সহী মুসলিম, হাদীস নং ১৯৬৭]