১
যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন, ঈদ, কুরবানি ও আইয়ামে তাশরীকের দিনসমূহ
লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৬
আইয়ামুত তাশরীক এর ফযীলত:
এ দিনগুলোর ফযীলত সম্পর্কে যে সকল বিষয় এসেছে তা নিচে আলোচনা করা হলো:
[১] এ দিনগুলো ইবাদত-বন্দেগি, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জিকির ও তার শুকরিয়া আদায়ের দিন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ فِيٓ أَيَّامٖ مَّعۡدُودَٰتٖۚ ٢٠٣﴾ [ البقرة : ٢٠٣ ]
“তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করবে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২০৩] এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
«الأيام المعدودات : أيام التشريق» .
“নির্দিষ্ট দিনগুলো বলতে আইয়ামুত-তাশরীককে বুঝানো হয়েছে।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০।]
ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন: ইবন আব্বাসের এ ব্যাখ্যা গ্রহণে কারো কোনো দ্বি-মত নেই। আর মূলত এ দিনগুলো হজের মওসুমে মিনাতে অবস্থানের দিন। কেননা হাদীসে এসেছে:
«... أيام منى ثلاثة : فمن تعجل في يومين فلا إثم عليه ومن تأخر فلا إثم عليه» .
“মিনায় অবস্থানের দিন হলো তিন দিন। যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দু দিনে চলে আসে তবে তার কোনো পাপ নেই। আর যদি কেউ বিলম্ব করে তবে তারও কোনো পাপ নেই”। [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ১৯৪৯।] হাদীসে এসেছে: নাবীশা হাজালী থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«أيام التشريق أيام أكل وشرب وذكر الله»
“আইয়ামুত-তাশরীক হলো খাওয়া-দাওয়া ও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের যিকিরের দিন।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৪১।]
ইমাম ইবন রজব রহ. এ হাদীসের ব্যাখ্যায় চমৎকার কথা বলেছেন। তিনি বলেন: আইয়ামুত-তাশরীক এমন কতগুলো দিন যাতে ঈমানদারদের দেহের নি‘আমত ও স্বাচ্ছন্দ্য এবং মনের নি‘আমত তথা স্বাচ্ছন্দ্য একত্র করা হয়েছে। খাওয়া-দাওয়া হলো দেহের খোরাক আর আল্লাহর যিকির ও শুকরিয়া হলো হৃদয়ের খোরাক। আর এভাবেই নি‘আমতের পূর্ণতা লাভ করল এ দিনসমূহে।
[২] আইয়ামুত-তাশরীকের দিনগুলো ঈদের দিন হিসেবে গণ্য। যেমন হাদীসে এসেছে: উকবাহ ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«يوم عرفة، ويوم النحر، وأيام منى عيدنا أهل الإسلام، وهي أيام أكل وشرب» .
“আরাফা দিবস, কুরবানির দিন ও মিনার দিনসমূহ (কুরবানি পরবর্তী তিন দিন) আমাদের ইসলাম অনুসারীদের ঈদের দিন।” [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ২৪১৩।]
[৩] এ দিনসমূহ যিলহজ মাসের প্রথম দশকের সাথে লাগানো। যে দশক খুবই ফযীলতপূর্ণ। তাই এ কারণেও এর যথেষ্ট মর্যাদা রয়েছে।
[৪] এ দিনগুলোতে হজের কতিপয় আমল সম্পাদন করা হয়ে থাকে। এ কারণেও এ দিনগুলো ফযীলতের অধিকারী।
[১] এ দিনগুলো ইবাদত-বন্দেগি, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জিকির ও তার শুকরিয়া আদায়ের দিন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ فِيٓ أَيَّامٖ مَّعۡدُودَٰتٖۚ ٢٠٣﴾ [ البقرة : ٢٠٣ ]
“তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করবে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২০৩] এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
«الأيام المعدودات : أيام التشريق» .
“নির্দিষ্ট দিনগুলো বলতে আইয়ামুত-তাশরীককে বুঝানো হয়েছে।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০।]
ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন: ইবন আব্বাসের এ ব্যাখ্যা গ্রহণে কারো কোনো দ্বি-মত নেই। আর মূলত এ দিনগুলো হজের মওসুমে মিনাতে অবস্থানের দিন। কেননা হাদীসে এসেছে:
«... أيام منى ثلاثة : فمن تعجل في يومين فلا إثم عليه ومن تأخر فلا إثم عليه» .
“মিনায় অবস্থানের দিন হলো তিন দিন। যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দু দিনে চলে আসে তবে তার কোনো পাপ নেই। আর যদি কেউ বিলম্ব করে তবে তারও কোনো পাপ নেই”। [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ১৯৪৯।] হাদীসে এসেছে: নাবীশা হাজালী থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«أيام التشريق أيام أكل وشرب وذكر الله»
“আইয়ামুত-তাশরীক হলো খাওয়া-দাওয়া ও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের যিকিরের দিন।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৪১।]
ইমাম ইবন রজব রহ. এ হাদীসের ব্যাখ্যায় চমৎকার কথা বলেছেন। তিনি বলেন: আইয়ামুত-তাশরীক এমন কতগুলো দিন যাতে ঈমানদারদের দেহের নি‘আমত ও স্বাচ্ছন্দ্য এবং মনের নি‘আমত তথা স্বাচ্ছন্দ্য একত্র করা হয়েছে। খাওয়া-দাওয়া হলো দেহের খোরাক আর আল্লাহর যিকির ও শুকরিয়া হলো হৃদয়ের খোরাক। আর এভাবেই নি‘আমতের পূর্ণতা লাভ করল এ দিনসমূহে।
[২] আইয়ামুত-তাশরীকের দিনগুলো ঈদের দিন হিসেবে গণ্য। যেমন হাদীসে এসেছে: উকবাহ ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«يوم عرفة، ويوم النحر، وأيام منى عيدنا أهل الإسلام، وهي أيام أكل وشرب» .
“আরাফা দিবস, কুরবানির দিন ও মিনার দিনসমূহ (কুরবানি পরবর্তী তিন দিন) আমাদের ইসলাম অনুসারীদের ঈদের দিন।” [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ২৪১৩।]
[৩] এ দিনসমূহ যিলহজ মাসের প্রথম দশকের সাথে লাগানো। যে দশক খুবই ফযীলতপূর্ণ। তাই এ কারণেও এর যথেষ্ট মর্যাদা রয়েছে।
[৪] এ দিনগুলোতে হজের কতিপয় আমল সম্পাদন করা হয়ে থাকে। এ কারণেও এ দিনগুলো ফযীলতের অধিকারী।