রাসূলগণের প্রতি ঈমান বলতে কতিপয় বিশ্বাসকে বোঝায়:
১. বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ বলেন :
﴿وَإِن مِّنۡ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٞ ٢٤ ﴾ [
فاطر :
٢٤ ]
“কোনো জাতি নেই যে তার কাছে সর্তককারী প্রেরণ করা হয় নি। [সূরা ফাতির, আয়াত: ২৪]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
﴿ وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا﴾ [
النحل :
٣٦ ]
“আর অবশ্যই আমরা প্রত্যেক জাতির কাছে রাসূল প্রেরণ করেছি।” [
সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬]
২. নবীগণ আল্লাহর কাছ থেকে যা প্রাপ্ত হয়েছেন, তার ব্যাপারে ছিলেন পূর্ণ
সত্যবাদী- এ ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন। তাদের সবার দীন ছিল ইসলাম। তাদের আহ্বান ছিল একত্ববাদ। তাদের যে কোনো একজনের রিসালাতকে অস্বীকার এবং মিথ্যা মনে করার অর্থ হচ্ছে সকলের রিসালাত অস্বীকার এবং সকলের প্রতি মিথ্যারোপ করা।
৩. এ অভিমত পোষণ করা যে, তারা হলেন নেককার, পরহেজগার রাসূল। আল্লাহ তাদের
উত্তম চরিত্র এবং প্রশংসনীয় গুণাবলী দ্বারা সুশোভিত করেছেন। তাদের কাছে প্রেরিত অহীর সবটুকুই তারা মানুষকে অবগত করিয়েছেন। সামান্যতম গোপনতা, বৃদ্ধি ও কিংবা বিকৃতির আশ্রয় তারা নেন নি।
৪. কুরআনুল কারীমে এবং বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত তাদের যে সকল নাম আমরা জানি যেমন, নূহ, ইব্রাহীম, মূসা, ঈসা, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- তা বিশ্বাস করা এবং যে সকল নাম আমরা অবগত নই, তাও সাধারণভাবে বিশ্বাস করা।
৫. কুরআনুল কারীম এবং বিশুদ্ধ হাদীসে তাদের সম্পর্কে যে সকল বর্ণনা এসেছে তা গ্রহণ করা।
৬. তাদের মধ্য হতে যাকে আমাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে তার শরীয়ত অনুসারে জীবন যাপন করা। তিনি হলেন শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
৭. বিশ্বাস করা যে, তাদের একে অপরের মর্যাদার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন উলুল আযমবৃন্দ: নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার কতিপয়কে আল্লাহ তা‘আলা বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। যেমন, ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ কর্তৃক তাঁর বন্ধু বলে সম্বোধন করা, মূসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলা, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ করা, ইবরাহীমের মতো তাকেও বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা এবং মি‘রাজের রজনীতে তার সাথে কথোপকথন ইত্যাদি।
৮. বিশ্বাস করা যে, কেউ নবী হওয়া তার আপন ইচ্ছাধীন নয়; বরং আল্লাহর ইচ্ছাধীন। কেউ নিজের চেষ্টায় নবী হতে পারবে না। নবুওয়াতপ্রাপ্তির ধারাবাহিকতা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের মধ্য দিয়ে শেষ এবং পরিসমাপ্তি ঘটেছে।