hadith book logo

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রয়োজনীয় দো‘আর এক অনবদ্য সংকলন আল-হিসনুল ওয়াকী

লেখকঃ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আল-সাদহান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬

প্রতিদিনের সংক্ষিপ্ত আমল

আমল> নিয়ম > ফযীলত

আয়াতুল কুরসী পড়া > সকাল-সন্ধ্যায় একবার, ঘুমের সময় একবার, প্রত্যেক ফরয সালাতের পর একবার > হিফাযতকারী ফিরিশতা নিয়োগ, শয়তানকে ঘর থেকে দূরকারী, জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম।

সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া। > সকালে অথবা বিকালে একবার অথবা ঘরে পড়া। > সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা ও তিনদিনের জন্য শয়তানকে ঘর থেকে দূরকারী।

(সূরা আল-ইখলাস ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ) মু‘আউওয়াযাতাইন) সূরা নাস ও ফালাক পড়া। > সকাল-বিকাল তিনবার, ঘুমের সময় একবার, প্রত্যেক ফরয সালাতের পর একবার। > সবকিছুর অনিষ্ট থেকে রক্ষা ও জিন্ন ইনসানের ক্ষতি থেকে হিফাযত।

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ . > সকালে তিনবার, বিকালে তিনবার পড়া। > সকল খারাবী থেকে হিফাযত ও আকস্মিক বিপদ আসার প্রতিবন্ধক।

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ . > সন্ধ্যায় তিনবার, কোনো স্থানে নেমে একবার পড়া। > স্থানের সবপ্রাণীর ক্ষতি থেকে হিফাযত ও বিচ্ছুর বিষনাশক।

حسبي الله لا إله إلا هو عليه توكلت وهو رب العرش العظيم . > সকালে সাতবার, বিকালে সাত বার পড়া। > দুনিয়া ও আখিরাতের চিন্তার জন্য যথেষ্ট।

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا . > সকালে একবার, বিকালে একবার।> আল্লাহ তা‘আলার ওপর জরুরি হয়ে যায় যে, কিয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করে দিবেন।

لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَلَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيءٍ قُدِيْرٌ . > সকালে দশবার, সন্ধ্যায় দশবার, দিনে ১০০ বার তার চেয়ে বেশি।> ১০০ নেকী লেখা হয়, ১০০ গুনাহ মাফ করা হয়, ১০টি গোলাম আযাদ করার সমান সাওয়াব লাভ হয় এবং বিপদ থেকে বড় সুরক্ষা।

لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَلَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الحَمدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ حَيٌّ لَا يَمُوْتُ بِيَدِهِ الخَيْرَُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ . > বাজারে প্রবেশের সময় একবার পড়া। > ১০ লক্ষ নেকী লেখা হয়, ১০ লক্ষ গুনাহ মাফ হয়। অপর বর্ণনায় রয়েছে জান্নাতে তার জন্য একটি মহল তৈরি করা হয়।

اَلَّلهُمَّ إِنِّيْ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْحُزْنِ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ الْعَجْزِ وَالِكَسْلِ وَأَعُوّْذُبِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبَخْلِ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ . > সকালে একবার, বিকালে একবার পড়া। > চিন্ত-পেরেশানী দূর হয়ে যাবে এবং ঋণ মুক্ত থাকবে।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বেশি বেশি দুরূদ পড়া। সর্বোত্তম হলো, দুরূদে ইবরাহীম অর্থাৎ যে দুরূদ সালাতে পড়া হয়। > বেশির কোনো সীমা নেই, সর্বনিম্ন হলো-সকালে দশবার বিকালে দশবার > চিন্তা ও গুনাহ মাফের জন্য যথেষ্ট হবে এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা‘আত লাভ হবে।

বিসমিল্লাহ পড়া। > প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের পূর্বে পড়া। > শয়তানের ক্ষতি থেকে হিফাযত এবং বরকত অর্জনের মাধ্যম।

بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَلْتُ عَلَى اللَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِاللّهِ . > ঘর থেকে বের হওয়ার সময় একবার। > কাজ সমাধা হয়ে যাবে, বিপদ থেকে বেঁচে থাকবে এবং শয়তান থেকে হিফাযত হবে।

أعُوْذُ بِاللَّهِ العَظِيْمِ وَبِوَجْهِهِ الكَرِيْمِ وَسُلْطَانِهِ القَدِيْمِ مِنَ الشَيْطَانِ الرَّجِيْمِ . > মসজিদে প্রবেশের সময় একবার। > সারাদিন শয়তান থেকে হিফাযত।

ইস্তেগফার পড়া

أسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِيْ لَا إلَهَ إلّأ هُوَ الحَيُّ القَيُّوْمُ وَأتُوْبَ إلَيْهِ . > যত বেশি সম্ভব পড়া। > চিন্তা দূর হবে, রুজী প্রাপ্ত হবে, আল্লাহর ‘আযাব থেকে নিরাপদ থাকবে।

لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِاللّه . > পরিমাণ নির্ধারণ ছাড়া যত বেশি পারা যায় পড়তে থাকা। > জান্নাতের ভাণ্ডার সমূহের একটি ভাণ্ডার এবং ৯৯টি রোগের ঔষধ, সর্বনিম্ন হলো চিন্তা।

নিয়মিত গুরুত্বের সাথে মসজিদে জামা‘আতের সাথে সময় মতো সালাত আদায় করা। > খুশু, ইতমীনান, আদব ও মহব্বতের সঙ্গে। > জিন্ন-ইনসান ও শয়তানসহ সবকিছুর অনিষ্ট থেকে হিফাযত।

أَسْتَوْدِعُكَ اللَّهَ الَّذِي لَا تَضِيعُ وَدَائِعُهُ . > যে কোনো জিনিস হিফাযত করতে ইচ্ছা হয় তার উপর একবার পড়া। > সন্তান ও সম্পদ চুরি যাওয়া এবং ধ্বংস হওয়া থেকে হিফাযত।

اَلْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِيْ عَافَانِيْ مِمَّا ابْتَلاَكَ بِه وَفَضَّلَنِيْ عَلى كَثِيْرٍ خَلَقَ تَفْضِيْلاً . > কোনো বিপদগ্রস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত, দুর্ঘটনা ইত্যাদি দেখে বা শুনে একবার পড়া। > ঐ বিপদ থেকে সে নিরাপদ থাকবে।

বি.দ্র: এক. বর্ণিত সকল দো‘আগুলো সহীহ হাদীস থেকে সংগৃহীত।

দুই. প্রতিদিনের দো‘আগুলো ফজর, আসর অথবা মাগরিবের পর আদায় করা।

তিন. সূরা আল-ফাতিহার কথা বলা হয় নি। কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ফাতিহার কোনো আমল বর্ণিত নেই। তবে হ্যাঁ, চিকিৎসার কথা বর্ণিত হয়েছে, সেটা হলো প্রয়োজন।

এমন কিছু বিশেষ আমল যার ওপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরাট সাওয়াব ও পুরস্কারের কথা উল্লেখ করেছেন