hadith book logo

কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর অর্থ, শর্তসমূহ এবং ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে তার প্রভাব

লেখকঃ শায়খ সালেহ ইবন ফাওযান আলে-ফাওযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

এ কালেমার ব্যাকরণগত আলোচনা, এর স্তম্ভ ও শর্তসমূহ: এ কালেমার ব্যাকরণগত আলোচনা:

যেহেতু অনেক বাক্যের অর্থ বুঝা নির্ভর করে তার ব্যকরণগত আলোচনার উপর, সেহেতু ওলামায়ে কেরাম لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এই বাক্যের ব্যকরণগত আলোচনার প্রতি তাঁদের দৃষ্টি নিবন্ধ করেছেন এবং তারা বলেছেন যে, এই বাক্যে لا শব্দটি ‘নাফিয়া লিল জিন্‌স’ (সমগোত্রীয় অর্থ নিষিদ্ধকারী নিষেধসূচক বাক্য) এবং إِله (ইলাহ) শব্দটি এর ইসম (উদ্দেশ্য), মাবনি আলাল ফাতহ্ (যা সর্বাবস্থায় ফাতহ বা যবর বিশিষ্ট হয়)। আর এর খবরটি এখানে উহ্য, যা হচ্ছে حق শব্দটি। অর্থাৎ কোনো হক বা সত্য ইলাহ নেই। إِلاَّ اللهُ হচ্ছে খবর, (বিধেয়) যা মারফু (পেশ হওয়ার স্থানে; কারণ তা) حق শব্দ থেকে ইসতেসনা বা ভিন্নতর। অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত হক বা সত্য ইলাহ বলতে কেউ নেই।

إِلهَ শব্দের অর্থ ‘মা‘বুদ’ আর তিনি হচ্ছেন ঐ সত্ত্বা যে সত্ত্বার প্রতি কল্যাণের আশায় এবং অকল্যান থেকে বাঁচার জন্য হৃদয়ের আসক্তি সৃষ্টি হয় এবং মন তার উপাসনা করে।

এখানে কেউ যদি মনে করে যে, উক্ত খবরটি হচ্ছে ‘মাউজুদুন’ বা ‘মা‘বুদুন’ অথবা এ ধরনের কোনো শব্দ তা হলে এটা হবে অত্যন্ত ভুল। কারণ, বাস্তব তো এই যে, আল্লাহ ব্যতীত অনেক মা‘বুদ বিদ্যমান রয়েছে যেমন মূর্তি, মাজার ইত্যাদি। তবে আল্লাহ হচ্ছে সত্য মা‘বুদ, আর তিনি ব্যতীত অন্য যত মা‘বুদ রয়েছে বা অন্য যেগুলোর ইবাদত করা হয় তা হচ্ছে অসত্য ও ভ্রান্ত। আর এটাই হচ্ছে لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এর না বাচক ও হাঁ বাচক এ দুই স্তম্ভের মূল দাবী।