hadith book logo

বৈধ ও অবৈধ অসীলা

লেখকঃ ডক্টর আব্দুস সালাম বারজাস আল আব্দুল করীম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ অসীলা

অসীলার প্রকারগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় প্রকার শুরু করতে যাচ্ছি, আর সেটি হচ্ছে, শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ অসীলা:

তা হলো প্রতিটি সেই অসীলা কুরআন বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস থেকে যার কোনো দলীল নেই।

এর উদাহরণের ক্ষেত্রে আমি দো‘আর সহিত সম্পৃক্ত উদাহরণগুলোই সীমাবদ্ধ রাখব, কেননা অবৈধ অসীলাগুলো যেমন: আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সৎলোক এবং নবী রাসূলগণের দোহাই দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। যেমন এ কথা বলা যে, হে আল্লাহ, আমি তোমার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসীলায় বা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর অসীলায় বা অমুক শাইখের অসীলায় বলছি, তুমি আমার পাপগুলো ক্ষমা করে আমাকে অনুগ্রহ কর।

এমনিভাবে কোনো পবিত্র ভূমি এবং কোনো ভালো সময়কে অসীলা করা। যেমন: এ কথা বলা যে, হে আল্লাহ আমি কা‘বার অসীলায় এবং রমাযান ও কদরের রাত্রির অসীলায় প্রার্থনা করছি, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও ইত্যাদি।

উল্লেখিত সবগুলো পদ্ধতিই শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম। এবং তা সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিদয়াত। কারণ এর কোনোটাই জায়েয হওয়ার উপর কুরআন হাদীসের দলীল প্রমাণ নেই।

কুরআন হাদীস এবং এ উম্মতের সালাফদের থেকে যত অসীলা এসেছে এর কোনটাতেই এমন কোনো অসীলা নেই, যাতে কোনো সৃষ্টির দোহাই দিয়ে আল্লাহর নিকট চাওয়া হয়েছে। এটি উম্মতের অধিকাংশ উলামার মত।

শাইখুল ইসলাম তার কিতাব (আল ইস্তিগাছা) এর মধ্যে বলেছেন : এখনো আমি আমার সাধ্যমত সালাফগণ, ইমামগণ এবং উলামাদের মতামত খুঁজছি যে, দো‘আর ক্ষেত্রে তাদের কেউ কি সৎলোকদের অসীলা জায়েয স্বীকৃতি দিয়েছেন? বা তাদের কেউ কি এরূপ করেছেন? এর কোনো কিছুই পাইনি ।

এরপর আবু মুহাম্মদ ইবন আব্দুস সালাম-এর ফাতওয়াগুলো দেখেছি, তিনি ফাতওয়া দিয়েছেন যে, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত কারো অসীলা জায়েয নেই, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসীলা জায়েয হওয়ার জন্যও শর্ত হচ্ছে যে, এ ব্যাপারে বর্ণিত সহীহ হাদীস থাকতে হবে।)

বস্তুত আবু মুহাম্মদ যা বলেছেন সেটি সহীহ নয়, কেননা তার পূর্বে সালাফদের কেউ এ কথা বলেননি। তাছাড়া এ মাসআলায় তার উল্লেখ করা দলীলও স্পষ্ট নয়, সামনে তা আসবে, বরং তিনি যা বলেছেন একথার কোনো প্রমাণ নেই।

আলেমগণ কোনো ব্যক্তির সত্তাকে অসীলা করার কঠোর নিন্দা করেছেন।

ইমাম আবু হানিফা (রাহমতুল্লাহ আলাই্হি) বলেন: “কারও জন্য এটা জায়েয নেই [ইমাম আবু হানিফা রহ. এর শব্দ হচ্ছে, ‘লা ইয়াম্বাগী’। এ শব্দটি পূর্ববর্তী ইমাম ও মনিষীদের নিকট না জায়েয ও কাজটি করা মুমিনের পক্ষে অসম্ভব এ ধরনের অর্থ বোঝাতো। [সম্পাদক]] যে, সে আল্লাহকে তাঁর নিজ সত্তা ব্যতীত অন্য কারও অসীলা দিয়ে ডাকবে।”

এ ব্যাপারে অনুমোদিত দো‘আ হলো সেই নির্দেশিত দো‘আ, যা আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী থেকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন,

﴿ وَلِلَّهِ ٱلۡأَسۡمَآءُ ٱلۡحُسۡنَىٰ فَٱدۡعُوهُ بِهَاۖ ﴾ [ الاعراف : ١٨٠ ]

“আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে তোমরা তা দ্বারা তাঁকে ডাক।” [সূরা আল-আ‘রাফ: ১৮০]

আবু ইউসুফ (রহমতুল্লাহ আলাইহি) বলেন: আমি হারাম মনে করি [ইমাম আবু ইউসুফ, ‘আকরাহু’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। পূর্ববর্তী ইমামগণ ‘আকরাহু’ শব্দ দ্বারা হারাম বোঝাতেন। এর জন্য দেখুন, ইবনুল কাইয়্যেম এর কিতাব ই‘লামুল মুওয়াক্কে‘য়ীন। [সম্পাদক]] যে কেউ বলুক: বে হক্কে ফুলান (অমুকের অধিকারের অসীলায়), বা ‘বে হক্কে আম্বিয়ায়েকা ও রুসুলিকা’ (তোমার নবী ও রাসূলগণের অধিকারের অসীলায়) এবং বে ‘হক্কিল বাইতুল হারাম ওয়াল মাশআরিল হারাম (বাইতুল হারাম ও মাশ‘আরিল হারামের হক্কের অসীলায়)।

কুদুরী বলেন: কোনো সৃষ্টির মাধ্যম দিয়ে কোনো কিছু চাওয়া জায়েয নেই, কারণ শ্রষ্টার উপর সৃষ্টির কোনো হক্ব নেই বিধায় তা সবার ঐকমত্যে জায়েয হবে না।

এগুলো হানাফী আলেমগণের মত, শুধু আমরাই সৃষ্টির সত্তাকে অসীলা করা বা তার বরাত দিয়ে চাওয়া হারাম বলি না, রবং আমাদের পূর্বেকার আলেমগণের মতও তাই। যদি এ পুস্তিকাটির কলেবর বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে তবে যেমনিভাবে ইমাম আবু হানিফা এবং তার সহচরদের মতামত ও দলীলগুলো পেশ করেছি, তেমনি ভাবে আমি অন্যান্য পূর্বসূরী ইমামগণের মতামত ও দলীলগুলোও পেশ করতাম।