১
কুরআন ও সুন্নাহ্র আলোকে জান্নাত ও জাহান্নাম
লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন সাঈদ বিন আলী বিন ওহাফ আল-কাহতানী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের সংজ্ঞা ও নামসমূহ:
অভিধানে نار – (নার) শব্দের অর্থ: আগুন যা মানুষ দেখতে পায়, প্রচণ্ড আগুনের তাপ অথবা এমন তাপ যা জ্বালিয়ে দেয়। আল্লাহর বাণীতে উল্লেখিত আগুনকেও نار বলা হয়ে থাকে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, ﴿ٱلنَّارُ وَعَدَهَا ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْۖ ٧٢﴾ [ الحج : ٧٢ ]
“সেটা আগুন। যারা কুফরী করে, আল্লাহ তাদেরকে এর ওয়াদা দিয়েছেন”( [.সূরা আল-হজ, আয়াত: ৭২।]) ।
আর نار শব্দের বহু বচন أنْوُرٌ - نيران - أنيار ( [.কামুসুল মুহিত, পৃ: ৬২৮,৬৩০ মু’জামুল ওসিত, ২৯২/২, আল্লামা ইসফাহানী, মুফরাদাতু আলফাজিল কুরআন পৃ: ৮২৮।]).
আর পরিভাষায় نار শব্দের অর্থ: যারা আল্লাহর নাফরমানি করে তাদের জন্য যে আগুন তৈরি করে রাখা হয়েছে, তাকে نار বা জাহান্নাম বলা হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَكَذَّبُواْ بَِٔايَٰتِنَآ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٣٩﴾ [ البقرة : ٣٩ ]
“আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে” [.সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৩৯]।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরও বলেন,
﴿ إِنَّ ٱللَّهَ لَعَنَ ٱلۡكَٰفِرِينَ وَأَعَدَّ لَهُمۡ سَعِيرًا ٦٤ ﴾ [ الاحزاب : ٦٤ ] .
“নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে লা‘নত করেছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন”( [. সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৬৪।])।
জাহান্নামের নামসমূহ: [আল্লাহর নিকট আমরা জাহান্নাম হতে আশ্রয় চাই]
১- নার: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿ٱلنَّارُ وَعَدَهَا ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْۖ ٧٢﴾ [ الحج : ٧٢ ]
“সেটা আগুন। যারা কুফরী করে, আল্লাহ তাদেরকে এর ওয়াদা দিয়েছেন” ( [. সূরা আল-হজ্জ, আয়াত: ৭২।]).।
২- জাহান্নাম: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿ إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتۡ مِرۡصَادٗا ٢١ ﴾ [ النبا : ٢١ ]
“নিশ্চয় জাহান্নাম গোপন ফাঁদ”( [. সূরা নাবা আয়াত: ২১, ২২।]).।
৩- জাহীম: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿ وَبُرِّزَتِ ٱلۡجَحِيمُ لِمَن يَرَىٰ ٣٦ ﴾ [ النازعات : ٣٦ ]
“আর জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে তার জন্য যে দেখতে পায়” ( [. সূরা আন-নাজেয়াত, আয়াত: ৩৬।]).।
৪-সায়ীর: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿فَرِيقٞ فِي ٱلۡجَنَّةِ وَفَرِيقٞ فِي ٱلسَّعِيرِ ٧ ﴾ [ الشورى : ٧ ] “একদল থাকবে জান্নাতে আরেক দল জ্বলন্ত আগুনে” [. সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৭।]।
৫-সাকার: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿ وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا سَقَرُ ٢٧ لَا تُبۡقِي وَلَا تَذَرُ ٢٨ ﴾ [ المدثر : ٢٧، ٢٨ ]
“কিসে তোমাকে জানাবে জাহান্নামের আগুন কী? এটা অবশিষ্টও রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না” [. সূরা আল-মুদ্দাচ্ছের, আয়াত: ২৭, ২৮।]।
৬- হুতামা: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন, ﴿ كَلَّاۖ لَيُنۢبَذَنَّ فِي ٱلۡحُطَمَةِ ٤ ﴾ [ الهمزة : ٤ ] “কখনো নয়, অবশ্যই সে নিক্ষিপ্ত হবে হুতামা’য়” [. সূরা আল-হুমাজাহ, আয়াত: ৪।]।
৭- হাবিয়া: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿وَأَمَّا مَنۡ خَفَّتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٨ فَأُمُّهُۥ هَاوِيَةٞ ٩ وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا هِيَهۡ ١٠ نَارٌ حَامِيَةُۢ ١١﴾ [ القارعة : ٨، ١١ ]
“আর যার পাল্লা হালকা হবে, তার আবাস হবে হাবিয়া। আর তোমাকে কিসে জানাবে হাবিয়া কি? প্রজ্বলিত অগ্নি” [. সূরা আল-কারিয়াহ, আয়াত: ৮-১১।]। [. আল্লাহ তা’আলা বলেন, ﴿ ۞أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ بَدَّلُواْ نِعۡمَتَ ٱللَّهِ كُفۡرٗا وَأَحَلُّواْ قَوۡمَهُمۡ دَارَ ٱلۡبَوَارِ ٢٨ جَهَنَّمَ يَصۡلَوۡنَهَاۖ وَبِئۡسَ ٱلۡقَرَارُ ٢٩ ﴾ [ ابراهيم : ٢٨، ٢٩ ] তুমি কি তাদেরকে দেখ না, যারা আল্লাহর নিআমতকে কুফরী দ্বারা পরিবর্তন করেছে এবং তাদের কওমকে ধ্বংসের ঘরে নামিয়ে দিয়েছে? জাহান্নামে, যাতে তারা দগ্ধ হবে, আর তা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্থান! [সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ২৮, ২৯] আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. কুরআনে আজীমের তাফসীরে লিখেন, দারুল বাওয়ার হল জাহান্নাম ৫৩৯/২। ইমাম বগবী রহ. ও স্বীয় তাফসীরে এ কথার দিকে ইশারা করেছেন। ৫৩/৩।]
“সেটা আগুন। যারা কুফরী করে, আল্লাহ তাদেরকে এর ওয়াদা দিয়েছেন”( [.সূরা আল-হজ, আয়াত: ৭২।]) ।
আর نار শব্দের বহু বচন أنْوُرٌ - نيران - أنيار ( [.কামুসুল মুহিত, পৃ: ৬২৮,৬৩০ মু’জামুল ওসিত, ২৯২/২, আল্লামা ইসফাহানী, মুফরাদাতু আলফাজিল কুরআন পৃ: ৮২৮।]).
আর পরিভাষায় نار শব্দের অর্থ: যারা আল্লাহর নাফরমানি করে তাদের জন্য যে আগুন তৈরি করে রাখা হয়েছে, তাকে نار বা জাহান্নাম বলা হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَكَذَّبُواْ بَِٔايَٰتِنَآ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٣٩﴾ [ البقرة : ٣٩ ]
“আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে” [.সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৩৯]।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরও বলেন,
﴿ إِنَّ ٱللَّهَ لَعَنَ ٱلۡكَٰفِرِينَ وَأَعَدَّ لَهُمۡ سَعِيرًا ٦٤ ﴾ [ الاحزاب : ٦٤ ] .
“নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে লা‘নত করেছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন”( [. সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৬৪।])।
জাহান্নামের নামসমূহ: [আল্লাহর নিকট আমরা জাহান্নাম হতে আশ্রয় চাই]
১- নার: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿ٱلنَّارُ وَعَدَهَا ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْۖ ٧٢﴾ [ الحج : ٧٢ ]
“সেটা আগুন। যারা কুফরী করে, আল্লাহ তাদেরকে এর ওয়াদা দিয়েছেন” ( [. সূরা আল-হজ্জ, আয়াত: ৭২।]).।
২- জাহান্নাম: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿ إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتۡ مِرۡصَادٗا ٢١ ﴾ [ النبا : ٢١ ]
“নিশ্চয় জাহান্নাম গোপন ফাঁদ”( [. সূরা নাবা আয়াত: ২১, ২২।]).।
৩- জাহীম: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿ وَبُرِّزَتِ ٱلۡجَحِيمُ لِمَن يَرَىٰ ٣٦ ﴾ [ النازعات : ٣٦ ]
“আর জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে তার জন্য যে দেখতে পায়” ( [. সূরা আন-নাজেয়াত, আয়াত: ৩৬।]).।
৪-সায়ীর: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿فَرِيقٞ فِي ٱلۡجَنَّةِ وَفَرِيقٞ فِي ٱلسَّعِيرِ ٧ ﴾ [ الشورى : ٧ ] “একদল থাকবে জান্নাতে আরেক দল জ্বলন্ত আগুনে” [. সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৭।]।
৫-সাকার: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿ وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا سَقَرُ ٢٧ لَا تُبۡقِي وَلَا تَذَرُ ٢٨ ﴾ [ المدثر : ٢٧، ٢٨ ]
“কিসে তোমাকে জানাবে জাহান্নামের আগুন কী? এটা অবশিষ্টও রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না” [. সূরা আল-মুদ্দাচ্ছের, আয়াত: ২৭, ২৮।]।
৬- হুতামা: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন, ﴿ كَلَّاۖ لَيُنۢبَذَنَّ فِي ٱلۡحُطَمَةِ ٤ ﴾ [ الهمزة : ٤ ] “কখনো নয়, অবশ্যই সে নিক্ষিপ্ত হবে হুতামা’য়” [. সূরা আল-হুমাজাহ, আয়াত: ৪।]।
৭- হাবিয়া: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,
﴿وَأَمَّا مَنۡ خَفَّتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٨ فَأُمُّهُۥ هَاوِيَةٞ ٩ وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا هِيَهۡ ١٠ نَارٌ حَامِيَةُۢ ١١﴾ [ القارعة : ٨، ١١ ]
“আর যার পাল্লা হালকা হবে, তার আবাস হবে হাবিয়া। আর তোমাকে কিসে জানাবে হাবিয়া কি? প্রজ্বলিত অগ্নি” [. সূরা আল-কারিয়াহ, আয়াত: ৮-১১।]। [. আল্লাহ তা’আলা বলেন, ﴿ ۞أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ بَدَّلُواْ نِعۡمَتَ ٱللَّهِ كُفۡرٗا وَأَحَلُّواْ قَوۡمَهُمۡ دَارَ ٱلۡبَوَارِ ٢٨ جَهَنَّمَ يَصۡلَوۡنَهَاۖ وَبِئۡسَ ٱلۡقَرَارُ ٢٩ ﴾ [ ابراهيم : ٢٨، ٢٩ ] তুমি কি তাদেরকে দেখ না, যারা আল্লাহর নিআমতকে কুফরী দ্বারা পরিবর্তন করেছে এবং তাদের কওমকে ধ্বংসের ঘরে নামিয়ে দিয়েছে? জাহান্নামে, যাতে তারা দগ্ধ হবে, আর তা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্থান! [সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ২৮, ২৯] আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. কুরআনে আজীমের তাফসীরে লিখেন, দারুল বাওয়ার হল জাহান্নাম ৫৩৯/২। ইমাম বগবী রহ. ও স্বীয় তাফসীরে এ কথার দিকে ইশারা করেছেন। ৫৩/৩।]