১
আল-কুরআন ইসলামী শরীয়াহ্-এর অন্যতম উৎস
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
শরীয়াহ্ ও ইজতিহাদ
ইসলামী শরীয়াহ-এর উজ্জ্বলতম দিক হল ইজতিহাদের অনুমোদন, যার দ্বার কিয়ামত পর্যন্ত উন্মুক্ত। শরীয়াহ্-কে গতিশীল রাখার ক্ষেত্রে ইজতিহাদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শরীয়াহ এর সকল বিধানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের প্রয়োজন পড়ে না। শরীয়াহ্-এর যে সব বিধান অত্যন্ত সুস্পষ্ট যেমন তাওহীদ ও রিসালাতের Concept এবং তার প্রতি ঈমান পোষণ করার ফরযিয়াত, যা কুরআন ও হাদীসে বহুবার আলোচিত হয়েছে, সেখানে ইজতিহাদ করার প্রয়োজন পড়ে না। অনুরূপভাবে শরীয়াহ্-এর যে সব বিষয় অপরিবর্তনীয় সেগুলোকেও ইজতিহাদ ও গবেষণা করে পরিবর্তন করা যায় না। যেমন তাওহীদের সকল বিষয়, শির্ক ও কুফরীসহ ঈমানের রুকনসমূহ, মূল্যবোধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো ও চিরতরে হারাম ঘোষিত মন্দকাজসমূহ। অতএব তাওহীদের যে চিরন্তন ধারণা কুরআনে ও সুন্নায় এসেছে, তাতে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসবে না। যে কাজ করা রাসূল সা. এর যুগে শির্ক ও কুফরি বলে বিবেচিত হতো তা আজো শির্ক ও কুফরি বলে গণ্য হবে। যেনা-ব্যভিচার, মদ্যপান, চুরি-ডাকাতি, সূদ, মানবহত্যা ইত্যাদি যা আগে হারাম ছিল, আজো তা হারাম বলে গণ্য হবে। সুন্দর গুণাবলী, সততা, সত্যবাদিতা আগে যেমন প্রশংসিত ছিল আজো তেমনি প্রশংসিত, অন্যদিকে মিথ্যা, ধোকা, প্রতারণা সব যুগেই ঘৃণ্য ও হারাম।
তবে শরীয়াহ্-এর এমন অনেক বিষয় রয়েছে যার বিধান স্থান-কাল-পাত্র ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণেই শরীয়াহ্-তে বিভিন্ন রোখসাত দেয়া হয়েছে। তাছাড়া দ্বরুরতের কারণে শরীয়াহ্ ইতোপূর্বেকার নিষিদ্ধ বিধানকে অনুমোদন দান করে। এসব মূলনীতির দলীল কুরআনে রয়েছে। এছাড়া সার্বিক মূল্যবোধ ও আকীদা ঠিক রেখে মু‘আমালাতের বিষয়গুলো আঞ্জাম দেয়ার বিষয়টিও স্থান-কাল-পাত্র ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। এগুলোর Implementation কিভাবে হবে সেটা হচ্ছে ইজতিহাদের অন্যতম একটি বিষয়। তবে যে কেউ ইচ্ছে করলেই নিজের মত করে ইজতিহাদ করে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। মুজতাহিদ ব্যক্তিকে কুরআন, হাদীস ও আরবী ভাষায় যথেষ্ট পান্ডিত্যের অধিকারী হওয়ার পাশাপাশি আরো বেশ কিছু গুণের অধিকারী হতে হবে। উসূলে ফিকহের গ্রন্থসমূহে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
মোদ্দাকথা হল, শরীয়াহ্ এর অপরিবর্তনীয় বিষয়গুলো বাদে অন্যান্য ক্ষেত্রে সহীহ ও Authentic ইজতিহাদের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নয়ন সাধনের প্রতি আল-কুরআন আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنفُسِهِمۡۗ ﴾ [ الرعد : ١١ ]
‘‘আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।’’ [সূরা রা’দ : ১১]
কিয়াস, ইস্তেহসান, মাসালিহ মুরসালাহ্ ও শরীয়াহ্-এর এ জাতীয় দলীলসমূহ ইজতিহাদী প্রক্রিয়ারই অংশ। শরীয়াহ্ যে প্রগতিশীল এবং সব যুগের জন্য উপযোগী ইজতিহাদ মূলতঃ সে প্রমাণকে শক্তিশালী করেছে।
তবে শরীয়াহ্-এর এমন অনেক বিষয় রয়েছে যার বিধান স্থান-কাল-পাত্র ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণেই শরীয়াহ্-তে বিভিন্ন রোখসাত দেয়া হয়েছে। তাছাড়া দ্বরুরতের কারণে শরীয়াহ্ ইতোপূর্বেকার নিষিদ্ধ বিধানকে অনুমোদন দান করে। এসব মূলনীতির দলীল কুরআনে রয়েছে। এছাড়া সার্বিক মূল্যবোধ ও আকীদা ঠিক রেখে মু‘আমালাতের বিষয়গুলো আঞ্জাম দেয়ার বিষয়টিও স্থান-কাল-পাত্র ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। এগুলোর Implementation কিভাবে হবে সেটা হচ্ছে ইজতিহাদের অন্যতম একটি বিষয়। তবে যে কেউ ইচ্ছে করলেই নিজের মত করে ইজতিহাদ করে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। মুজতাহিদ ব্যক্তিকে কুরআন, হাদীস ও আরবী ভাষায় যথেষ্ট পান্ডিত্যের অধিকারী হওয়ার পাশাপাশি আরো বেশ কিছু গুণের অধিকারী হতে হবে। উসূলে ফিকহের গ্রন্থসমূহে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
মোদ্দাকথা হল, শরীয়াহ্ এর অপরিবর্তনীয় বিষয়গুলো বাদে অন্যান্য ক্ষেত্রে সহীহ ও Authentic ইজতিহাদের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নয়ন সাধনের প্রতি আল-কুরআন আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنفُسِهِمۡۗ ﴾ [ الرعد : ١١ ]
‘‘আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।’’ [সূরা রা’দ : ১১]
কিয়াস, ইস্তেহসান, মাসালিহ মুরসালাহ্ ও শরীয়াহ্-এর এ জাতীয় দলীলসমূহ ইজতিহাদী প্রক্রিয়ারই অংশ। শরীয়াহ্ যে প্রগতিশীল এবং সব যুগের জন্য উপযোগী ইজতিহাদ মূলতঃ সে প্রমাণকে শক্তিশালী করেছে।