hadith book logo

ইসলামী আইন না মানার বিধান কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর

লেখকঃ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

খ. ইসলামী আইনের বিরোধিতাকারীদের মধ্যে যারা ইসলামী আইনের সঠিক জ্ঞান রাখার পরও এর বিরোধিতা করে থাকে, তাদের মনে ইসলামী আইনের বাস্তবতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু তারা নিজেদের স্বার্থেই এর বাস্তবায়ন চায় না।

ধরুন, তাদের মধ্যে কেউ সরকারি চাকুরীজীবী, সে ঘুষ খায়, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করে; সে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন হোক এটা চাইতেই পারে না। কারণ, ইসলাম ঘুষ গ্রহীতাকে অপসারণ করতে বলেছে, সরকারি সম্পত্তির আত্মসাৎকারীকে চোর হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, সে চোরের শাস্তি পাবে। তাই বড় বড় আমলারা যারা ঘুষের মাধ্যমে, অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে বড় লোক হতে চায়; তারা কীভাবে ইসলামী আইনের বাস্তবায়ন চাইতে পারে?

আবার ধরুণ, কেউ ডাকাতির মাধ্যমে বড়লোক হতে চায়, ইসলামী আইনে তার শাস্তি হলো এক হাত, এক পা কেটে দেওয়া। এ শাস্তি কোনো ডাকাতের জন্য সুখকর নয়, তাই ডাকাতদল কোনো দিন চাইবে না ইসলামী আইন বাস্তবায়িত হোক।

ইসলামী আইনে অঙ্গহানির শাস্তি হলো তেমনিভাবে অঙ্গহানি করা, তাই যারা সমাজে অঙ্গহানি করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চায়, তারা কোনো দিন চাইবে না ইসলামী আইন এ দেশে বাস্তবায়িত হোক।

ইসলামী আইনে হত্যার শাস্তি হত্যা, তাই যে হত্যার মাধ্যমে শত্রুমুক্ত হতে চায় (চাই তার স্ত্রী, প্রতিবেশী বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ; যে-ই হোক না কেন) সে চাইবে না ইসলামী আইন বাস্তবায়িত হোক, কারণ তার শাস্তিও অনুরূপ হবে, কোনো প্রকার ব্যতিক্রম হবে না। সুতরাং কেউ-ই নিজের জীবনের বিনিময়ে এমন কিছু অর্জন করতে চায় না।

অনুরূপভাবে সমাজে এক শ্রেণির লোক রয়েছে, যারা অন্যায়-অনাচার করে বেড়ায়। ইসলামী আইন থাকলে তাদের বিচার হবে সুষ্ঠুভাবে, তারা অন্যায় করতে পারবে না, সুতরাং তারা চায় না ইসলামী আইন বাস্তবায়িত হোক।

সুতরাং আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, সার্বিক শান্তির গ্যারান্টি যদি কেউ পেতে চায় তার পক্ষে ইসলামী আইনের বিকল্প আর কিছুই নেই।

আসুন! আমরা আবার আমাদের এ প্রিয় যমীনের বুকে ইসলামের আইন ও বিধান বাস্তবায়ন করে দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি লাভে সমর্থ হই।

আল্লাহ আমার এ প্রচেষ্টা কবুল করুন। আমিন॥