১
আক্বীদা ও আমলের সংস্কার
লেখকঃ কামাল উদ্দিন মোল্লা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
বড়দের মর্যাদার মাপকাঠি:
সবকিছু আমার জানা আছে অথবা আমার জানা বস্তুটিই সঠিক এমন দাবী স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও করেন নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি আল্লাহর আদেশে বললেন: এটা আল্লাহর একটি আদেশ মাত্র। আর আমাকে জ্ঞানের সামান্য দেওয়া হয়েছে। এ হলো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী মানবের নিজের বিষয়ে মন্তব্য। তা ছাড়া কোনো কোনো সিদ্ধান্তে তাঁর চেয়ে অন্য সাহাবী -উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলেও মহান গ্রন্থ কুরআনে এসেছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, ভুল আমাদের পিছু ধাওয়া করে। আমাদের দ্বারা দীর্ঘ সময় যাবৎ পালন করে আসা আমাদের কোনো কাজ, মত, আদর্শ পরবর্তীতে ভুল প্রমাণিত হলে তা ত্যাগ করা দোষণীয় নয়। এটা আমাদের পূর্ববর্তীদের আমলও ছিল। এমনিভাবে বিশ্বাস করতে হবে আমাদের অনুকরণীয় ব্যক্তিবর্গও ইমাম, পীর, দরবেশ, শিক্ষক অথবা পার্থিব কোনো নেতা ভুলের উর্ধ্বে নয়। সর্বক্ষেত্রে তাদের কথাই আমল করতে হবে এবং তাদের সব কথা ও কাজ নির্ভুল তাও অবাস্তব। কারণ, এমন অন্ধ বিশ্বাসের ফলে বহু ক্ষেত্রে কুরআন ও সহীহ হাদীস মোতাবেক আমল করা সম্ভব হয় না, যা বড় ধরণের অপরাধ।
মুসলিমদের জন্য এটাই কর্তব্য হওয়া উচিত যে, সে আল্লাহর ইবাদত ঐভাবে করবে, যেভাবে তিনি তার কিতাবে নির্দেশ দিয়েছেন আর যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ সুন্নাতের মধ্যে নির্দেশিত হয়েছে। তারপর এ দুই মূল ভিত্তি থেকে যে সমস্ত হুকুম-আহকাম বের হয়েছে, সে অনুযায়ী সে চলবে। আর এ জাতীয় হুকুম আহকামের মূলসূত্রগুলো বের করা সকলের জন্য সহজ নয়। সে কারণেই আল্লাহ তা‘আলা এ উম্মতের কল্যাণার্থে বহু সম্মানী আলেমদের আবির্ভাব ঘটিয়েছেন। সাহাবা, তাবেয়ীন এবং তাদের পরবর্তীগণের মধ্য থেকেও। তারা আল্লাহ তা‘আলার দীনকে উত্তমভাবে অনুধাবন করেছেন। আর সাথে সাথে আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাহকে খুবই সুক্ষ্ণভাবে বুঝতে সচেষ্ট হয়েছেন। তারপর সেখান থেকে হুকুম-আহকাম বের করার প্রয়াস পেয়েছেন। ফলে তারা সাধারণ লোকদের সম্মূখে ঐ সব আহকামকে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যাতে তারা সঠিক দিক নির্দেশনা পেয়ে হিদায়াত ও সঠিক বুঝের উপর চলতে সক্ষম হন। তারা তাদের সাধ্যমত যে কষ্ট মেহনত করেছেন, তাতে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি রাজী ও খুশী হয়ে গেছেন।
সুক্ষ্ম এ কাজ করতে গিয়ে গবেষণা কর্মে তাদের কোনো কোনো কথা ও কাজ অপরের সাথে বিরোধপূর্ণ হয়েছে। আর কখনও কোনা মাসআলায় তারা একাধিক ফতোয়া দিয়েছেন, এরও অনেক কারণ রয়েছে যা আলোচনায় আসছে এবং মতবিরোধ এমন পর্যায় যায় নি যে, তাদেরকে দোষ দেওয়া ওয়াজিব বা মুবাহ হয়ে দাড়ায়; বরং প্রতিটি মুসলিম ঐ কথাকে গ্রহণ করেছেন, যা তিনি দলীলসহ সহীহ মনে করেছেন এবং তার উপরই তিনি আমল করেছেন। আর যে ব্যক্তি দলীল খুঁজতে অপারগ, তিনি কোনো আমলওয়ালা বিশ্বাসী মুত্তাকী মুফতিকে প্রশ্ন করে তা গ্রহণ করে তার ওপর আমল করেছেন।
মুসলিমদের জন্য এটাই কর্তব্য হওয়া উচিত যে, সে আল্লাহর ইবাদত ঐভাবে করবে, যেভাবে তিনি তার কিতাবে নির্দেশ দিয়েছেন আর যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ সুন্নাতের মধ্যে নির্দেশিত হয়েছে। তারপর এ দুই মূল ভিত্তি থেকে যে সমস্ত হুকুম-আহকাম বের হয়েছে, সে অনুযায়ী সে চলবে। আর এ জাতীয় হুকুম আহকামের মূলসূত্রগুলো বের করা সকলের জন্য সহজ নয়। সে কারণেই আল্লাহ তা‘আলা এ উম্মতের কল্যাণার্থে বহু সম্মানী আলেমদের আবির্ভাব ঘটিয়েছেন। সাহাবা, তাবেয়ীন এবং তাদের পরবর্তীগণের মধ্য থেকেও। তারা আল্লাহ তা‘আলার দীনকে উত্তমভাবে অনুধাবন করেছেন। আর সাথে সাথে আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাহকে খুবই সুক্ষ্ণভাবে বুঝতে সচেষ্ট হয়েছেন। তারপর সেখান থেকে হুকুম-আহকাম বের করার প্রয়াস পেয়েছেন। ফলে তারা সাধারণ লোকদের সম্মূখে ঐ সব আহকামকে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যাতে তারা সঠিক দিক নির্দেশনা পেয়ে হিদায়াত ও সঠিক বুঝের উপর চলতে সক্ষম হন। তারা তাদের সাধ্যমত যে কষ্ট মেহনত করেছেন, তাতে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি রাজী ও খুশী হয়ে গেছেন।
সুক্ষ্ম এ কাজ করতে গিয়ে গবেষণা কর্মে তাদের কোনো কোনো কথা ও কাজ অপরের সাথে বিরোধপূর্ণ হয়েছে। আর কখনও কোনা মাসআলায় তারা একাধিক ফতোয়া দিয়েছেন, এরও অনেক কারণ রয়েছে যা আলোচনায় আসছে এবং মতবিরোধ এমন পর্যায় যায় নি যে, তাদেরকে দোষ দেওয়া ওয়াজিব বা মুবাহ হয়ে দাড়ায়; বরং প্রতিটি মুসলিম ঐ কথাকে গ্রহণ করেছেন, যা তিনি দলীলসহ সহীহ মনে করেছেন এবং তার উপরই তিনি আমল করেছেন। আর যে ব্যক্তি দলীল খুঁজতে অপারগ, তিনি কোনো আমলওয়ালা বিশ্বাসী মুত্তাকী মুফতিকে প্রশ্ন করে তা গ্রহণ করে তার ওপর আমল করেছেন।