১
আক্বীদা ও আমলের সংস্কার
লেখকঃ কামাল উদ্দিন মোল্লা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
সব হাদীস না জানা এবং হাদীসের বিপরীত আমলের কারণ:
যারা ধারণা করে যে, প্রত্যেক ইমাম অথবা কোনো নির্দিষ্ট ইমামের নিকট রাসূলের প্রত্যেকটি সহীহ হাদীস পৌঁছেছে, তারা অজ্ঞ বৈ কিছু নয়।
কেউ যেন কখনও এ কথা না বলেন যে, হাদীসসমূহের একত্রিকরণ ও সংকলনের পর সেগুলোর অস্পষ্টতা বা অজানা জ্ঞানবর্হিভূত। কেননা, সুনানগুলি হাদীস একত্রিত হওয়ার প্রসিদ্ধ সংকলন। এগুলি স্বীকৃত ইমামদের তিরোধানের পরই সংকলিত হয়েছে। এতদসত্ত্বেও রাসূলের হাদীসকে নির্দিষ্ট সংকলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ দাবী করা বৈধ নয়। যদিও ধরে নেওয়া যায় যে, হাদীস সংকলিত কিতাবের মধ্যে সীমিত, তবুও ঐ কথা বলা যায় না যে, একজন আলেম কিতাবের সমুদয় ইলম সম্পর্কে জ্ঞাত। আর করো পক্ষে এরূপ বিদ্যার্জন সম্পূর্ণ অসম্ভব; বরং কখনও এরূপ হয়ে থাকে যে, একজন লোকের নিকট অনেক অনেক সংকলন আছে অথচ সংকলিত বস্তু তার পূর্ণ আয়ত্বে নেই; বরং হাদীস শাস্ত্রের এরূপ সংকলনের সময়কালের পূর্বের লোকেরা পরবর্তী লোকদের থেকে হাদীস শাস্ত্র বেশী জ্ঞাত ছিলেন। কেননা, তাদের নিকট যেগুলো সহীহ ও সঠিকভাবে পৌঁছেছে, এমন অনকেগুলো আমাদের নিকট অজানার দরুণ কিংবা সনদের বিচ্ছিন্নতার কারণে পৌঁছে নি কিংবা হাদীসটি অদৌ পৌঁছে নি।
তাদের বক্ষ ছিল সংকলিত গ্রন্থ স্বরূপ। কেননা, তাদের বক্ষ ঐ সকল গ্রন্থরাজি হতেও অধিক ধারণ করত। এ বিষয়ে পণ্ডিত ব্যক্তিরা সন্দেহ করেন না এবং এ কথা বলা উচিৎ নয় যে, যে ব্যক্তি সম্পূর্ণ হাদীস সম্পর্কে জ্ঞাত নয়, সে মুজতাহিদ হতে পারবে না। কেননা, মুজতাহিদ হওয়ার জন্য যদি এ শর্ত করা হয় যে, তাকে আহকাম সম্পর্কিত রাসূলের সমুদয় হাদীস জানতে হবে, তাহলে উম্মতের মাঝে কোনো মুজতাহিদ পাওয়া যাবে না। তবে একজন আলেমের জন্য এটা যথেষ্ট যে, সে এর অধিকাংশ বিষয়বস্তু ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত। বিস্তারিত বিষয়ের অংশ বিশেষ ছাড়া সবই তার কাছে স্পষ্ট। অধিকন্তু অল্প কিছু যা তার অজানা। কখনও তার নিকট বিস্তারিত হাদীস পৌঁছানো হলে তার অল্পটি হাদীসের বিপরীত হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় কারণ:
হাদীসটি তার নিকট পৌঁছেছে; কিন্তু হাদীসটি কোনো কারণে তার নিকট নির্ভরযোগ্য নয়।
এর কারণ হলো:
হাদীস তার কাছে বর্ণনাকারী, বর্ণনাকারীর কাছে বর্ণনাকারী, সনদের অন্য কোনো ব্যক্তি তার কাছে অজ্ঞাত, কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত, স্মৃতি শক্তিতে দুর্বল, হাদীসটি তার নিকট মারফু অবস্থায় পৌঁছেনি; বরং মুনকাতি‘ অবস্থায় পৌঁছেছে কিংবা হাদীসের শব্দগুলি দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত হয় নি।
পক্ষান্তরে ঐ হাদীসটি অপর একজনের নিকট নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী দ্বারা মুত্তাসিল সনদে পৌছেছে এবং অজ্ঞাত বর্ণনাকারী তার নিকট নির্ভরযোগ্য অথবা এরূপও হয়ে থাকে যে, ঐ হাদীসটি অন্য সনদে বর্ণিত, যার বর্ণনাকারী কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত নয় এবং সনদটি ও মুনকাতি‘ বা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং মুত্তাসিল। এতদসত্ত্বেও হাদীস শাস্ত্রের কতিপয় হাফেয, হাদীসের শব্দগুলি দৃঢ়তার সাথে বর্ণনা করেছেন অথবা ঐ হাদীসটির জন্য এমন কতকগুলো মুতাবা‘আত ও শাওয়াহিদ রয়েছে, যার দ্বারা উক্ত হাদীসটি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়।
এ জাতীয় হাদীস তাবেয়ীন ও তাবে তাবেঈন থেকে আরম্ভ করে প্রসিদ্ধ ইমামগণের মধ্যে বহুল প্রকারে পাওয়া যায় এবং এ সকল হাদীসের সংখ্যা প্রথম যুগের চেয়ে বেশি অথবা প্রথম প্রকার হতে অধিকতর বেশি। কেননা, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে হাদীস প্রচার ও প্রসার লাভ করেছিল, তাতে এমনও বহু হাদীস ছিল যা বহু আলেমের নিকট দুর্বল পন্থায় পৌছে। সুতরাং এ পর্যায়ে অত্র হাদীসগুলো দলীল হতে পারে, যদিও বিপক্ষীয়দের নিকট এ পন্থায় না পৌঁছে থাকে।
এ জন্য বহু ইমাম তাদের রায় প্রদানের সময় বিশুদ্ধ হাদীসের ওপর নির্ভর করে কথা বলেন। তারা বলে থাকেন অমুক মাস’আলায় আমার রায় হচ্ছে, কেননা এ সম্পর্কে অমুক হাদীস বর্ণিত আছে। যদি হাদীসটি সহীহ হয়, তবে তাই আমার রায়।
তৃতীয় কারণ:
ইজতেহাদ মোতাবেক কোনো হাদীসকে দুর্বল মনে করা, যদিও অন্যান্য আলেমগণ সেটাকে দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করেন না। হতে পারে তিনি সঠিক অথবা তারা উভয়ে সঠিক।
সমাপ্ত
কেউ যেন কখনও এ কথা না বলেন যে, হাদীসসমূহের একত্রিকরণ ও সংকলনের পর সেগুলোর অস্পষ্টতা বা অজানা জ্ঞানবর্হিভূত। কেননা, সুনানগুলি হাদীস একত্রিত হওয়ার প্রসিদ্ধ সংকলন। এগুলি স্বীকৃত ইমামদের তিরোধানের পরই সংকলিত হয়েছে। এতদসত্ত্বেও রাসূলের হাদীসকে নির্দিষ্ট সংকলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ দাবী করা বৈধ নয়। যদিও ধরে নেওয়া যায় যে, হাদীস সংকলিত কিতাবের মধ্যে সীমিত, তবুও ঐ কথা বলা যায় না যে, একজন আলেম কিতাবের সমুদয় ইলম সম্পর্কে জ্ঞাত। আর করো পক্ষে এরূপ বিদ্যার্জন সম্পূর্ণ অসম্ভব; বরং কখনও এরূপ হয়ে থাকে যে, একজন লোকের নিকট অনেক অনেক সংকলন আছে অথচ সংকলিত বস্তু তার পূর্ণ আয়ত্বে নেই; বরং হাদীস শাস্ত্রের এরূপ সংকলনের সময়কালের পূর্বের লোকেরা পরবর্তী লোকদের থেকে হাদীস শাস্ত্র বেশী জ্ঞাত ছিলেন। কেননা, তাদের নিকট যেগুলো সহীহ ও সঠিকভাবে পৌঁছেছে, এমন অনকেগুলো আমাদের নিকট অজানার দরুণ কিংবা সনদের বিচ্ছিন্নতার কারণে পৌঁছে নি কিংবা হাদীসটি অদৌ পৌঁছে নি।
তাদের বক্ষ ছিল সংকলিত গ্রন্থ স্বরূপ। কেননা, তাদের বক্ষ ঐ সকল গ্রন্থরাজি হতেও অধিক ধারণ করত। এ বিষয়ে পণ্ডিত ব্যক্তিরা সন্দেহ করেন না এবং এ কথা বলা উচিৎ নয় যে, যে ব্যক্তি সম্পূর্ণ হাদীস সম্পর্কে জ্ঞাত নয়, সে মুজতাহিদ হতে পারবে না। কেননা, মুজতাহিদ হওয়ার জন্য যদি এ শর্ত করা হয় যে, তাকে আহকাম সম্পর্কিত রাসূলের সমুদয় হাদীস জানতে হবে, তাহলে উম্মতের মাঝে কোনো মুজতাহিদ পাওয়া যাবে না। তবে একজন আলেমের জন্য এটা যথেষ্ট যে, সে এর অধিকাংশ বিষয়বস্তু ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত। বিস্তারিত বিষয়ের অংশ বিশেষ ছাড়া সবই তার কাছে স্পষ্ট। অধিকন্তু অল্প কিছু যা তার অজানা। কখনও তার নিকট বিস্তারিত হাদীস পৌঁছানো হলে তার অল্পটি হাদীসের বিপরীত হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় কারণ:
হাদীসটি তার নিকট পৌঁছেছে; কিন্তু হাদীসটি কোনো কারণে তার নিকট নির্ভরযোগ্য নয়।
এর কারণ হলো:
হাদীস তার কাছে বর্ণনাকারী, বর্ণনাকারীর কাছে বর্ণনাকারী, সনদের অন্য কোনো ব্যক্তি তার কাছে অজ্ঞাত, কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত, স্মৃতি শক্তিতে দুর্বল, হাদীসটি তার নিকট মারফু অবস্থায় পৌঁছেনি; বরং মুনকাতি‘ অবস্থায় পৌঁছেছে কিংবা হাদীসের শব্দগুলি দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত হয় নি।
পক্ষান্তরে ঐ হাদীসটি অপর একজনের নিকট নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী দ্বারা মুত্তাসিল সনদে পৌছেছে এবং অজ্ঞাত বর্ণনাকারী তার নিকট নির্ভরযোগ্য অথবা এরূপও হয়ে থাকে যে, ঐ হাদীসটি অন্য সনদে বর্ণিত, যার বর্ণনাকারী কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত নয় এবং সনদটি ও মুনকাতি‘ বা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং মুত্তাসিল। এতদসত্ত্বেও হাদীস শাস্ত্রের কতিপয় হাফেয, হাদীসের শব্দগুলি দৃঢ়তার সাথে বর্ণনা করেছেন অথবা ঐ হাদীসটির জন্য এমন কতকগুলো মুতাবা‘আত ও শাওয়াহিদ রয়েছে, যার দ্বারা উক্ত হাদীসটি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়।
এ জাতীয় হাদীস তাবেয়ীন ও তাবে তাবেঈন থেকে আরম্ভ করে প্রসিদ্ধ ইমামগণের মধ্যে বহুল প্রকারে পাওয়া যায় এবং এ সকল হাদীসের সংখ্যা প্রথম যুগের চেয়ে বেশি অথবা প্রথম প্রকার হতে অধিকতর বেশি। কেননা, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে হাদীস প্রচার ও প্রসার লাভ করেছিল, তাতে এমনও বহু হাদীস ছিল যা বহু আলেমের নিকট দুর্বল পন্থায় পৌছে। সুতরাং এ পর্যায়ে অত্র হাদীসগুলো দলীল হতে পারে, যদিও বিপক্ষীয়দের নিকট এ পন্থায় না পৌঁছে থাকে।
এ জন্য বহু ইমাম তাদের রায় প্রদানের সময় বিশুদ্ধ হাদীসের ওপর নির্ভর করে কথা বলেন। তারা বলে থাকেন অমুক মাস’আলায় আমার রায় হচ্ছে, কেননা এ সম্পর্কে অমুক হাদীস বর্ণিত আছে। যদি হাদীসটি সহীহ হয়, তবে তাই আমার রায়।
তৃতীয় কারণ:
ইজতেহাদ মোতাবেক কোনো হাদীসকে দুর্বল মনে করা, যদিও অন্যান্য আলেমগণ সেটাকে দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করেন না। হতে পারে তিনি সঠিক অথবা তারা উভয়ে সঠিক।
সমাপ্ত