hadith book logo

তোমার রব কে

লেখকঃ মুহাম্মাদ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ আল-আম্মারী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

নবমত: যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব কুরআন পাঠ করবে সে আল্লাহ তা‘আলার পূর্ণ সত্তা সম্পর্কে যথযথ জ্ঞান লাভ করবে,

যেমন, আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱلۡحَيِّ ٱلَّذِي لَا يَمُوتُ﴾ [ الفرقان : ٥٧ ]

“আর তুমি ভরসা কর এমন চিরঞ্জীব সত্তার উপর যিনি মরবেন না।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৫৭]

তিনি ঘুমান না এবং তাঁকে নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ﴾ [ البقرة : ٢٥٥ ]

“তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না।” [সূরা আল-বাকারাহহ, আয়াত: ২৫৫]

তিনি পানাহার করেন না। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿قُلۡ أَغَيۡرَ ٱللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيّٗا فَاطِرِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَهُوَ يُطۡعِمُ وَلَا يُطۡعَمُۗ﴾ [ الانعام : ١٤ ]

“বল, ‘আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্যকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করব, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা? তিনি আহার দেন, তাঁকে আহার দেওয়া হয় না।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৪]

তাঁর কোনো সন্তান কিংবা পিতা-মাতা নেই। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿لَمۡ يَلِدۡ وَلَمۡ يُولَدۡ ٣﴾ [ الاخلاص : 3]

“তিনি কাউকে জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।” [সূরা আল-ইখলাস, আয়াত: ৩]

তাঁর কোনো স্ত্রী নেই। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُۥ وَلَدٞ وَلَمۡ تَكُن لَّهُۥ صَٰحِبَةٞ﴾ [ الانعام : ١٠١ ]

“কীভাবে তাঁর সন্তান হবে অথচ তাঁর কোন সঙ্গিনী নেই!” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১০১]

তাঁর কোনো ছেলে নেই কিংবা মেয়েও নয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَجَعَلُواْ لِلَّهِ شُرَكَآءَ ٱلۡجِنَّ وَخَلَقَهُمۡۖ وَخَرَقُواْ لَهُۥ بَنِينَ وَبَنَٰتِۢ بِغَيۡرِ عِلۡمٖۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يَصِفُونَ ١٠٠﴾ [ الانعام : ١٠٠ ]

“আর তারা আল্লাহর জন্য জিন্নকে শরীক সাব্যস্ত করেছে, অথচ তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তারা অজ্ঞতাবশতঃ মনগড়াভাবে নির্ধারণ করেছে তার জন্য পুত্র ও কন্যা সন্তান। তিনি পবিত্র মহান এবং তারা যা বিবরণ দেয় তা থেকে ঊর্ধ্বে।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১০০]

তিনি মহাশক্তিশালী, কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম বানাতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُعۡجِزَهُۥ مِن شَيۡءٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ إِنَّهُۥ كَانَ عَلِيمٗا قَدِيرٗا ٤٤﴾ [ فاطر : ٤٤ ]

“আল্লাহ তো এমন নন যে, আসমানসমূহ ও যমীনের কোন কিছু তাকে অক্ষম করে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ৪৪]

তিনি অমুখাপেক্ষী। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَرَبُّكَ ٱلۡغَنِيُّ﴾ [ الانعام : ١٣٣ ]

“আর তোমার রব অমুখাপেক্ষী।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৩৩]

তিনি অত্যন্ত সম্মানিত, দাতা। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلۡإِنسَٰنُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ ٱلۡكَرِيمِ ٦﴾ [ الانفطار : ٦ ]

“হে মানুষ কিসে তোমাকে তোমার সম্মানিত-দাতা রব সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলেছে?” [সূরা আল-ইনফিতার, আয়াত: ৬]

ইয়াহূদীরা তাঁকে দরিদ্র বলার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল। তিনি তাদের জবাবে বলেন,

﴿لَّقَدۡ سَمِعَ ٱللَّهُ قَوۡلَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓاْ إِنَّ ٱللَّهَ فَقِيرٞ وَنَحۡنُ أَغۡنِيَآءُۘ سَنَكۡتُبُ مَا قَالُواْ وَقَتۡلَهُمُ ٱلۡأَنۢبِيَآءَ بِغَيۡرِ حَقّٖ وَنَقُولُ ذُوقُواْ عَذَابَ ٱلۡحَرِيقِ ١٨١﴾ [ ال عمران : ١٨١ ]

“নিশ্চয় আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলেছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ দরিদ্র এবং আমরা ধনী’। অচিরেই আমি লিখে রাখব তারা যা বলেছে এবং নবীদেরকে তাদের অন্যায়ভাবে হত্যার বিষয়টিও এবং আমি বলব, ‘তোমরা উত্তপ্ত আযাব আস্বাদন কর।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮১]

ইয়াহূদীরা তাঁকে কৃপণ বলার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল। তাদের জবাবে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَقَالَتِ ٱلۡيَهُودُ يَدُ ٱللَّهِ مَغۡلُولَةٌۚ غُلَّتۡ أَيۡدِيهِمۡ وَلُعِنُواْ بِمَا قَالُواْۘ بَلۡ يَدَاهُ مَبۡسُوطَتَانِ يُنفِقُ كَيۡفَ يَشَآءُۚ﴾ [ المائ‍دة : ٦٤ ]

“আর ইয়াহূদীরা বলে, ‘আল্লাহর হাত বাঁধা’। তাদের হাতই বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং তারা যা বলেছে, তার জন্য তারা লা‘নতগ্রস্ত হয়েছে। বরং তার দু’হাত প্রসারিত। যেভাবে ইচ্ছা তিনি দান করেন।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৬৪]