hadith book logo

ইখলাস কেন ও কীভাবে

লেখকঃ গবেষণা পরিষদ আল-মুনতাদা আল-ইসলামী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

২. আমল কবুল হওয়া:

ইখলাস হলো আমল কবুলের শর্ত। ইবন কাসীর রহ. বলেছেন: দু’টো শর্তের সন্নিবেশ ব্যতীত আল্লাহ তা‘আলা আমল গ্রহণ করবেন না। প্রথম শর্ত হলো আমলটি শরী‘আত অনুমোদিত হতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত আমলটি ইখলাস (একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য নিবেদিত) সহকারে শির্কমুক্ত ভাবে আদায় করতে হবে। (তাফসীরে ইবন কাসীর)

আল্লামা সাজী বলেছেন: পাঁচটি গুণের মাধ্যমে জ্ঞানের পূর্ণতা লাভ হয়। গুণ পাঁচটি হলো: আল্লাহর পরিচয় লাভ, হক বা যা সত্য তার সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া, ইখলাস বা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ মোতাবেক কাজ করা এবং হালাল খাদ্য গ্রহণ করা। যদি এর একটি অনুপস্থিত থাকে তাহলে তার আমল (কর্ম) আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। [আল-জামে লিআহকামিল কুরআন: কুরতুবী।]

আল্লামা সিদ্দীক হাসান খান বলেন: ইখলাস যে আমলের শুদ্ধতা ও কবুলে একটি অন্যতম শর্ত এ বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই। [আদ-দীনুল খালেছ: সিদ্দীক হাসান খান।]

প্রমাণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস:

«إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا، وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ»

“আল্লাহ তা‘আলা শুধু সে আমলই গ্রহণ করেন, যা ইখলাসের সাথে এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হয়।” [নাসাঈ, হাদীস নং ৩১৪০।]

হাদীসে আরো এসেছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ، نَادَى مُنَادٍ : مَنْ كَانَ أَشْرَكَ فِي عَمَلٍ عَمِلَهُ لِلَّهِ، فَلْيَطْلُبْ ثَوَابَهُ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ»

“কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তা‘আলা যখন সকল মানুষকে একত্র করবেন তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত কাজে অন্য কিছুকে তাঁর সাথে শরীক করেছে সে যেন আল্লাহকে বাদ দিয়ে সেই শরীকের কাছ থেকে প্রতিদান বুঝে নেয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা সকল প্রকার অংশীদার ও অংশীদারিত্ব থেকে মুক্ত।” [ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪২০৩।]