hadith book logo

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদার সংক্ষিপ্ত মূলনীতি

লেখকঃ ড. নাসের ইবন আবদুল করীম আল-আকল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

ষষ্ঠ অধ্যায়: আত-তাকদীর

১. ঈমানের স্তম্ভগুলোর অন্যতম একটি স্তম্ভ তাকদীরের ভালো-মন্দ আল্লাহর হাতে এ ঈমান পোষণ করা। এর সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য বিষয়গুলো হচ্ছে,

তাকদীর সম্পর্কিত কুরআন সুন্নায় যা এসেছে সেসব কথায় ঈমান আনতে হবে, (সেগুলো হলো: আল্লাহর জ্ঞান, লিখন, ইচ্ছা, সৃষ্টি) এবং ঈমান রাখতে হবে যে, আল্লাহর সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করার মতো কোনো শক্তি নেই এবং তাঁর বিধানকে রদ করার কোনো অধিকার কারও নেই।

২. কুরআন সুন্নায় বর্ণিত ইরাদা বা ইচ্ছা ও আদেশ দুই প্রকার:

(ক) পূর্বাহ্নেই স্থিরকৃত আল্লাহর সৃষ্টিগত ইরাদা বা ইচ্ছা। (মাশীয়াহ বা চরম ইচ্ছা অর্থে) যে নির্দেশ তার স্থিরিকৃত ও সৃষ্টিগত এবং তাকদীরের নির্ধারণ অনুযায়ী।

(খ) আল্লাহর শরী‘আতসম্মত ইরাদা বা ইচ্ছা। (যে নির্দেশের সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টি অপরিহার্য) যে নির্দেশটি তিনি শরী‘আত হিসেবে প্রদান করেন।

আল্লাহর সৃষ্টিজীবদেরও ইচ্ছা এবং চাওয়া রয়েছে তবে সে সমস্ত ইরাদা বা ইচ্ছা আল্লাহর ইরাদা বা ইচ্ছার অনুগত।

৩. কোনো ব্যক্তিকে হিদায়াত দান করা বা পথভ্রষ্ট করার ক্ষমতা আল্লাহর হাতে। তাদের মধ্যে যাকে তিনি হিদায়াত দান করেছেন, তা তাঁর একান্ত অনুগ্রহেই দান করেছেন। আর যার ওপর পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়েছে তাও তার প্রতি আল্লাহর ন্যায় বিচার।

৪. সৃষ্ট জীব ও তাদের কর্ম আল্লাহর সৃষ্টি, অন্য কেউ-ই এটির স্রষ্টা নন। সুতরাং আল্লাহই বান্দার কর্মকাণ্ডের স্রষ্টা। আর সৃষ্টিজগতও প্রকৃত অর্থেই সেগুলো কার্যে পরিণত করে থাকে।

৫. আল্লাহর সকল কাজের পেছনে যে হেকমত নিহিত আছে এটিকে সাব্যস্ত করতে হবে। আরও সাব্যস্ত করতে হবে যে, সমস্ত উপায় উপাদানের প্রভাব আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।

৬. মানব সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহ মানুষের হায়াতের সময় নির্ধারণ করেছেন, রিযিক বণ্টন করেছেন। আর সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য এ দু’টিও তিনি লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন।

৭. বিপদ ও কষ্টের বিষয়ে তাকদীরের যুক্তি দেখানো যেতে পারে। কিন্তু পাপ কাজের বিষয়ে তাকদীরের যুক্তি দেখানো ঠিক নয়, কেউ এমনটি করলে তাকে তাওবা করতে হবে এবং এজন্য তাকে তিরস্কার করা হবে।

৮. দুনিয়াতে চলার জন্য যে সমস্ত উপায় উপাদানের প্রয়োজন এ সবের ওপর নির্ভর করার অর্থ হলো, আল্লাহর সাথে শির্ক করা, অপরদিকে দুনিয়ার আসবাব বা উপায় উপাদান থেকে সম্পূর্ণভাবে বিমুখ হওয়ার অর্থ হলো, ইসলামী শরী‘আতকে কলঙ্কিত করা। বস্তু ও উপায় উপাদানের প্রভাবকে অস্বীকার করা শরী‘আত ও বুদ্ধি-বিবেক পরিপন্থি। আর আল্লাহর ওপর ভরসার অর্থ এই নয় যে, কোনো প্রকার উপায় উপাদান অবলম্বন করা যাবে না।