১
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদার সংক্ষিপ্ত মূলনীতি
লেখকঃ ড. নাসের ইবন আবদুল করীম আল-আকল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
প্রথম অধ্যায়: ইসলামী জ্ঞান অন্বেষণের মূল উৎস এবং উহার প্রমাণপঞ্জি উপস্থাপনের পদ্ধতি
১. ইসলামী আকীদা গ্রহণের মূল উৎস কুরআনে করীম, সহীহ হাদীস ও সালফে-সালেহীনের ইজমা।
২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীস গ্রহণ করা ওয়াজিব, এমনকি তা যদি খবরে আহাদও হয়। [খবরে আহাদ ঐ হাদীসকে বলে, যে হাদীস পরস্পরায় অসংখ্য সাহাবী থেকে বর্ণিত হয় নি।]
৩. কুরআন-সুন্নাহ বুঝার প্রধান উপাদান, কুরআন সুন্নারই অন্যান্য পাঠ, যার মধ্যে রয়েছে অপর আয়াত বা হাদীসের স্পষ্ট ব্যাখ্যা, এছাড়া আমাদের পূর্বসূরী সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন এবং আমাদের সম্মানিত ইমামগণ প্রদত্ত ব্যাখ্যা। আর আরবদের ভাষায় যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত। তবে ভাষাগত দিক থেকে অন্য কোনো অর্থের বম্ভাবনা থাকলেও সাহাবী, তাবেঈনের ব্যাখ্যার বিপরীত কোনো ব্যাখ্যা গ্রহণ করা যাবে না। সম্ভাব্য কোনো অর্থ এর বিপরীত কোনো অর্থ বহন করলেও তাদের ব্যাখ্যার ওপরেই অটল থাকতে হবে।
৪. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের মূল বিষয়বস্তুসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বর্ণনা করেছেন। এজন্য দীনের মধ্যে নতুন করে কোনো কিছু সংযোজন করার কারও অধিকার নেই।
৫. প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সর্ব বিষয়ে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সামনে আত্মসমর্পন করা। সুতরাং নিজের মানসিক ঝোঁক বা ধারণার বশঃবর্তী হয়ে, আবেগপ্রবণ হয়ে অথবা বুদ্ধির জোরে বা যুক্তি দিয়ে কিংবা কাশফ অথবা কোনো পীর-উস্তাদের কথা, কোনো ইমামের উক্তির অজুহাত দিয়ে কুরআন সুন্নাহ’র কোনো কিছুর বিরোধিতা করা যাবে না।
৬. কুরআন, সুন্নাহ’র সাথে জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিবেকের কোনো সংঘাত বা বিরোধ নেই। কিন্তু কোনো সময় যদি উভয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হয় এমতাবস্থায় কুরআন সুন্নাহ’র অর্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৭. আকীদা সংক্রান্ত বিষয়ে শরী‘আতসম্মত ভাষাও শব্দ প্রয়োগ করা এবং বিদ‘আতী পরিভাষাসমূহ বর্জন করা আর সংক্ষেপে বর্ণিত শব্দ বাক্য বা বিষয়সমূহ যা বুঝতে ভুল-শুদ্ধ উভয়েরই সম্ভাবনা থাকে, এমতাবস্থায় বক্তা থেকে ঐ সমস্ত বাক্য বা শব্দের বিস্তারিত ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করে জেনে নেওয়া, তারপর তন্মধ্যে যা হক বা সঠিক বলে প্রমাণিত হবে তা শরী‘আত সমর্থিত শব্দের মাধ্যমে সাব্যস্ত করতে হবে, আর যা বাতিল তা বর্জন করতে হবে।
৮. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন নিষ্পাপ, ভ্রুল-ত্রুটির উর্ধ্বে। আর সামষ্টিকভাবে মুসলিম উম্মাহও ভ্রান্তির উপরে একত্রিত হওয়া থেকে মুক্ত। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত) এ উম্মতের কেউই নিষ্পাপ নন।
আমাদের সম্মানিত ইমামগণ এবং অন্যান্যরা যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন, সে সমস্ত বিষয়ের সূরাহার জন্য কুরআন ও সুন্নাহ’র দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তবে উম্মতের মুজতাহিদগণের যে সমস্ত ভুল-ত্রুটি হবে সেগুলোর জন্য সঙ্গত ওযর ছিল বলে ধরে নিতে হবে। (অর্থাৎ ইজতিহাদী ভুলের কারণে তাদের মর্যাদা সমুন্নতই থাকবে এবং তাদের প্রতি সুন্দর ধারণা পোষণ করতে হবে।)
৯. এ উম্মতের মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান সমৃদ্ধ ও ইলহামপ্রাপ্ত অনেক মনীষী রয়েছেন। সুস্বপ্ন সত্য এবং তা নবুওয়াতের একাংশ। সত্য-সঠিক দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের বাণী সত্য এবং তা শরী‘আত সম্মতভাবে কারামত বা সুসংবাদের অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি ইসলামী আকীদা বা শরী‘আত প্রবর্তনের কোনো উৎস নয়।
১০. দীনের কোনো বিষয়ে অযথা তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হওয়া অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয়।
তবে উত্তম পন্থায় বিতর্ক বৈধ। আর যে সমস্ত বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া থেকে শরী‘আত নিষেধ করেছে, তা থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য। এমনিভাবে অজানা বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হওয়াও মুসলিমদের জন্য অনুচিৎ, বরং ঐ অজানা বিষয় সর্বজ্ঞ ও সর্বজ্ঞানী আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা উচিৎ।
১১. কোনো বিষয়ে বর্জন গ্রহণের জন্য অহীর পথ অবলম্বন করতে হবে। অনুরূপভাবে কোনো বিষয় বিশ্বাস বা সাব্যস্ত করার জন্যও অহীর পদ্ধতির অনুসরণ করতে হবে। সুতরাং বিদ‘আতকে প্রতিহত করার জন্য বিদ‘আতের আশ্রয় নেওয়া যাবে না। আর কোনো বিষয়ের অবজ্ঞা ঠেকাতে অতিরঞ্জন করার মাধ্যমে মোকাবেলা করা যাবে না। অনুরূপ কোনো বিষয়ের অতিরঞ্জন ঠেকাতে অবজ্ঞাও করা যাবে না। (অর্থাৎ যতটুকু শরী‘আত সমর্থন করে ততটুকুই করা যাবে)
১২. দীনের মধ্যে নব সৃষ্ট সব কিছুই বিদ‘আত এবং প্রতিটি বিদ‘আতই হলো পথভ্রষ্টতা। আর প্রত্যেক পথভ্রষ্টতার পরিণতিই জাহান্নাম।
২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীস গ্রহণ করা ওয়াজিব, এমনকি তা যদি খবরে আহাদও হয়। [খবরে আহাদ ঐ হাদীসকে বলে, যে হাদীস পরস্পরায় অসংখ্য সাহাবী থেকে বর্ণিত হয় নি।]
৩. কুরআন-সুন্নাহ বুঝার প্রধান উপাদান, কুরআন সুন্নারই অন্যান্য পাঠ, যার মধ্যে রয়েছে অপর আয়াত বা হাদীসের স্পষ্ট ব্যাখ্যা, এছাড়া আমাদের পূর্বসূরী সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন এবং আমাদের সম্মানিত ইমামগণ প্রদত্ত ব্যাখ্যা। আর আরবদের ভাষায় যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত। তবে ভাষাগত দিক থেকে অন্য কোনো অর্থের বম্ভাবনা থাকলেও সাহাবী, তাবেঈনের ব্যাখ্যার বিপরীত কোনো ব্যাখ্যা গ্রহণ করা যাবে না। সম্ভাব্য কোনো অর্থ এর বিপরীত কোনো অর্থ বহন করলেও তাদের ব্যাখ্যার ওপরেই অটল থাকতে হবে।
৪. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের মূল বিষয়বস্তুসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বর্ণনা করেছেন। এজন্য দীনের মধ্যে নতুন করে কোনো কিছু সংযোজন করার কারও অধিকার নেই।
৫. প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সর্ব বিষয়ে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সামনে আত্মসমর্পন করা। সুতরাং নিজের মানসিক ঝোঁক বা ধারণার বশঃবর্তী হয়ে, আবেগপ্রবণ হয়ে অথবা বুদ্ধির জোরে বা যুক্তি দিয়ে কিংবা কাশফ অথবা কোনো পীর-উস্তাদের কথা, কোনো ইমামের উক্তির অজুহাত দিয়ে কুরআন সুন্নাহ’র কোনো কিছুর বিরোধিতা করা যাবে না।
৬. কুরআন, সুন্নাহ’র সাথে জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিবেকের কোনো সংঘাত বা বিরোধ নেই। কিন্তু কোনো সময় যদি উভয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হয় এমতাবস্থায় কুরআন সুন্নাহ’র অর্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৭. আকীদা সংক্রান্ত বিষয়ে শরী‘আতসম্মত ভাষাও শব্দ প্রয়োগ করা এবং বিদ‘আতী পরিভাষাসমূহ বর্জন করা আর সংক্ষেপে বর্ণিত শব্দ বাক্য বা বিষয়সমূহ যা বুঝতে ভুল-শুদ্ধ উভয়েরই সম্ভাবনা থাকে, এমতাবস্থায় বক্তা থেকে ঐ সমস্ত বাক্য বা শব্দের বিস্তারিত ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করে জেনে নেওয়া, তারপর তন্মধ্যে যা হক বা সঠিক বলে প্রমাণিত হবে তা শরী‘আত সমর্থিত শব্দের মাধ্যমে সাব্যস্ত করতে হবে, আর যা বাতিল তা বর্জন করতে হবে।
৮. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন নিষ্পাপ, ভ্রুল-ত্রুটির উর্ধ্বে। আর সামষ্টিকভাবে মুসলিম উম্মাহও ভ্রান্তির উপরে একত্রিত হওয়া থেকে মুক্ত। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত) এ উম্মতের কেউই নিষ্পাপ নন।
আমাদের সম্মানিত ইমামগণ এবং অন্যান্যরা যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন, সে সমস্ত বিষয়ের সূরাহার জন্য কুরআন ও সুন্নাহ’র দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তবে উম্মতের মুজতাহিদগণের যে সমস্ত ভুল-ত্রুটি হবে সেগুলোর জন্য সঙ্গত ওযর ছিল বলে ধরে নিতে হবে। (অর্থাৎ ইজতিহাদী ভুলের কারণে তাদের মর্যাদা সমুন্নতই থাকবে এবং তাদের প্রতি সুন্দর ধারণা পোষণ করতে হবে।)
৯. এ উম্মতের মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান সমৃদ্ধ ও ইলহামপ্রাপ্ত অনেক মনীষী রয়েছেন। সুস্বপ্ন সত্য এবং তা নবুওয়াতের একাংশ। সত্য-সঠিক দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের বাণী সত্য এবং তা শরী‘আত সম্মতভাবে কারামত বা সুসংবাদের অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি ইসলামী আকীদা বা শরী‘আত প্রবর্তনের কোনো উৎস নয়।
১০. দীনের কোনো বিষয়ে অযথা তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হওয়া অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয়।
তবে উত্তম পন্থায় বিতর্ক বৈধ। আর যে সমস্ত বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া থেকে শরী‘আত নিষেধ করেছে, তা থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য। এমনিভাবে অজানা বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হওয়াও মুসলিমদের জন্য অনুচিৎ, বরং ঐ অজানা বিষয় সর্বজ্ঞ ও সর্বজ্ঞানী আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা উচিৎ।
১১. কোনো বিষয়ে বর্জন গ্রহণের জন্য অহীর পথ অবলম্বন করতে হবে। অনুরূপভাবে কোনো বিষয় বিশ্বাস বা সাব্যস্ত করার জন্যও অহীর পদ্ধতির অনুসরণ করতে হবে। সুতরাং বিদ‘আতকে প্রতিহত করার জন্য বিদ‘আতের আশ্রয় নেওয়া যাবে না। আর কোনো বিষয়ের অবজ্ঞা ঠেকাতে অতিরঞ্জন করার মাধ্যমে মোকাবেলা করা যাবে না। অনুরূপ কোনো বিষয়ের অতিরঞ্জন ঠেকাতে অবজ্ঞাও করা যাবে না। (অর্থাৎ যতটুকু শরী‘আত সমর্থন করে ততটুকুই করা যাবে)
১২. দীনের মধ্যে নব সৃষ্ট সব কিছুই বিদ‘আত এবং প্রতিটি বিদ‘আতই হলো পথভ্রষ্টতা। আর প্রত্যেক পথভ্রষ্টতার পরিণতিই জাহান্নাম।