১
ঈসা মসীহ ইসলামের এক নবী চার্চের বিকৃতির এক ঐতিহাসিক আলেখ্য
লেখকঃ মুহাম্মাদ আতাউর- রহীম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
মুখবন্ধ
খৃষ্টীয় ইতিহাসের এক বিশিষ্ট পণ্ডিত স্বীকার করেন যে, আধুনিক কালের খৃষ্টধর্ম হচ্ছে ঈসা মসীহের (Jesus) মুখের উপর একটি ‘মুখোশ’। তিনি বলেন, একটি মুখোশ দীর্ঘ সময় পরা থাকলে তা একটি নিজস্ব জীবন লাভ করে এবং সেভাবেই সেটা গৃহীত হয়। মুসলমানেরা ইতিহাসের ঈসা আলাইহিস সালামকে বিশ্বাস করে। তাই তারা ‘মুখোশ’-কে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। সংক্ষেপে, গত চৌদ্দশো’ বছর ধরে ইসলাম ও চার্চের মধ্যে এটাই মতপার্থক্যের কারণ হয়ে আছে। ইসলামের আগমনের পূর্বে এরিয়ান, পলিসিয় এবং গথদের কিছু লোক ঈসা আলাইহিস সালামকে গ্রহণ করেছিল, তবে প্রত্যাখ্যান করেছিল তার ‘মুখোশ’-কে। কিন্তু রোমান সম্রাটগণ ঈসার আলাইহিস সালাম ‘মুখোশ’-কে খৃষ্টানদের মেনে নিতে বাধ্য করে। এই অসম্ভব লক্ষ্য হাসিলের জন্য তারা লক্ষ লক্ষ খৃষ্টানকে হত্যা করে। সারভিটাসের একজন ভক্ত ক্যাসটিলো বলেন যে, “কোনো মতবাদের জন্য একজন লোককে হত্যা করলেই সেই মতবাদ প্রমাণিত হয় না।” অস্ত্রের মুখে জোর করে কোনো ধর্মে বিশ্বাস করানো যায় না।
কোনো কোনো মহলের পরামর্শ যে ইংল্যান্ডের জনসমাজের সাথে নিবিড়ভাবে মিশে যাওয়ার জন্য মুসলিমদের উচিৎ তাদের দু’টি উৎসবকে বড়দিন ও ইস্টারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। যারা একথা বলেন তারা ভুলে যান যে, শেষোক্ত উৎসবগুলো খৃষ্টান-পূর্ব পৌত্তলিক উৎসব। একটি হলো সূর্য- দেবতার প্রাচীন পন্মোৎসব এবং অন্যটি হলো প্রাচীন অ্যাংলো- স্যাক্সন উর্বরতার (সন্তান দাত্রী) দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত পবিত্র উৎসব। এ পরিস্থিতিতে বাস্তবে কারা ‘খৃষ্ট বিরোধী’ তা সহজেই অনুমেয়।
এ গ্রন্থে সম্ভবত এই প্রথমবারের মতো মরু সাগর পুঁথি (Dead Sea Scrolls), খৃষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ, আধুনিক গবেষণা ও কুরআন-হাদীসের ভিত্তিতে প্রাপ্ত সকল তথ্য ব্যবহার করে ঈসা আলাইহিস সালামের পবিত্র জীবন নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। যেসব খৃষ্টান পণ্ডিত যীশুর ইতিহাস লেখার চেষ্টা করেছেন তারা কখনোই তার ঈশ্বরত্বের ধারণা থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ মুক্ত করতে পারেন নি। যখন তারা তার ঈশ্বরত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তখন কখনো কখনো এই বলে উপসংহার টেনেছেন যে, তিনি মোটেই অস্তিত্বশীল ছিলেন না অথবা “তিনি সকলের কাছে সবকিছু।” এ রকম মানসিকতা সম্পন্ন কারো পক্ষেই একটি বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা করা অসম্ভব। ঈসা আলাইহিস সালাম অস্তিত্বশীল ছিলেন, এ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেই এ গ্রন্থ শুরু হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন মানুষ এবং আল্লাহর নবী।
এ গ্রন্থটি ৩০ বছরের অধ্যয়ন ও গবেষণার ফসল। আমাতুর রকীব বাজারে পাওয়া যায় না এমন সব বই সন্ধান করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। তাকে আমার ধন্যবাদ। এ সকল বই করাচির লাইব্রেরিগুলোতে পাওয়া যায় না। সুতরাং এই ভদ্রমহিলা আমাকে যে সাহায্য করেছেন তার গুরুত্ব অপরিসীম।
জেদ্দার মহামান্য জনাব আহমদ জামজুন করাচিতে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। আমি যখনই কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তখনি তার উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়েছি। আমি ধন্যবাদ জানাই শাইখ মাহমুদ সুবাহকে আলোচ্য বিষয়টি গভীরভাবে অধ্যয়নের জন্য আমার লন্ডন আগমন তার সাহায্যেই সম্ভব হয়েছে।
লন্ডনে আমি মহামান্য শাইখ আবদুল কাদিরের সাথে সাক্ষাৎ করি। প্রতিটি পর্যায়েই তিনি আমার প্রতি সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন। এর ফলে আমি জনাব আহমদ টমসনের সহযোগিতা লাভ করি। তিনি আমাকে বহু তথ্য ও গ্রন্থ সংগ্রহে সাহায্য করেছেন। তার এই উদার সাহায্য ছাড়া এ গ্রন্থ রচনা কতদিনে শেষ হতো, তা বলা মুশকিল। হাজী আবদুল হক বিউলি সব সময় আমাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও উপদেশ দিয়েছেন।
ডক্টর আলী আনেইজির কাছ থেকে আমি যে স্নেহ ও আন্তরিকতা লাভ করেছি, তা বলার নয়, হৃদয় দিয়ে অনুভব করার বিষয়।
পরিশেষে কুরআনের ভাষায় বলি:
﴿وَمَا تَوۡفِيقِيٓ إِلَّا بِٱللَّهِۚ﴾ [ هود : ٨٨ ]
“আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব ছিল না।” [সূরা হূদ, আয়াত: ৮৮]
মুহাম্মদ আতাউর রহীম
লন্ডন
জমাদিউল উলা, ১৩৯৭ হিজরি
কোনো কোনো মহলের পরামর্শ যে ইংল্যান্ডের জনসমাজের সাথে নিবিড়ভাবে মিশে যাওয়ার জন্য মুসলিমদের উচিৎ তাদের দু’টি উৎসবকে বড়দিন ও ইস্টারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। যারা একথা বলেন তারা ভুলে যান যে, শেষোক্ত উৎসবগুলো খৃষ্টান-পূর্ব পৌত্তলিক উৎসব। একটি হলো সূর্য- দেবতার প্রাচীন পন্মোৎসব এবং অন্যটি হলো প্রাচীন অ্যাংলো- স্যাক্সন উর্বরতার (সন্তান দাত্রী) দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত পবিত্র উৎসব। এ পরিস্থিতিতে বাস্তবে কারা ‘খৃষ্ট বিরোধী’ তা সহজেই অনুমেয়।
এ গ্রন্থে সম্ভবত এই প্রথমবারের মতো মরু সাগর পুঁথি (Dead Sea Scrolls), খৃষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ, আধুনিক গবেষণা ও কুরআন-হাদীসের ভিত্তিতে প্রাপ্ত সকল তথ্য ব্যবহার করে ঈসা আলাইহিস সালামের পবিত্র জীবন নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। যেসব খৃষ্টান পণ্ডিত যীশুর ইতিহাস লেখার চেষ্টা করেছেন তারা কখনোই তার ঈশ্বরত্বের ধারণা থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ মুক্ত করতে পারেন নি। যখন তারা তার ঈশ্বরত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তখন কখনো কখনো এই বলে উপসংহার টেনেছেন যে, তিনি মোটেই অস্তিত্বশীল ছিলেন না অথবা “তিনি সকলের কাছে সবকিছু।” এ রকম মানসিকতা সম্পন্ন কারো পক্ষেই একটি বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা করা অসম্ভব। ঈসা আলাইহিস সালাম অস্তিত্বশীল ছিলেন, এ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেই এ গ্রন্থ শুরু হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন মানুষ এবং আল্লাহর নবী।
এ গ্রন্থটি ৩০ বছরের অধ্যয়ন ও গবেষণার ফসল। আমাতুর রকীব বাজারে পাওয়া যায় না এমন সব বই সন্ধান করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। তাকে আমার ধন্যবাদ। এ সকল বই করাচির লাইব্রেরিগুলোতে পাওয়া যায় না। সুতরাং এই ভদ্রমহিলা আমাকে যে সাহায্য করেছেন তার গুরুত্ব অপরিসীম।
জেদ্দার মহামান্য জনাব আহমদ জামজুন করাচিতে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। আমি যখনই কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তখনি তার উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়েছি। আমি ধন্যবাদ জানাই শাইখ মাহমুদ সুবাহকে আলোচ্য বিষয়টি গভীরভাবে অধ্যয়নের জন্য আমার লন্ডন আগমন তার সাহায্যেই সম্ভব হয়েছে।
লন্ডনে আমি মহামান্য শাইখ আবদুল কাদিরের সাথে সাক্ষাৎ করি। প্রতিটি পর্যায়েই তিনি আমার প্রতি সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন। এর ফলে আমি জনাব আহমদ টমসনের সহযোগিতা লাভ করি। তিনি আমাকে বহু তথ্য ও গ্রন্থ সংগ্রহে সাহায্য করেছেন। তার এই উদার সাহায্য ছাড়া এ গ্রন্থ রচনা কতদিনে শেষ হতো, তা বলা মুশকিল। হাজী আবদুল হক বিউলি সব সময় আমাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও উপদেশ দিয়েছেন।
ডক্টর আলী আনেইজির কাছ থেকে আমি যে স্নেহ ও আন্তরিকতা লাভ করেছি, তা বলার নয়, হৃদয় দিয়ে অনুভব করার বিষয়।
পরিশেষে কুরআনের ভাষায় বলি:
﴿وَمَا تَوۡفِيقِيٓ إِلَّا بِٱللَّهِۚ﴾ [ هود : ٨٨ ]
“আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব ছিল না।” [সূরা হূদ, আয়াত: ৮৮]
মুহাম্মদ আতাউর রহীম
লন্ডন
জমাদিউল উলা, ১৩৯৭ হিজরি