১
কাদিয়ানীরা নিন্দনীয় কেন
লেখকঃ ড. রফী‘ উওনলা বাসীরী ইজীবুঈ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
৫. আখিরাতের ওপর ঈমান সম্পর্কে:
প্রত্যেক মুসলিমই এটা বিশ্বাস করে যে, পরকাল আছে; যেখানে পাপ পূণ্যের বিচার হবে এবং প্রত্যেকের কাজ অনুযায়ী সে প্রতিফল ভোগ করবে, কিন্তু গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এ ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষন করে, সে ১৮৯৩ সর্বপ্রথম ১৩১১ হি. মোতাবেক কিয়ামতের যে সমস্ত আলামত রয়েছে:
১. সেগুলোকে অস্বীকার করে। যেমন, তার আরবী বই ( حمامة البشرى )-তে সূরা আ‘রাফ এর ১৮৭ নং আয়াত [আয়াতটির অর্থ নিম্নরূপ: আল্লাহ বলেন “তারা আপনাকে প্রশ্ন করছে কিয়ামত কখন হবে? বলুন, এর জ্ঞান একমাত্র আমার রবের কাছেই, তিনি ছাড়া অপরের কাছে তার সময় তিনি প্রকাশ করেন না, আকাশ ও যমীনের জ্ঞান জানতে অপারগ হয়েছে, শুধু হঠাৎ করেই সেটা সংঘটিত হবে, তারা আপনাকে প্রশ্ন করছে, যেন আপনি এর সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন, বলুন, এর জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই অথচ অনেক লোকই সেটা জানে না।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৮৭]গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী এ কিয়ামতের “হঠাৎ করে অনুষ্ঠিত হবার” কথা দ্বারা কিয়ামতের পূর্বে যে সমস্ত আলামত বের হবার ভবিষ্যদ্বাণী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে গেছেন, সেগুলোকে অস্বীকার করতে চেষ্টা করল।]
﴿يَسَۡٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرۡسَىٰهَاۖ قُلۡ إِنَّمَا عِلۡمُهَا عِندَ رَبِّيۖ لَا يُجَلِّيهَا لِوَقۡتِهَآ إِلَّا هُوَۚ ثَقُلَتۡ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ لَا تَأۡتِيكُمۡ إِلَّا بَغۡتَةٗۗ يَسَۡٔلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنۡهَاۖ قُلۡ إِنَّمَا عِلۡمُهَا عِندَ ٱللَّهِ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعۡلَمُونَ ١٨٧﴾ [ الاعراف : ١٨٧ ]
এর ব্যাখ্যা বিকৃত করতে গিয়ে শব্দটিকে ( بَغۡتَةٗۗ ) হিসাবে লিখে: [যদিও আরবী ভাষায় এমন কোনো শব্দ নেই।] আয়াতের ভুল ব্যাখ্যায় গিয়ে বলে যে, ( بغطة ) শব্দটি দ্বারা প্রকাশ্যভাবে বুঝায় যে, কিয়ামতের যে সমস্ত আকাট্য প্রমাণ বা প্রকাশিত হবে বলে বলা হয়, তা কখনো অনুষ্ঠিত হবে না। [( حمامة البشرى ) পৃ. ২৮৩]
এতো গেল তার প্রথম প্রদক্ষেপ, দ্বিতীয় স্তরে এসে ১৩১৮ হিজরী মোতাবেক ১৯০১ সালে সে সরাসরি পরকাল অস্বীকার করার জন্য প্রথমে শব্দের নম্বর হিসাব করে গাণিতীয় কায়দায় বললো “আজকের দিনে কাল তার সর্বশেষ গুর্ণায়নে পৌঁছেছে, সূরা আল-ফাতিহায় বর্ণিত ইহকালের নির্ধারিত সময় সাত হাজার চন্দ্র বছর এবং সূর্য্য বছর শেষ হতে চলেছে” [ إعجاز المسيح في تفسير أم الكتاب পৃ. ২৯]
এ কথার ব্যাখ্যায় তার ছেলে মাহমুদ বলে: “পরকাল মৃত্যুর পরেই শুরু হয়ে থাকে, মৃত্যু সময় থেকে পৃথক করে হাজার বছর পরে নির্দিষ্ট সময়ে পরকাল বলতে কিছু নেই” [( الحركة الأحمدية ), AHMADIATS. MOVEMENT. P. 103.]
মোট কথা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী যখন দাবী করল যে, সেই হলো প্রতিশ্রুত মসীহ, [ইসা আলাইহিসসালাম এর অপর নাম, বা উপনাম, মুসলিমরা সবাই বিশ্বাস করেন যে, তিনি বায়তুল মোকাদ্দাসের মিনারায় দাজ্জালকে হত্যা করার জন্য, আকাশ থেকে অবতরণ করবেন।] তখন থেকেই সে তার এ দাবীর সমর্থনে বলতে আরম্ভ করল যে, তার আবির্ভাবের পরবর্তী সময়টাই হলো কিয়ামত, আর এ ব্যাপারে তার যুক্তি হলো যে, প্রতিটি শব্দের গোপন একটা নম্বর রয়েছে। সেই শুধুমাত্র তা জানে আর সে অনুসারে হিসাব-নিকাশ করে সে সিদ্ধান্ত নিয়াছে যে, ইহকালীন বয়স যত হবার কথা তা শেষ হয়ে গেছে তার আবির্ভাবের সাথে সাথেই। সুতরাং তার আবির্ভাবের পরবর্তী জীবনটাকে পরকালীন জীবন হিসাবে মানতে হবে। এভাবেই সে তার সমস্ত প্রচেষ্টা ইয়াহূদী নাসারাদের কিয়ামত সম্পর্কিত বিশ্বাস এর সাথে সম্পৃক্ত করতে চাইলো, কিন্তু যখন তার মারা যাওয়ার পরও দুনিয়ার অস্তিত্ব রয়ে গেল, তখন তার অনুসারীরা সেই বিশ্বাসটাকে নতুন করে সাজাবার চেষ্টা করতে লাগল, কিন্তু হায়! তার সমস্ত পুস্তকাদী এব্যাপারে এত স্পষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণবহ যে সেটা কোনো ব্যাখ্যাই গ্রহণ করছে না।
১. সেগুলোকে অস্বীকার করে। যেমন, তার আরবী বই ( حمامة البشرى )-তে সূরা আ‘রাফ এর ১৮৭ নং আয়াত [আয়াতটির অর্থ নিম্নরূপ: আল্লাহ বলেন “তারা আপনাকে প্রশ্ন করছে কিয়ামত কখন হবে? বলুন, এর জ্ঞান একমাত্র আমার রবের কাছেই, তিনি ছাড়া অপরের কাছে তার সময় তিনি প্রকাশ করেন না, আকাশ ও যমীনের জ্ঞান জানতে অপারগ হয়েছে, শুধু হঠাৎ করেই সেটা সংঘটিত হবে, তারা আপনাকে প্রশ্ন করছে, যেন আপনি এর সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন, বলুন, এর জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই অথচ অনেক লোকই সেটা জানে না।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৮৭]গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী এ কিয়ামতের “হঠাৎ করে অনুষ্ঠিত হবার” কথা দ্বারা কিয়ামতের পূর্বে যে সমস্ত আলামত বের হবার ভবিষ্যদ্বাণী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে গেছেন, সেগুলোকে অস্বীকার করতে চেষ্টা করল।]
﴿يَسَۡٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرۡسَىٰهَاۖ قُلۡ إِنَّمَا عِلۡمُهَا عِندَ رَبِّيۖ لَا يُجَلِّيهَا لِوَقۡتِهَآ إِلَّا هُوَۚ ثَقُلَتۡ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ لَا تَأۡتِيكُمۡ إِلَّا بَغۡتَةٗۗ يَسَۡٔلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنۡهَاۖ قُلۡ إِنَّمَا عِلۡمُهَا عِندَ ٱللَّهِ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعۡلَمُونَ ١٨٧﴾ [ الاعراف : ١٨٧ ]
এর ব্যাখ্যা বিকৃত করতে গিয়ে শব্দটিকে ( بَغۡتَةٗۗ ) হিসাবে লিখে: [যদিও আরবী ভাষায় এমন কোনো শব্দ নেই।] আয়াতের ভুল ব্যাখ্যায় গিয়ে বলে যে, ( بغطة ) শব্দটি দ্বারা প্রকাশ্যভাবে বুঝায় যে, কিয়ামতের যে সমস্ত আকাট্য প্রমাণ বা প্রকাশিত হবে বলে বলা হয়, তা কখনো অনুষ্ঠিত হবে না। [( حمامة البشرى ) পৃ. ২৮৩]
এতো গেল তার প্রথম প্রদক্ষেপ, দ্বিতীয় স্তরে এসে ১৩১৮ হিজরী মোতাবেক ১৯০১ সালে সে সরাসরি পরকাল অস্বীকার করার জন্য প্রথমে শব্দের নম্বর হিসাব করে গাণিতীয় কায়দায় বললো “আজকের দিনে কাল তার সর্বশেষ গুর্ণায়নে পৌঁছেছে, সূরা আল-ফাতিহায় বর্ণিত ইহকালের নির্ধারিত সময় সাত হাজার চন্দ্র বছর এবং সূর্য্য বছর শেষ হতে চলেছে” [ إعجاز المسيح في تفسير أم الكتاب পৃ. ২৯]
এ কথার ব্যাখ্যায় তার ছেলে মাহমুদ বলে: “পরকাল মৃত্যুর পরেই শুরু হয়ে থাকে, মৃত্যু সময় থেকে পৃথক করে হাজার বছর পরে নির্দিষ্ট সময়ে পরকাল বলতে কিছু নেই” [( الحركة الأحمدية ), AHMADIATS. MOVEMENT. P. 103.]
মোট কথা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী যখন দাবী করল যে, সেই হলো প্রতিশ্রুত মসীহ, [ইসা আলাইহিসসালাম এর অপর নাম, বা উপনাম, মুসলিমরা সবাই বিশ্বাস করেন যে, তিনি বায়তুল মোকাদ্দাসের মিনারায় দাজ্জালকে হত্যা করার জন্য, আকাশ থেকে অবতরণ করবেন।] তখন থেকেই সে তার এ দাবীর সমর্থনে বলতে আরম্ভ করল যে, তার আবির্ভাবের পরবর্তী সময়টাই হলো কিয়ামত, আর এ ব্যাপারে তার যুক্তি হলো যে, প্রতিটি শব্দের গোপন একটা নম্বর রয়েছে। সেই শুধুমাত্র তা জানে আর সে অনুসারে হিসাব-নিকাশ করে সে সিদ্ধান্ত নিয়াছে যে, ইহকালীন বয়স যত হবার কথা তা শেষ হয়ে গেছে তার আবির্ভাবের সাথে সাথেই। সুতরাং তার আবির্ভাবের পরবর্তী জীবনটাকে পরকালীন জীবন হিসাবে মানতে হবে। এভাবেই সে তার সমস্ত প্রচেষ্টা ইয়াহূদী নাসারাদের কিয়ামত সম্পর্কিত বিশ্বাস এর সাথে সম্পৃক্ত করতে চাইলো, কিন্তু যখন তার মারা যাওয়ার পরও দুনিয়ার অস্তিত্ব রয়ে গেল, তখন তার অনুসারীরা সেই বিশ্বাসটাকে নতুন করে সাজাবার চেষ্টা করতে লাগল, কিন্তু হায়! তার সমস্ত পুস্তকাদী এব্যাপারে এত স্পষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণবহ যে সেটা কোনো ব্যাখ্যাই গ্রহণ করছে না।