১
কাদিয়ানীরা নিন্দনীয় কেন
লেখকঃ ড. রফী‘ উওনলা বাসীরী ইজীবুঈ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
৪. রাসূলদের ওপর ঈমান আনা সম্পর্কে:
মুসলিমদের বিশ্বাস হলো যে, নবীগণ পবিত্র নসল ও নসব থেকে নির্বাচিত হতে হয়ে থাকেন, সুতরাং তাদের নসব এ কোনো প্রকার ব্যাভিচারের নাম গন্ধও নেই কিন্তু গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর মতে নবীদের আসল নসব পবিত্র হতে হবে এমন কোনো কথা নেই, বরং সে তার উর্দু বই (কিসতিয়ে নূহ)-তে মারইয়াম ‘আলাইহাস সালাম সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলছে, (সে তার গর্ভসহ বিবাহ বসতে বাধ্য হয়েছিল। কারণ, তার স্বজাতীয় মুরুব্বীরা তাকে বিবাহের জন্য পীড়াপীড়ি করছিল) [কিসতিয়ে নূহ পৃ. ২১]
তারপর তার নবুওয়াতের দাবীর দ্বিতীয় পর্যাযে সে যখন নিজকে ঈসা ‘আলাইহিস সালামের অনুরূপ বা স্বদৃশ্য (Analogous) বলে বর্ণনা করত, তখন বলত “ঈশার সদৃশ ব্যক্তি ঈশা থেকেও উত্তম” [Our teaching- p. 17]
অতঃপর তার জীবনের তৃতীয় স্তরে যখন সে পূর্ণ নবুওয়াত দাবী করলো তখন সে স্পষ্টাক্ষরে নিজের নবুওয়াতের কথা বলতে নিরস্ত থেকে প্রথমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে না‘ত কসীদা লিখতে আরম্ভ করল, এ সমস্ত কসিদায় সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় সীমালঙ্গন করতে লাগল। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই নাম ছিল, (মুহাম্মাদ, আহমাদ) সেহেতু সে এসব কসীদায় দ্বিতীয় নামটির ব্যবহার বেশি করে করতে লাগল, তবে এসব কিছুতে ধাঁধাঁ ও প্রহেলিকা এমন ব্যাপকহারে ব্যাবহার করতো যে, সে কি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসা করছে নাকি আহমদ (নিজ নাম এর শেষাংশ) এর প্রশংসা করছে তা অনেকেই বুঝতে পারত না।
অতঃপর সে সরাসরি আহমাদ দ্বারা নিজকে বুঝাবার এক চমৎকার পন্থা আবিস্কার করলো এবং বললো “আমার এ জুব্বায় (পোশাকে) আল্লাহর নূর ছাড়া আর কিছুই নেই, আসহাবে সুফফা তোমার ওপর দুরুদ পাঠ করছে, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মহীয়ানরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে; কিন্তু আহমাদ সে আত্ম প্রকাশ করেছে সম্মোহনীরূপ নিয়ে” [আল-ইসতেফতা: পৃ. ১৮. ৮৮. ৯৪]
অনুরূপভাবে ধাঁধাঁর ব্যবহার সম্পন্ন হওয়ার পর এক সময় সরাসরি নবুওয়াতের দাবী করে বললো: “আমি যা কিছুই বলেছি, সেটা আমার রব-এর পক্ষ থেকে যে আমার নিত্য সঙ্গী” [কসীদা পৃ. ৬]
তার অনুসারীরা তার নবুওয়াতের দাবীকে চাঙ্গা করতে সূরা আল-জুমু‘আ-এর আয়াত (২-৩)
﴿هُوَ ٱلَّذِي بَعَثَ فِي ٱلۡأُمِّيِّۧنَ رَسُولٗا مِّنۡهُمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمۡ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبۡلُ لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ ٢ وَءَاخَرِينَ مِنۡهُمۡ لَمَّا يَلۡحَقُواْ بِهِمۡۚ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ ٣﴾ [ الجمعة : ٢، ٣ ]
এর অনুবাদ করতে যেয়ে সম্পূর্ণ বিকৃতভাবে ( وَءَاخَرِينَ مِنۡهُمۡ لَمَّا يَلۡحَقُواْ بِهِمۡۚ )-এর অনুবাদে এ কথা ঢোকালো যে, এর অর্থ হলো (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয়বার গোলাম আহমাদ-এর রূপ নিয়ে আবার দুনিয়ায় আসবে। [কুরআনের ইংরেজী অনুবাদ সূরা জুম‘আ দ্রষ্টব্য।] এর চেয়ে বড় কুফুরী আর কী হতে পারে?
যেখানে সে নিজকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণজম্মের রূপ বলে দাবী করছে? [আয়াতটির সরল অর্থ হলো: আল্লাহ বলছেন: (তিনি আল্লাহ যিনি অশিক্ষিত লোকদের মাঝে তাদের থেকে একজনকে নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াত পাঠ করবে কিতাব ও সুন্নাত শিক্ষা দিবে, যদিও তারা এর পূর্বে প্রকাশ্য ভ্রষ্টতায় ছিল। আর (তার দ্বারা আরও যারা দুনিয়াতে আসে নি (অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্ম) তারাও হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে। আর আল্লাহ হলেন প্রবল পরাক্রমশালী, বিজ্ঞময়, এই তাফসীরটাই সাহাবায়ে কেরাম এবং সলফে সালেহীনের সর্বসম্মত মত। এখানে কারো কোনো দ্বিমত নেই, আর আরবী ভাষার অনুবাদেও এর বাহিরে কিছু বুঝায় না। সুতরাং কাদীয়ানীদের অনুবাদের সাথে এর কোনো মিল নেই; বরং তাদের অনুবাদের সাথে আয়াতের কোনো সম্পর্কেই নেই।]
মুসলিমরা এ ব্যাপারে যতটুকু সাবধান হয়েছে?
এ পুনর্জন্মবাদের এ বিশ্বাস হিন্দুদের থেকে ধার করা বুলি মাত্র।
তারপর তার নবুওয়াতের দাবীর দ্বিতীয় পর্যাযে সে যখন নিজকে ঈসা ‘আলাইহিস সালামের অনুরূপ বা স্বদৃশ্য (Analogous) বলে বর্ণনা করত, তখন বলত “ঈশার সদৃশ ব্যক্তি ঈশা থেকেও উত্তম” [Our teaching- p. 17]
অতঃপর তার জীবনের তৃতীয় স্তরে যখন সে পূর্ণ নবুওয়াত দাবী করলো তখন সে স্পষ্টাক্ষরে নিজের নবুওয়াতের কথা বলতে নিরস্ত থেকে প্রথমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে না‘ত কসীদা লিখতে আরম্ভ করল, এ সমস্ত কসিদায় সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় সীমালঙ্গন করতে লাগল। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই নাম ছিল, (মুহাম্মাদ, আহমাদ) সেহেতু সে এসব কসীদায় দ্বিতীয় নামটির ব্যবহার বেশি করে করতে লাগল, তবে এসব কিছুতে ধাঁধাঁ ও প্রহেলিকা এমন ব্যাপকহারে ব্যাবহার করতো যে, সে কি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসা করছে নাকি আহমদ (নিজ নাম এর শেষাংশ) এর প্রশংসা করছে তা অনেকেই বুঝতে পারত না।
অতঃপর সে সরাসরি আহমাদ দ্বারা নিজকে বুঝাবার এক চমৎকার পন্থা আবিস্কার করলো এবং বললো “আমার এ জুব্বায় (পোশাকে) আল্লাহর নূর ছাড়া আর কিছুই নেই, আসহাবে সুফফা তোমার ওপর দুরুদ পাঠ করছে, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মহীয়ানরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে; কিন্তু আহমাদ সে আত্ম প্রকাশ করেছে সম্মোহনীরূপ নিয়ে” [আল-ইসতেফতা: পৃ. ১৮. ৮৮. ৯৪]
অনুরূপভাবে ধাঁধাঁর ব্যবহার সম্পন্ন হওয়ার পর এক সময় সরাসরি নবুওয়াতের দাবী করে বললো: “আমি যা কিছুই বলেছি, সেটা আমার রব-এর পক্ষ থেকে যে আমার নিত্য সঙ্গী” [কসীদা পৃ. ৬]
তার অনুসারীরা তার নবুওয়াতের দাবীকে চাঙ্গা করতে সূরা আল-জুমু‘আ-এর আয়াত (২-৩)
﴿هُوَ ٱلَّذِي بَعَثَ فِي ٱلۡأُمِّيِّۧنَ رَسُولٗا مِّنۡهُمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمۡ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبۡلُ لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ ٢ وَءَاخَرِينَ مِنۡهُمۡ لَمَّا يَلۡحَقُواْ بِهِمۡۚ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ ٣﴾ [ الجمعة : ٢، ٣ ]
এর অনুবাদ করতে যেয়ে সম্পূর্ণ বিকৃতভাবে ( وَءَاخَرِينَ مِنۡهُمۡ لَمَّا يَلۡحَقُواْ بِهِمۡۚ )-এর অনুবাদে এ কথা ঢোকালো যে, এর অর্থ হলো (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয়বার গোলাম আহমাদ-এর রূপ নিয়ে আবার দুনিয়ায় আসবে। [কুরআনের ইংরেজী অনুবাদ সূরা জুম‘আ দ্রষ্টব্য।] এর চেয়ে বড় কুফুরী আর কী হতে পারে?
যেখানে সে নিজকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণজম্মের রূপ বলে দাবী করছে? [আয়াতটির সরল অর্থ হলো: আল্লাহ বলছেন: (তিনি আল্লাহ যিনি অশিক্ষিত লোকদের মাঝে তাদের থেকে একজনকে নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াত পাঠ করবে কিতাব ও সুন্নাত শিক্ষা দিবে, যদিও তারা এর পূর্বে প্রকাশ্য ভ্রষ্টতায় ছিল। আর (তার দ্বারা আরও যারা দুনিয়াতে আসে নি (অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্ম) তারাও হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে। আর আল্লাহ হলেন প্রবল পরাক্রমশালী, বিজ্ঞময়, এই তাফসীরটাই সাহাবায়ে কেরাম এবং সলফে সালেহীনের সর্বসম্মত মত। এখানে কারো কোনো দ্বিমত নেই, আর আরবী ভাষার অনুবাদেও এর বাহিরে কিছু বুঝায় না। সুতরাং কাদীয়ানীদের অনুবাদের সাথে এর কোনো মিল নেই; বরং তাদের অনুবাদের সাথে আয়াতের কোনো সম্পর্কেই নেই।]
মুসলিমরা এ ব্যাপারে যতটুকু সাবধান হয়েছে?
এ পুনর্জন্মবাদের এ বিশ্বাস হিন্দুদের থেকে ধার করা বুলি মাত্র।