hadith book logo

কাদিয়ানীরা নিন্দনীয় কেন

লেখকঃ ড. রফী‘ উওনলা বাসীরী ইজীবুঈ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

খ. তাদের আকীদা-বিশ্বাস ১. আল্লাহর ওপর ঈমান সম্পর্কে:

মুসলিম মাত্রই এটা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তা‘আলার ওপর বিশ্বাস তিন দিক থেকে হতে হয়:

এক: সমস্ত সৃষ্টি জগতের সৃষ্টি করা, পালন করা, আইন দান, মৃত্যু ও জীবন দান এগুলো একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই বিশেষত্ব।

দুই: অনুরূপভাবে যিনি সৃষ্টি করেন, লালন করেন, জন্ম-মৃত্যু প্রদান করেন জীবন বিধান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন শুধু সে আল্লাহই যাবতীয় ইবাদত বা উপাসনার একমাত্র হকদার, অন্য কেউ এতে অংশীদার নয়। সুতরাং দো‘আ, মান্নত, কুরবানী, বিপদমুক্তি, সাহায্য ইত্যাদি তথা সর্বপ্রকার ইবাদতে একমাত্র তাঁকেই উদ্দেশ্য করতে হবে।

তিন: আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল কতৃক আল্লাহর জন্য নির্দিষ্টকৃত নাম ও গুণাগুণকে কোনো প্রকার পরিবর্তন ও বিকৃত না করে তাঁর উপযোগী যেভাবে হবে সেভাবে তার জন্য তা সাব্যস্ত করা।

কিন্তু যদি কাদিয়ানীদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয় তাহলে দেখা যাবে তারা এ তিনটি বিশ্বাসেই মুসলিমদের আকীদা-বিশ্বাসের বিরোধিতা করছে। যেমন:

মীর্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ‘শির্ক ফির রাবুবিয়াত’ বা আল্লাহ তা‘আলার সাথে নিজেকেও সবকিছুর স্রষ্টা ও মালিক বলে দাবী করেছে। এ ব্যাপারে তার মতামত হলো: সে এ মর্মে অহী বা বাণী পেয়েছে যে, তাকে বলা হচ্ছে: “আমার যেমন আকাশ ও ভুমণ্ডলের মালিকানা রয়েছে তেমনি তা তোমারও।” [Ahmadiet Movement: Mirja Bashiruddin p. 118]

এ কথা ঠিক রাখতেই সে তার উর্দু ‘তাওদীহুল মারাম [ توضيح المرام পৃ. ৬৮-৬৯] বইয়ে আল্লাহ তা‘আলাকে ভয়ঙ্কর সামুদ্রিক অক্টোপাস [সামুদ্রিক প্রাণী বিশেষ, যার আটটি শিং থাকে আর শরীর থাকে অত্যন্ত নরম।] এর সাথে তুলনা করেছে।

অনুরূপভাবে ইবাদত যে, শুধুমাত্র আল্লাহকেই করতে হবে তাতেও সে দ্বিমত পোষণ করেছে, বরং আল্লাহর সাথে তারও ইবাদত করার জন্য সে লোকদের আহ্বান করেছে’ যেমন, তার দাবী অনুযায়ী তার কাছে এই মর্মে বাণী এসেছে (!) যে, “তোমার সাথে আমার সম্পর্ক হলো, তুমি আমার সাথে একীভূত, একই সূত্রে গ্রথিত...... আল্লাহ তোমার পবিত্রতা জপ করছে ..... আর যে কেউ আল্লাহর প্রকাশ্য রূপের [প্রকাশ্যরূপ বলতে তার উদ্দেশ্য: সে আল্লাহর প্রকাশ্য রূপ হয়ে দুনিয়াতে আগমন করেছে।] সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তার কাছে কোনো মঙ্গল নেই।” [ الاستفتاء পৃ. ৫, ২৮, ৮৮, ৮৯, ৯৪]

আল্লাহর একত্ববাদের প্রমাণবাহী কুরআন-হাদীস কর্তৃক প্রমাণিত আল্লাহর নাম ও গুনাবলীসমূহ সম্পর্কে তার মতামত আরো জঘন্য। সে আল্লাহকে এমন কতেক নাম ও গুণে বিভূষিত করেছে যা কক্ষনো আল্লাহর (স্রষ্টার) শান-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না, বরং তা কেবল বান্দার (সৃষ্টিজগতের) গুণই হতে পারে। যেমন, সে বলছে “আল্লাহ ....তরবারী নির্মাতা।” [ الاستفتاء পৃ. ৪৬]

আরও বলছে: “আমার রব চৌকিদারের মতো আমার সামনে সামনে হাঁটে।” [ مواهب الرحمن পৃ. ২৩]

উপরন্তু সে সর্বেশ্বরবাদ ( وحدة الوجود -Pantheism) বা জগতের সবকিছু এক তথা সৃষ্টি জগত এবং স্রষ্টা একই বস্তুর দুইদিক, এ ভ্রান্ত বিশ্বাসের প্রবক্তা। তাই সে তার আরবী গ্রন্থ ( الاستفتاء )-তে তার দাবী মোতাবেক আল্লাহর সাথে কথোপকথনের সময় আল্লাহ তা‘আলা নাকি তাকে বলছে (!) “তুমি আমার থেকে, আর আমি তোমার থেকে।” [ الاستفتاء পৃ. ৮১]

অন্য এক স্থানে আল্লাহকে তার মহৎ গুণাগুণের বিপরীত গুণে ভূষিত করেছে। যেমন, তার দাবী অনুসারে আল্লাহর সাথে কথোপকথনের সময় তার কাছে নাকি এ মর্মে বাণী এসেছে যে, “তোমার সাথে আমার সম্পর্ক পিতা পুত্রের সম্পর্ক, তুমি আমার পুত্রতুল্য।” [ الاستفتاء পৃ. ৯১]

এতেই শেষ নয় বরং অন্য স্থানে বলছে তার কাছে নাকি অহী এসেছে এই বলে যে, “হে আল্লাহর নবী! আমি তোমাকে চিনতে পারি নি।” [ الاستفتاء পৃ. ৯৫]

এ হলো তাওহীদ বা একত্ববাদ সম্পর্কে কাদিয়ানীদের মোটামুটি সংক্ষিপ্ত বিশ্বাস।

প্রত্যেক মুসলিমকেই তাদের এ বিশ্বাস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানী হতে হবে। যাতে তারা কাদিয়ানীদের প্রকাশ্য কথা-বার্তা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ধোকা না খায়। কারণ, তারা প্রকাশ্যে শির্ক থেকে মুক্ত থাকার অঙ্গিকার করে থাকে, কিন্তু প্রতিষ্ঠাতা নবুওয়াতের দাবীদারের সব গ্রন্থই শির্কে পরিপূর্ণ।