hadith book logo

কিয়ামুল লাইলের সমপরিমাণ সওয়াব

লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইবরাহিম আন-নাইম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

৮. জুমার কতিপয় আদাব গুরুত্বসহ আদায় করা।

আউস ইব্‌ন আউস সাকাফি ‎ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:

( مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ ، ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ ، وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ ، وَدَنَا مِنْ الإِمَامِ ، فَاسْتَمَعَ وَلَمْ يَلْغُ ، كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ عَمَلُ سَنَةٍ ؛ أَجْرُ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا ).

“জুমার দিন যে গোসল করল, ভালো করে; অতঃপর আগেভাগে মসজিদে গেল; হেঁটে চলল, বাহনে চড়ল না; ইমামের নিকটবর্তী হল; অনর্থক কর্মে লিপ্ত না হয়ে মনোযোগসহ শ্রবণ করল; তার প্রতি কদমে লেখা হবেএক বছরের আমল তথা এক বছরের সিয়াম ও কিয়ামের সওয়াব”। [আহমদ ফি ‘ফাতহুল রাব্বানি’: (৬/৫১), তিরমিযি: (৪৯৬), আবু দাউদ: (৩৪৫), নাসায়ি: (১৩৮১), ইব্‌ন মাজাহ: (১০৮৭), দারামি: (১৫৪৭), হাকেম: (১০৪১), ইব্‌ন খুজাইমাহ: (১৭৫৮), আল-বানি হাদিসটি সহিহ বলেছেন, দেখুন: সহিহ আল-জামে: (৬৪০৫)]

অতএব যে ব্যক্তি এসব আদব রক্ষা করবে তার প্রতি কদম এক রাত অথবা এক সপ্তাহ অথবা এক মাস কিয়ামের সমান নয়, বরং পূর্ণ এক বছর কিয়াম করার সমান।

জুমার দিন গোসল করা, আগে আগে ও পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া, ইমামের নিকটবর্তী বসা, শেষের কাতারে পিছিয়ে না পড়া, মনোযোগসহ খুতবা শ্রবণ করা এবং বেহুদা ও অনর্থক কর্মকাণ্ড ত্যাগ করার মধ্যে এসব আদব সীমাবদ্ধ, যা খুব সহজ ও খুব সামান্য।

জ্ঞাতব্য যে, খুতবার সময় অহেতুক নড়াচড়া করা অনর্থক কর্মের অন্তর্ভুক্ত। যে অনর্থক কর্ম করল তার জুমা নেই। যে পাথর স্পর্শ করল সে অনর্থক কর্ম করল। যে বলল, ‘চুপ থাক’, সে অনর্থক কর্ম করল: অর্থাৎ যে তার পাশের সাথী অথবা নিজের সন্তানকে বলল ‘চুপ থাক’ সে বেহুদা কর্ম করল। খুতবার সময় যে তসবিহ অথবা মোবাইল অথবা কোন জিনিস দ্বারা খেলল, সেও অনর্থক কর্ম করল।

সুতরাং জুমার আদবসমূহে শিথিলতা করা ঠিক নয়, অন্যথায় আমরা এমন সব বিরাট সওয়াব থেকে বঞ্চিত হব, পরকালে যা আমাদের নেকির পাল্লা ভারী করবে ও অনেক বছরের সওয়াব প্রদান করবে।