hadith book logo

কিয়ামুল লাইলের সমপরিমাণ সওয়াব

লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইবরাহিম আন-নাইম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

৩. সম্পূর্ণ তারাবি ইমামের সাথে আদায় করা।

আবু যর গিফারি ‎ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রমযানে সিয়াম রাখলাম, সাত দিন বাকি থাকার আগে মাসের কোথাও তিনি আমাদের নিয়ে কিয়াম করেননি। তিনি আমাদের নিয়ে কিয়াম করলেন যে, রাতের এক তৃতীয়াংশ সমাপ্ত হল। ষষ্ঠ রাতে আমাদের নিয়ে কিয়াম করেননি, যখন পঞ্চম রাত বাকি তিনি আমাদের নিয়ে কিয়াম করলেন যে, রাতের অর্ধেক শেষ হল। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল যদি অবশিষ্ট রাতও আমাদের নিয়ে কিয়াম করতেন! আবু যর বলেন: অতঃপর তিনি বললেন: “নিশ্চয় ব্যক্তি যখন ইমামের সাথে সালাত আদায় করে তার চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত, তার জন্য পূর্ণ রাত কিয়াম করা গণ্য করা হয়”। [আহমদ ফি ‘ফাতহুর রাব্বানি’: (৫/১১), আবু দাউদ: (১৩৭৫), তিরমিযি: (৮০৬), নাসায়ি: (১৩৬৪), ইব্‌ন মাজাহ: (১৩২৭), আল-বানি হাদিসটি সহিহ বলেছেন। দেখুন: সহিহ আল-জামে: (১৬১৫)]

এটা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার জন্য অধিকাংশ মসজিদের ইমামগণ রমযানে মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করেন। তবুও কতক লোক এ ফযিলতের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করে, অথচ এসব ফযিলতের কারণেই রমযান অন্যান্য মাস থেকে আলাদা মর্যাদার অধিকারী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম‎ বলেছেন:

( مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ )

“রমযানে যে সওয়াবের দৃঢ় বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশা নিয়ে কিয়াম করল, তার পূর্বের পাপ মোচন করে দেয়া হবে”। অনুরূপ ফযিলত লাইলাতুল কদরের জন্যও রয়েছে, তার কিয়াম এক হাজার মাস কিয়াম করার চেয়ে অধিক ফযিলতপূর্ণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿ لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ ٣ ﴾ [ القدر : 3]

“লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম”। [সূরা কাদর: (৩)]

বিস্ময় লাগে তাদের প্রতি যারা এ রাতেও শিথিলতা করে।