hadith book logo

প্রবৃত্তি পূজাই সকল ব্যাধির কারণ

লেখকঃ ড. আব্দুল আজিজ আব্দুল লতিফ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

নারী প্রীতি :

নারী প্রীতি : ব্যাপক অর্থে যৌনতা বা যৌনকামনা বুঝায়। শুধূ মুসলমানদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝা যায় যে, কি পরিমাণ যৌন উন্মত্ততার বিস্তার ঘটেছে, কি পরিমাণ প্রবৃত্তির উন্মাদনায় ডুবে আছে মুসলিম যুবকরা। তারা ডিশ আর ইন্টারনেট নিয়ে সর্বক্ষণ ব্যস্ত, রাতের পর রাত পার করে দিচ্ছে শুধু অশ্লীল ও নগ্ন ছবি দেখে দেখে, আবার প্রবৃত্তির আহবানে সাড়া দিয়ে ছুটে চলেছে দূর-দূরান্তে তথা বেহায়া ও অশ্লীলতাপূর্ণ স্পটে। এদিকে মানুষ ও জ্বীন জাতির কুচক্রি একটি দল আদা-জল খেয়ে মাঠে নেমেছে মুসলমান যুবকদের চরিত্র ও ইসলামি শিষ্টাচার ধ্বংস করার নিমিত্তে। তারা যে কোন মূল্যে মুসলমানদের মধ্যে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার বিস্তার ঘটাতে চায়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَاللَّهُ يُرِيدُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَنْ تَمِيلُوا مَيْلًا عَظِيمًا ﴿النساء :27﴾

‘আর আল্লাহ চান তোমাদের তওবা কবুল করতে। আর যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে, তোমরা প্রবলভাবে (সত্য পথ থেকে) বিচ্যুত হও।’ (নিসা : ২৭)

একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য যে, প্রবৃত্তির উন্মদনার কোন শেষ নেই। যে ব্যক্তি দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত সে কোন দিন দুনিয়া দ্বারা পরিতৃপ্ত হবে না। হাদীসে এসেছে, যদি কোন মানুষের স্বর্ণের দু’টি উপত্যকা থাকে, সে তৃতীয় আরেকটি উপত্যকার অনুসন্ধানে প্রয়াসী হবে, মাটি ছাড়া অন্য কোন জিনিস তার উদর পূর্ণ করতে পারবে না। তদ্রুপ যে ব্যক্তি হালাল-হারাম বিচার না করে কাম লিপ্সায় মত্ত, সেও কোন দিন পরিতৃপ্ত হবে না, কখনো মিটবে না তার চাহিদা।

শায়খ আলী আত-তানতাবি বলেন, ‘তুমি যদি কারুনের ন্যায় সম্পদের মালিক হও, বাদশাহ হিরাকলের মত বিশাল দেহের অধিকারী হও আর তোমার অধীনে থাকে প্রত্যেক রঙ্গ, জাত-পাত ও সৌন্দর্যের দশ হাজার রূপসী নারী, তবু তোমার অন্তর তাতে তৃপ্ত হবে না এবং সেসবকে তুমি নিজের জন্য যথেষ্টও মনে করবে না। আমি এ কথা খুব জোড় গলায় বলতে পারি, বরং স্বর্ণাক্ষরেও লিখে রাখতে পারি। তবে হালাল একজন নারীই তোমার জন্য যতেষ্ট হবে, এ জন্য কোন দলিলের প্রয়োজন নেই, বরং তোমার দৈনন্দিন জীবনযাত্রার চতুর্পাশ্বে-ই রয়েছে এর হাজারো নজির।’ (ফতওয়া তান তাবি : ১৪৬)

ইবনুল মুকফে রচিত আদাবুল কাবিরে রয়েছে, ‘স্মরণ রেখ, নারীপ্রেম ও নারীপ্রীতি দীন খতম করে, স্বাস্থ্য ও সম্পদ বিনষ্ট করে, জীবনের ওপর কলঙ্কের ছাপ নিয়ে আসে, ব্যক্তিত্ব, রুচিবোধ ও মর্যাদার পতন ঘটায়। কী অদ্ভুত! একজন সুস্থ্য বিবেকবান ব্যক্তি দূর থেকে চাদরে লেপটানো এক নারীকে দেখে, অতঃপর হৃদয়ে তার রূপ ও সৌন্দর্যের ছবি অঙ্কন করে, এক পর্যায়ে তার প্রেমে পড়ে যায়, অথচ তাকে সে দেখিনি, তার সম্পর্কে কিছু শোনেনি! কখনো তার সঙ্গে অবৈধ বাসনা পূরণ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়, তবুও তার স্বাদ মিটে না, বিরত থাকে না সে অন্য নারীদের থেকে! অথচ তারাও তো দৈহিক গঠন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এ নারীর ন্যায়ই। বরং, অনাস্বাদিত প্রতিটি নারীর জন্য তার অন্তর থাকে অস্থির, উদ্গ্রীব। এমনকি যদি পৃথিবীর বুকে একটি নারীও অবশিষ্ট থাকে, তার ব্যাপারেও তার কৌতুহল শেষ হবে না। সে আরো ভাবতে থাকে, এর ভেতর রয়েছে আলাদা স্বাদ, যা অন্য নারীদের মধ্যে ছিল না। এখানেই তার নির্বুদ্ধিতা, মূর্খতা ও বোকামি। এর দ্বারাই প্রমাণিত হয় সে কপাল পোড়া, হতভাগা।’

এ পার্থিব জগতে পুরুষের জন্য সব চেয়ে ক্ষতিকর বস্ত্ত ও পরীক্ষার জিনিস হচ্ছে নারী। রাসূল সা. বলেন, ‘আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীরাই হবে পরীক্ষার বস্ত্ত।’ (মুসলিম) আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا ﴿28﴾

‘আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দূর্বল করে।’ (নিসা : ২৮)

এর ব্যাখ্যায় ইমাম তাউস রহ. বলেন, ‘নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়লে পুরুষরা দূর্বল তথা ধৈর্য হারা হয়ে যায়।’ ইবনে আববাস রহ. বলেন, ‘আগের যুগে মানুষ নারীদের কারণে কুফরে লিপ্ত হয়েছে, পরবর্তী যুগেও নারীদের কারণে কুফরে লিপ্ত হবে।’(জাম্মুল হাওয়া : ১৭৯) নিম্নে আমরা দু’টি ঘটনার উল্লেখ করছি, যার দ্বারা নারীর প্রেমে পড়ে পুরুষদের কুফরীতে লিপ্ত হওয়ার একটি চিত্র ফুটে উঠবে।