১
প্রবৃত্তি পূজাই সকল ব্যাধির কারণ
লেখকঃ ড. আব্দুল আজিজ আব্দুল লতিফ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
নারীর প্রেমে পড়ে পুরুষদের কুফরীতে লিপ্ত হওয়ার ঘটনা : প্রথম ঘটনা :
আবুল ফারাজ ইবনে জাউজি রহ. বলেন, আমি একটি ঘটনা শুনেছি, বাগদাদে একজন ব্যক্তি ছিল, যে মানুষের নিকট ‘সালেহ-মুয়াজ্জিন’ (নেককার-মুয়াজ্জিন) হিসেবে পরিচিত ছিল। চল্লিশ বৎসর সে আজানের দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছে। চারিত্রগুনের কারণে জন-সমাজে সৎ, নীতিবান ও ভাল লোক হিসেবে খুব প্রসিদ্ধি ছিল তার। একদা সে আজান দেয়ার জন্য মসজিদের মিনারায় ওঠে, মসজিদের পাশেই ছিল এক খৃষ্টান ফ্যামিলি, সে বাড়ির এক মেয়ের ওপর তার দৃষ্টি পড়ে, আর এতেই সে তার প্রেমে মগ্ন হয়ে যায়। মিনারা থেকে নেমেই সে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে দরজার কড়া নাড়া দিল। মেয়েটি বলল, কে ? সে বলল, আমি সালেহ-মুয়াজ্জিন। দরজা খুলে দিল মেয়েটি। ঘরে প্রবেশ করে সে তাকে জড়িয়ে ধরল। মেয়েটি বলল, তোমরা না সৎ! চরিত্রবান!! আমানতদার!!! তুমি একি করছ ?! সে বলল, যদি তুমি আমার কথায় সাড়া দাও, ভাল; অন্যথায় আমি তোমাকে হত্যা করব। মেয়েটি বলল, তুমি নিজ ধর্ম ত্যাগ না করলে আমি তোমার ডাকে সাড়া দিতে পারব না। তৎক্ষনাৎ সে বলল, আমি আমার ধর্ম ত্যাগ করলাম, মুহাম্মদের আনীত সমস্ত বিধান থেকে মুক্ত হলাম। অতঃপর সে মেয়েটির নিকটবর্তী হল। মেয়েটি বলল, তুমি ছলনা করছ, কার্যসিদ্ধির জন্য এ কথা বলছ, পরে তুমি নিজ ধর্মে ফিরে যাবে, যদি সত্য বলে থাক, শূকরের গোস্ত ভক্ষণ কর, সে তাতেও রাজি হল, শূকরের গোস্ত ভক্ষণ করল। মেয়েটি বলল, মদ পান কর, সে তাও করল। যখন তার ভেতর মদের ক্রিয়া শুরু হল, সে মেয়েটির কাছে এল, মেয়েটি একটি রুমে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিল। আরো বলল, তুমি ছাদে চড়, আমার আববার আসার অপেক্ষা কর, সে এসে বিয়ে পড়িয়ে দেবে। সে ছাদে উঠে এবং সেখান থেকে পড়ে মারা যায়। মেয়েটি বের হয়ে একটি কাপড় দিয়ে তার মরদেহ ডেকে রাখে। মেয়েটির পিতা এসে এ ঘটনা অবহিত হলে, মৃত দেহটি রাস্তায় ফেলে রাখে। পরদিন ঘটনা জানাজানি হয়, অতঃপর লোকেরা তার দেহ ডাষ্টবিনে ফেলে দেয়।’ (জাম্মুল হাওয়া : ৪০৯)