hadith book logo

উম্মতের ওপর নবী মুহাম্মাদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার

লেখকঃ ড. আহমাদ আল-মাযইয়াদ, ড. আদেল আশ-শিদ্দী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

সপ্তমত: যখনই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আলোচনা হবে তখনই তাঁর প্রতি দুরূদ পাঠ করা

আল্লাহ তা‘আলা মুমিনগণকে তাঁর নবীর প্রতি সালাত পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِيِّۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا ٥٦﴾ [ الاحزاب : ٥٦ ]

“নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁর ফিরিশতাগণ নবীর জন্য দো‘আ-ইস্তেগফার করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর ওপর সালাত পাঠ কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬]

আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«مَنْ صَلَّى عَلَىَّ صَلاَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا» .

“যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার সালাত পাঠ করবে, তার বিনিময়ে আল্লাহ তার ওপর দশবার সালাত পেশ করবেন (প্রশংসা করবেন)।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৭৫]

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:

«رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ» .

“ঐ ব্যক্তির নাম ধুলামলিন হউক, যার নিকট আমার আলোচনা হয় অথচ সে আমার প্রতি সালাত পাঠ করে না।” [তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৪৫]

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:

«أَوْلَى النَّاسِ بِي يَومَ القِيَامَةِ أكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلاَةً» .

“কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তি আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি সালাত পাঠ করবে।” [তিরমিযী, হাদীস নং ৪৮৪; আলবানী হাদীসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন।]

সুতরাং নির্দয় আচরণ বা দুর্ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত হলো, কোনো মানুষ কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আলোচনা শুনা, অতঃপর তাঁর ওপর দুরূদ পাঠ করতে কৃপণতা করা। ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ. তার ‘জালাউল আফহাম ফিস সালাত ওয়াস সালাম ‘আলা খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ ( جلاء الأفهام في الصلاة و السلام على خير الأنام صلى الله عليه و سلم ) নামক গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরূদ পাঠ করার অনেক উপকারিতা আলোচনা করেছেন। সুতরাং আরও বেশি জানার জন্য তা অধ্যয়ন করা যেতে পারে।