hadith book logo

উম্মতের ওপর নবী মুহাম্মাদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার

লেখকঃ ড. আহমাদ আল-মাযইয়াদ, ড. আদেল আশ-শিদ্দী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

চতুর্থত: নবী মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমর্থন ও সহযোগিতা করা

আর এটা জীবিত ও মৃত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকারসমূহের মধ্যে একটি অত্যন্ত জোরালো অধিকার; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তাঁর সাহাবীগণ এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সর্বত্তোম পন্থায় বাস্তবায়ন করেছেন। এই তো সাহাবী কাতাদা ইবন নু‘মান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি ধনুক হাদিয়া দেওয়া হলো; ওহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ধনুকটি আমার নিকট হস্তান্তর করলেন। তারপর আমি তার দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগে আগে তীর নিক্ষেপ করলাম, এমনকি শেষ পর্যন্ত তার দুই পাশের বাঁকা অংশ গুঁড়া হয়ে গেল, আর আমি সার্বক্ষণিকভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার সামনে দাঁড়িয়ে থেকে আমার চেহারার দ্বারা তীর প্রতিহত করতে থাকলাম। যখনই কোনো তীর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মুবারকের দিকে ধেয়ে আসত, তখনই আমি আমার মাথাকে ঝুঁকিয়ে দিতাম, যাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মুবারককে রক্ষা করতে পারি !!

আর এ তো সাহাবী ও সভাকবি হাসসান ইবন সাবিত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কথা বলছি, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার কাজে ব্যস্ত থাকতেন, এমনকি তিনি এ জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সুন্দর সুন্দর প্রসংসা অর্জন করেছেন। কেননা, তিনি বলেন:

«اهْجُهُمْ أَوْ هَاجِهِمْ وَجِبْرِيلُ مَعَكََ » .

“তুমি তাদের (কাফিরদের) নিন্দা কর, আর জিবরীল আলাইহিস সালাম তোমার সাথে আছেন।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০৪১, ৩৮৯৭ ও ৫৮০১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৫৪২]

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে মুশরিকদের বিপক্ষে তাঁকে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য উৎসাহিত করেছেন, তিনি বলেন:

«مَنْ يَرُدُّهُمْ عَنَّا وَلَهُ الْجَنَّةُ أَوْ هُوَ رَفِيقِى فِى الْجَنَّةِ» .

“যে আমাদের থেকে তাদেরকে প্রতিরোধ করবে, তার জন্য জান্নাত রয়েছে, অথবা সে জান্নাতে আমার সাথী হবে।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৪২]

আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর প্রতিরক্ষার বিষয়টি হবে তাঁর সুন্নাতের ক্ষেত্রে, যখন তা অপবাদ প্রদানকারীদের অপবাদ, জাহিলদের বিকৃতি ও বাতিলদের জালিয়াতির শিকার হয়। অনুরূপভাবে তাঁর মহান ব্যক্তিত্বকে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করা, যখন কেউ তাঁকে মন্দ বলে আক্রমণ করে, অথবা এমন বিশেষণ দ্বারা তাঁকে বিশেষিত করে, যা তাঁর শান ও মর্যাদার সাথে একেবারেই বেমানান। আর এ যুগে দুর্নাম বা কুৎসা রটানোর মত আক্রমণের হার অনেক পরিমাণে বেড়ে গেছে, যার দ্বারা তারা ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অপবাদ আরোপ করে যাচ্ছে; আর এ অবস্থায় গোটা উম্মতের আবশ্যকীয় দায়িত্ব হলো তাদের নবীকে প্রতিরক্ষার জন্য যথাসম্ভব শক্তি ও বল প্রয়োগের সকল উপায় অবলম্বন করা, যাতে ঐসব দুষ্ট লোকগুলো ঐ জাতীয় উদ্দেশ্য প্রণোদিত বর্বর আক্রমণ থেকে বিরত থাকে, যার মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো মানুষকে ইসলাম ও মুসলিমগণ থেকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া।