১
উম্মতের ওপর নবী মুহাম্মাদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার
লেখকঃ ড. আহমাদ আল-মাযইয়াদ, ড. আদেল আশ-শিদ্দী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
অষ্টমত: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বন্ধুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা এবং তাঁর শত্রুদেরকে ঘৃণা করা
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿لَّا تَجِدُ قَوۡمٗا يُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ يُوَآدُّونَ مَنۡ حَآدَّ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَوۡ كَانُوٓاْ ءَابَآءَهُمۡ أَوۡ أَبۡنَآءَهُمۡ أَوۡ إِخۡوَٰنَهُمۡ أَوۡ عَشِيرَتَهُمۡۚ أُوْلَٰٓئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ ٱلۡإِيمَٰنَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٖ مِّنۡهُۖ﴾ [ المجادلة : ٢٢ ]
“আপনি পাবেন না আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমানদার এমন কোন সম্প্রদায়, যারা ভালোবাসে তাদেরকে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, হোক না এ বিরুদ্ধাচারীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা এদের জ্ঞাতি-গোষ্ঠী। এদের অন্তরে আল্লাহ লিখে দিয়েছেন ঈমান এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা।” [সূরা আল-মুজাদালা, আয়াত: ২২]
আর তাঁকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার অন্যতম বিষয় হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা, তাঁদেরকে ভালোবাসা, সম্মান করা এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা। আর তাদের অধিকার সম্পর্কে জানা, তাদের প্রশংসা ও গুণগান করা এবং তাদের অনুসরণ করা। আর তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাদের মধ্যকার সংঘটিত অনাকাঙ্খিত ঘটনা ও বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকা, আর তাদের সাথে যে ব্যক্তি শত্রুতা পোষণ করে অথবা তাদেরকে গালি দেয় অথবা তাদের কোনো একজনের ব্যাপারে দুর্নাম বা নিন্দা করে, তার সাথে শত্রুতা পোষণ করা। আর (তাদের ব্যাপারে) তাদের কেউ মন্দ আলোচনা করলে তা গ্রহণ না করা; বরং তাদের ভালো ও মর্যদাপূর্ণ বিষয়গুলো এবং তাদের প্রশংসনীয় জীবন বৃত্তান্ত আলোচনা করাটাকেই যথেষ্ট মনে করা; আর এগুলোর বাইরে আলোচনা করা থেকে নীরব ও চুপ থাকা। [দেখুন: আশ-শিফা ( الشفا ): (২/৬১১-৬১২)]
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার-পরিজন (আহলে বাইত)-কে মহব্বত করা এবং তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা, আর তাদের মান-সম্মান প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করা এবং তাদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি বর্জন করা। কারণ, বাড়াবাড়ি করার বিষয়টি এমন, যা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আলেমগণকে মহব্বত করা এবং তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা, আর তাদের দুর্নাম করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া অথবা তাদের গীবত করা ও তাদের গোশত ভক্ষণ করার বিষয়টি বর্জন করা। কারণ, আলেমগণের গোশতের (গীবত করার) বিষয়টি বিষাক্ত ও মারাত্মক অন্যায়। আর তাদের দুর্নামকারী ব্যক্তিদের ব্যাপারে আল্লাহর বিধানের বিষয়টি তো সর্বজনবিদিত।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার অন্যতম বিষয় হলো: তাঁর শত্রু কাফির, মুনাফিক, বিদ‘আতের অনুসারী প্রমুখ পথভ্রষ্টদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা। কারণ, আসমা ইবন ‘উবাইদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«دَخَلَ رَجُلَانِ مِنْ أَصْحَابِ الْأَهْوَاءِ عَلَى ابْنِ سِيرِينَ فَقَالَا : يَا أَبَا بَكْرٍ ! نُحَدِّثُكَ بِحَدِيثٍ؟ قَالَ : لَا، قَالَا : فَنَقْرَأُ عَلَيْكَ آيَةً مِنْ كِتَابِ اللَّهِ ؟ قَالَ : لَا، لَتَقُومَانِ عَنِّي أَوْ لَأَقُومَنَّ، فَقَامَا وخَرَجَا» .
“প্রবৃত্তি পূজারীদের মধ্যে দুই ব্যক্তি ইবন সিরীন রহ.-এর নিকট প্রবেশ করল, তারপর বলল: হে আবু বকর (তার উপনাম)! আমরা কি আপনার নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করব? তিনি বললেন: না, তারা আবার বলল: তাহলে আমরা কি আপনার কাছে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত পাঠ করব? তিনি বললেন: না, বরং হয় তোমরা আমার কাছ থেকে চলে যাবে অথবা আমি চলে যাব! অতঃপর তারা দু’জন দাঁড়িয়ে গেল এবং বের হয়ে চলে গেল।” [আদ-দারেমী (৩৯৭)]
অনুরূপ প্রবৃত্তি পূজারীদের এক ব্যক্তি আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী রহ.-কে উদ্দেশ্য করে বলল:
«أسألك عن كلمة . فولى عنه وهو يشير بأصبعه : ولا نصف كلمة» .
“আমি আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে চাই; কিন্তু তিনি তার নিকট থেকে চলে গেলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি তাঁর আঙুল দ্বারা ইশারা করলেন: অর্ধক কথাও না।” [সুনান আদ-দারেমী: (১/১২০, ১২১)]
এ সবগুলোই হলো নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতকে সম্মান করার জন্য এবং তাঁর শত্রুদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করার জন্য।
আমরা আল্লাহ তা‘আলার নিকট আবেদন করছি যে, তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের) অনুসারীগণের অন্তর্ভুক্ত করে নেন এবং আমাদেরকে সমবেত করেন তাঁর দলে; আর তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর হিদায়াত ও সুন্নাতের বিরোধী বানিয়ে না দেন।
সমাপ্ত
﴿لَّا تَجِدُ قَوۡمٗا يُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ يُوَآدُّونَ مَنۡ حَآدَّ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَوۡ كَانُوٓاْ ءَابَآءَهُمۡ أَوۡ أَبۡنَآءَهُمۡ أَوۡ إِخۡوَٰنَهُمۡ أَوۡ عَشِيرَتَهُمۡۚ أُوْلَٰٓئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ ٱلۡإِيمَٰنَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٖ مِّنۡهُۖ﴾ [ المجادلة : ٢٢ ]
“আপনি পাবেন না আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমানদার এমন কোন সম্প্রদায়, যারা ভালোবাসে তাদেরকে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, হোক না এ বিরুদ্ধাচারীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা এদের জ্ঞাতি-গোষ্ঠী। এদের অন্তরে আল্লাহ লিখে দিয়েছেন ঈমান এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা।” [সূরা আল-মুজাদালা, আয়াত: ২২]
আর তাঁকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার অন্যতম বিষয় হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা, তাঁদেরকে ভালোবাসা, সম্মান করা এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা। আর তাদের অধিকার সম্পর্কে জানা, তাদের প্রশংসা ও গুণগান করা এবং তাদের অনুসরণ করা। আর তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাদের মধ্যকার সংঘটিত অনাকাঙ্খিত ঘটনা ও বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকা, আর তাদের সাথে যে ব্যক্তি শত্রুতা পোষণ করে অথবা তাদেরকে গালি দেয় অথবা তাদের কোনো একজনের ব্যাপারে দুর্নাম বা নিন্দা করে, তার সাথে শত্রুতা পোষণ করা। আর (তাদের ব্যাপারে) তাদের কেউ মন্দ আলোচনা করলে তা গ্রহণ না করা; বরং তাদের ভালো ও মর্যদাপূর্ণ বিষয়গুলো এবং তাদের প্রশংসনীয় জীবন বৃত্তান্ত আলোচনা করাটাকেই যথেষ্ট মনে করা; আর এগুলোর বাইরে আলোচনা করা থেকে নীরব ও চুপ থাকা। [দেখুন: আশ-শিফা ( الشفا ): (২/৬১১-৬১২)]
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার-পরিজন (আহলে বাইত)-কে মহব্বত করা এবং তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা, আর তাদের মান-সম্মান প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করা এবং তাদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি বর্জন করা। কারণ, বাড়াবাড়ি করার বিষয়টি এমন, যা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আলেমগণকে মহব্বত করা এবং তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা, আর তাদের দুর্নাম করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া অথবা তাদের গীবত করা ও তাদের গোশত ভক্ষণ করার বিষয়টি বর্জন করা। কারণ, আলেমগণের গোশতের (গীবত করার) বিষয়টি বিষাক্ত ও মারাত্মক অন্যায়। আর তাদের দুর্নামকারী ব্যক্তিদের ব্যাপারে আল্লাহর বিধানের বিষয়টি তো সর্বজনবিদিত।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার অন্যতম বিষয় হলো: তাঁর শত্রু কাফির, মুনাফিক, বিদ‘আতের অনুসারী প্রমুখ পথভ্রষ্টদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা। কারণ, আসমা ইবন ‘উবাইদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«دَخَلَ رَجُلَانِ مِنْ أَصْحَابِ الْأَهْوَاءِ عَلَى ابْنِ سِيرِينَ فَقَالَا : يَا أَبَا بَكْرٍ ! نُحَدِّثُكَ بِحَدِيثٍ؟ قَالَ : لَا، قَالَا : فَنَقْرَأُ عَلَيْكَ آيَةً مِنْ كِتَابِ اللَّهِ ؟ قَالَ : لَا، لَتَقُومَانِ عَنِّي أَوْ لَأَقُومَنَّ، فَقَامَا وخَرَجَا» .
“প্রবৃত্তি পূজারীদের মধ্যে দুই ব্যক্তি ইবন সিরীন রহ.-এর নিকট প্রবেশ করল, তারপর বলল: হে আবু বকর (তার উপনাম)! আমরা কি আপনার নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করব? তিনি বললেন: না, তারা আবার বলল: তাহলে আমরা কি আপনার কাছে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত পাঠ করব? তিনি বললেন: না, বরং হয় তোমরা আমার কাছ থেকে চলে যাবে অথবা আমি চলে যাব! অতঃপর তারা দু’জন দাঁড়িয়ে গেল এবং বের হয়ে চলে গেল।” [আদ-দারেমী (৩৯৭)]
অনুরূপ প্রবৃত্তি পূজারীদের এক ব্যক্তি আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী রহ.-কে উদ্দেশ্য করে বলল:
«أسألك عن كلمة . فولى عنه وهو يشير بأصبعه : ولا نصف كلمة» .
“আমি আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে চাই; কিন্তু তিনি তার নিকট থেকে চলে গেলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি তাঁর আঙুল দ্বারা ইশারা করলেন: অর্ধক কথাও না।” [সুনান আদ-দারেমী: (১/১২০, ১২১)]
এ সবগুলোই হলো নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতকে সম্মান করার জন্য এবং তাঁর শত্রুদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করার জন্য।
আমরা আল্লাহ তা‘আলার নিকট আবেদন করছি যে, তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের) অনুসারীগণের অন্তর্ভুক্ত করে নেন এবং আমাদেরকে সমবেত করেন তাঁর দলে; আর তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর হিদায়াত ও সুন্নাতের বিরোধী বানিয়ে না দেন।
সমাপ্ত