hadith book logo

উম্মতের ওপর নবী মুহাম্মাদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার

লেখকঃ ড. আহমাদ আল-মাযইয়াদ, ড. আদেল আশ-শিদ্দী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

পঞ্চমত: নবী মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাও‘য়াতকে সম্প্রসারণ করা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার পূরণের অন্যতম একটি দিক হলো ইসলাম প্রসারের কাজ করা এবং প্রত্যেক জায়গায় তাঁর বাণী প্রচার করা। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً» .

“তোমরা আমার পক্ষ থেকে পৌঁছিয়ে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২৭৪]

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:

«لأَنْ يَهْدِىَ اللَّهُ بِكَ رَجُلاً وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ» .

“তোমার দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক একজন মানুষকে হিদায়াত করাটা তোমার জন্য লাল উটের মালিক হওয়া থেকে অনেক বেশি উত্তম।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৮৪৭ ও ৩৯৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৩৭৬] আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও সংবাদ দিয়েছেন এ বলে:

«فَإِنِّى مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأممَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» .

“আমি কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে নিয়ে অন্যান্য উম্মতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাবো।” [আহমাদ ও সুনানের সংকলকবৃন্দ।] আর উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াত দেওয়ার কাজ করা এবং আল্লাহর দীনের মধ্যে দলে দলে লোকজনের প্রবেশ, আর আল্লাহ তা‘আলা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন যে, তাঁর দিকে দা‘ওয়াত দেওয়ার কাজটি হলো রাসূলগণ ও তাঁদের অনুসারীদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। সুতরাং তিনি বলেন:

﴿قُلۡ هَٰذِهِۦ سَبِيلِيٓ أَدۡعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِۚ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا۠ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِي﴾ [ يوسف : ١٠٨ ]

“বলুন, ‘এটাই আমার পথ, আল্লাহর প্রতি মানুষকে আমি ডাকি জেনে-বুঝে, আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারাও।” [সূরা ইউসূফ, আয়াত: ১০৮]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলে দিয়েছেন যে, দাওয়াতের কাজে যেসব কথা বলা হয়, সেগুলো হলো সর্বোত্তম কথা। তিনি বলেন:

﴿وَمَنۡ أَحۡسَنُ قَوۡلٗا مِّمَّن دَعَآ إِلَى ٱللَّهِ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ ٣٣﴾ [ فصلت : ٣٣ ]

“আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায় এবং সৎকাজ করে। আর বলে, ‘অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা ফুস্সিলাত, আয়াত: ৩৩]

সুতরাং এ উম্মতের জন্য আবশ্যক হলো- তারা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে আঁকড়ে ধরবে, যা পালন করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আর তা হলো আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎকাজে নিষেধ করা, আর বিশেষ করে এ যুগে, যে সময়ে ইসলামের শত্রুরা উম্মতের ওপর উৎপীড়ন করে চলেছে তাদেরকে ধ্বংস ও নিঃশেষ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে; আর আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহে কখনও তাদের এ লক্ষ্য অর্জিত হবে না, যতক্ষণ এ উম্মত তাদের আকিদা-বিশ্বাসকে মজবুতভাবে ধারণ করবে এবং তাদের নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিদায়াত ও নির্দেশনার অনুসরণ করে মানুষকে তাদের রবের দিকে ডাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَتَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَتُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِۗ ﴾ [ ال عمران : ١١٠ ]

“তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির জন্য যাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দিবে, অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০]