hadith book logo

যে কেউ কোনো জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে

লেখকঃ ড. নাসের ইবন আবদিল কারীম আল-‘আকল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫

ত্রয়োদশতম: ইফতারকে বিলম্বিত করা।

কারণ, সাওম পালনকারীর জন্য দ্রুত ইফতার করা সুন্নাত এবং তা হলো ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধাচরণ করা। ইমাম আবু দাউদ ও হাকেম রহ. থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«لاَ يَزَالُ الدِّينُ ظَاهِرًا مَا عَجَّلَ النَّاسُ الْفِطْرَ، لأَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى يُؤَخِّرُونَ» .

“দীন ততক্ষণ পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বিদ্যমান থাকবে, যতক্ষণ লোকজন দ্রুত ইফতার করবে। কারণ, ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানগণ ইফতারকে বিলম্বিত করে”। [আবু দাউদ, হাদীস নং- ২৩৫৩; ইবন মাজাহ, হাদীস নং- ১৬৯৮; হাকেম রহ., আল-মসতাদরাক: ১/৪৩১ এবং তিনি হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তের বিচারে বিশুদ্ধ বলেছেন।]

আর কিছু সংখ্যক মানুষ এ অভ্যাসে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছে; আর এটি বেশি পরিমাণে দেখা যায় শি‘আ-রাফেযী সম্প্রদায়ের মধ্যে। কারণ, শি‘আরা মাগরিবের সালাতকে বিলম্বিত করে এবং তারা ইফতারকে তারকারাজি ঘন হয়ে দেখা দেওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করে!!

অনুরূপভাবে কিছু সংখ্যক মানুষ সতর্কতা অবলম্বনের নামে ও দীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির পথ অবলম্বন করার দিক থেকে ইফতার করার ক্ষেত্রে বিলম্ব করে থাকে। এসব লোক কখনও কখনও মুয়াযযিনদের প্রতিও আস্থা রাখে না, এমনকি তারা তাদের নিজ চোখে সূর্য অস্ত দেখার প্রতিও আস্থা রাখতে পারে না; ফলে তারা তাদের পক্ষ থেকে এটাকে সতর্কতার পর্যায় মনে করে ইফতারের সময়কে বিলম্বিত করে। বস্তুত এটা হলো শয়তানের পক্ষ থেকে এক ধরনের কুমন্ত্রণা (সংশয়) ও তামাশা। কারণ, তা করা মানেই তো নিষিদ্ধ কাজে জড়িয়ে যাওয়া। কারণ সাহরী খাওয়াকে বিলম্বিত করা এবং ইফতার শুরু করতে দেরী না করাই হলো সুন্নাত।

হাদীসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, ইয়াহূদীগণ মাগরিবের সালাতকে ঘন হয়ে তারকারাজি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করে। ইমাম আবু দাউদ ও হাকেম রহ. থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, আর অনুরূপভাবে ইবন মাজাহ ও আহমদ রহ. (আল-মুসনাদে) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«لا تزال أمتى على الفطرة ما لم يؤخروا المغرب إلى اشتباك النجوم » .

“আমার উম্মত ততক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যতক্ষণ তারা মাগরিবের সালাতকে তারকারাজি ঘন হয়ে দেখা দেওয়া পর্যন্ত দেরী না করবে (অর্থাৎ সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে তাড়াতাড়ি ইফতার করবে)।” [আবু দাউদ, হাদীস নং- ৪১৮; ইবন মাজাহ, হাদীস নং- ৬৮৯; আহমদ: ৩/৪৪৯; হাকেম রহ. (আল-মসতাদরাক) এবং তিনি হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তের বিচারে বিশুদ্ধ বলেছেন, ১/১৯০, ১৯১]

আর এ বিষয়টিকে অন্যান্য হাদীসসমূহে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, তা হলো ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের কর্মের অনুরূপ। [ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. তার সনদকে সা‘ঈদ ইবন মানসুরের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, ইবন তাইমিয়্যাহ, ইকতিদাউস সিরাতিল মুসতাকীম: ১/১৮৪; ইমাম আহমদ রহ.-এর মতও অনুরূপ। আল-মুসনাদ: ৪/৩৪৯; ইবন আবি হাতেম, আল-মারাসীল: ১২১।]