hadith book logo

যে কেউ কোনো জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে

লেখকঃ ড. নাসের ইবন আবদিল কারীম আল-‘আকল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

প্রথম শ্রেণি: সাধারণভাবে সকল কাফির

সুতরাং কোনো প্রকার বিশিষ্টকরণ ছাড়াই সাধারণভাবে সব ধরনের কাফিরদের অনুসরণ-অনুকরণের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এর ওপর ভিত্তি করে এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে, সকল মুশরিক, ইয়াহূদী, খ্রিষ্টান, অগ্নিপূজক, সাবেয়ী (তারকা-নক্ষত্র পূজক), নাস্তিক এবং তাদের মতো অন্যান্য ব্যক্তিগণ। সুতরাং ইবাদাত, আচার-আচরণ ও পোষাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে যা কিছু কাফিরদের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হয়, এমন প্রত্যেক বিষয় থেকে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। যেমন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর গায়ে হলুদ বর্ণ বিশিষ্ট কাপড় দেখতে পেলেন, তখন তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেন:

«إن هذه من ثياب الكفار فلا تلبسها» .

“নিশ্চয় এগুলো কাফিরদের পোষাক-পরিচ্ছদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তুমি তা পরিধান করো না।” [মুসলিম, হাদীস নং ২০৭৭।] এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, পোষাক-পরিচ্ছদ যখন কাফিরদের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হবে, তখন মুসলিম ব্যক্তির জন্য তা পরিধান করা বৈধ হবে না। [পোষাক-পরিচ্ছদ থেকে অন্যতম একটি পোষাক হলো প্যান্ট, যাকে আজকের দিনের কাফিরগণের বৈশিষ্ট্য ও বিশেষ নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হয়, মুসলিমদের দেশে তা পরিধান করা বৈধ হবে না। যদিও আমরা দেখতে পাই যে, এ্যাংলো-ইউরোপীয়ান সভ্যতার ধ্বজাধারীদের মধ্যে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বস্তুত মুসলিম দেশে এ শ্রেণির লোকের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু তাদের এ অবস্থাটি বিবেচনায় আনা হবে না, বিবেচনায় আসবে সঠিক ও দীনের ব্যাপারে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অবস্থা, প্যান্ট পরিধান করা সৎ লোকদের চিহ্ন নয়। তাছাড়া প্রচলিত প্যান্ট লজ্জা নিবারণেও পর্যাপ্ত নয়। কারণ, তা লজ্জাস্থানকে প্রকাশ করে দেখায়। আর এটাও জানা আবশ্যক যে, কোনো কোনো নিদর্শন কাফেরদের বিশেষ অবস্থার অন্তর্ভুক্ত। যেমন, ইয়াহূদীদের বিশেষ টুপি এবং খ্রিষ্টানদের ক্রুশ ইত্যাদি।]