hadith book logo

আল-কুরআন ও তার সুমহান মর্যাদা

লেখকঃ শাইখ আব্দুল আযীয ইবন আবদুল্লাহ আলে শাইখ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২

ভূমিকা

সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার উপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেন নি। সরলরূপে; যাতে সে তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন আযাব সম্পর্কে সতর্ক করে এবং সুসংবাদ দেয় সেসব মুমিনকে, যারা সৎকর্ম করে। নিশ্চয় তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান, তারা তাতে অনন্তকাল অবস্থান করবে। আর যেন সতর্ক করে তাদেরকে যারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।

আবারও প্রশংসা করছি সেই মহান আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার উপর সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল করেছেন, যা সৃষ্টিকুলের জন্য ভয় প্রদর্শনকারী। দরূদ ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যিনি হিদায়েত ও রহমত নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন। তিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী, আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তিনি তাঁর পথে আহ্বানকারী এবং আলোকোজ্জ্বল প্রদীপ, আল্লাহ তা‘আলা তার উপর ও তার পরিবার পরিজন, সাহাবায়ে কিরাম ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণকারী সকলের উপর সালাত প্রেরণ করুন।

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টিকূলের উপর বিশেষ করে মু’মিনের উপর অনুগ্রহ দান করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন। তিনি তার সাথে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা অন্যান্য সব কিতাবের রক্ষক। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ

﴿ لَقَدۡ مَنَّ ٱللَّهُ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ إِذۡ بَعَثَ فِيهِمۡ رَسُولٗا مِّنۡ أَنفُسِهِمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمۡ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبۡلُ لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٍ ١٦٤ ﴾ [ ال عمران : ١٦٤ ]

“অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের উপর অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের প্রতি একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করে আর তাদেরকে কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দেয়। যদিও তারা ইতঃপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে ছিল।” [সূরা আলে-ইমরান: ১৬৪]

সহীহ মুসলিমে এসেছে:

عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ الْمُجَاشِعِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ فِي خُطْبَتِهِ : «أَلَا إِنَّ رَبِّي أَمَرَنِي أَنْ أُعَلِّمَكُمْ مَا جَهِلْتُمْ، مِمَّا عَلَّمَنِي يَوْمِي هَذَا، كُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حَلَالٌ، وَإِنِّي خَلَقْتُ عِبَادِي حُنَفَاءَ كُلَّهُمْ، وَإِنَّهُمْ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ، وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَلْتُ لَهُمْ، وَأَمَرَتْهُمْ أَنْ يُشْرِكُوا بِي مَا لَمْ أُنْزِلْ بِهِ سُلْطَانًا، وَإِنَّ اللهَ نَظَرَ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ، فَمَقَتَهُمْ عَرَبَهُمْ وَعَجَمَهُمْ، إِلَّا بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، وَقَالَ : إِنَّمَا بَعَثْتُكَ لِأَبْتَلِيَكَ وَأَبْتَلِيَ بِكَ، وَأَنْزَلْتُ عَلَيْكَ كِتَابًا لَا يَغْسِلُهُ الْمَاءُ، تَقْرَؤُهُ نَائِمًا وَيَقْظَانَ ...... »

সহীহ মুসলিমে ‘ইয়াদ ইবন হিমার আল-মুজাশি‘য়ী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবায় বলেছেন, জেনে রাখো, আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা যা কিছু জানো না তা যেন তোমাদেরকে শিখিয়ে দেই, যে ইলম আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আজ পর্যন্ত জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যেসব সম্পদ আমি আমার বান্দাহকে দান করেছি তা হালাল এবং নিশ্চয়ই আমি আমার সকল বান্দাহকে জন্মগতভাবেই নিষ্কলুষ তথা সরল সঠিক পথের অনুসারী করে সৃষ্টি করেছি। এরপরে শয়তান তাদের নিকট এসে তাদেরকে বিভ্রান্ত করে সঠিক পথ থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং আমি যা তাদের জন্য হালাল করেছি শয়তান তা তাদের উপর হারাম করে দিয়েছে। তদুপরি শয়তান আমার সাথে এমন কিছুকে শরীক করতে আদেশ দেয় যে সম্পর্কে আমি কোনো দলিল প্রমাণ অবতীর্ণ করি নি। আর আল্লাহ তা‘আলা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে আরব অনারব সবার প্রতি (তাদের কার্যকলাপের কারণে) ক্রোধান্বিত হলেন। কেবল আহলে কিতাবের কিছু সংখ্যক লোক যারা সঠিক পথকে ধরে রেখেছে (তারা স্রষ্টার রোষ থেকে রক্ষা পেলো)। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, নিশ্চয় আমি আপনাকে পরীক্ষা করা ও আপনার দ্বারা সৃষ্টিকুলকে পরীক্ষা করা এ দু’উদ্দেশ্যে আপনাকে জগতে প্রেরণ করেছি। এবং আমি আপনার উপর এমন কিতাব নাযিল করেছি যা পানি ধুয়ে মুছে ফেলতে পারে না। তা আপনি শয়নে জাগরণে সর্বাবস্থায় তিলাওয়াত করতে পারেন [মুসলিম, হাদীস নং ২৮৬৫।]।

এ কিতাব পূর্ববর্তী সব কিতাবের রক্ষাকারী।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ مُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ مِنَ ٱلۡكِتَٰبِ وَمُهَيۡمِنًا عَلَيۡهِۖ ٨ ﴾ [ المائ‍دة : ٤٨ ]

“আর আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যথাযথভাবে, এর পূর্বের কিতাবের সত্যায়নকারী ও এর উপর তদারককারীরূপে।” [সূরা আল-মায়েদা: ৪৮]

অর্থাৎ এটি পূর্ববর্তী সব কিতাব থেকে সুউঁচু ও মর্যাদাবান। অন্যান্য কিতাবের রক্ষাকারী, ফয়সালাকারী, সাক্ষ্যদানকারী ও মূল্যায়ণকারী।

ইবন জারীর রহ. বলেন, আল কুরআন পূর্ববর্তী সব কিতাবের আমানতদার ও নিরাপত্তাদাতা। সুতরাং যা কিছু কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে তা সঠিক, আর যা কুরআনের সাথে বিরোধপূর্ণ হবে তা বাতিল।

সব মুসলিমের অন্তরে আল কুরআনের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। এটি নিজেই মহিমান্বিত, সম্মানিত, মর্যাদাবান ও শক্তিশালী।

আমরা এ পুস্তিকাতে ইশারা ইঙ্গিতে সংক্ষেপে এ বিষয়ে আলোকপাত করব। আশা করি আল্লাহ তা‘আলা এর দ্বারা আমাদেরকে উপকৃত করবেন, সম্মানিত পাঠক পাঠিকাগণ ও যার কাছে এ বাণী পৌঁছবে সকলেই উপকৃত হবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা সর্বশ্রোতা ও দো‘আ কবুলকারী।