hadith book logo

সহজ ফিকহ শিক্ষা

লেখকঃ ড. সালিহ ইবন গানিম আস-সাদলান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

৩- জমিন থেকে উৎপাদিত ফসলের যাকাত:

সমস্ত খাদ্যশস্য, ওজন করা ও গুদামজাত করা যায় এমন ফলমূল যেমন, খেজুর, কিসমিস ইত্যাদিতে নিসাব পূর্ণ হলে যাকাত ফরয। আর এর নিসাবের পরিমাণ হলো ৩০০ সা‘, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সা‘ অনুযায়ী, যা প্রায় ৬২৪ কিলোগ্রাম।

নিসাব পূর্ণ করতে একই প্রকারের ফল একই বছরের সব ফল একত্র করা হবে। যেমন, সব ধরণের খেজুর।

খাদ্যশস্য ও ফলের যাকাতের পরিমাণ:

১- বিনা খরচে প্রাকৃতিক বৃষ্টির পানিতে বা ঝর্ণার পানিতে উৎপাদিত খাদ্যশস্য ও ফলমূলে ‘উশর বা এক দশমাংশ (১০%) হারে যাকাত ফরয।

২- শ্রম নির্ভর সেচ, যেমন কূপ ইত্যাদি থেকে পানি এনে সেচ দেওয়া সাপেক্ষে যে ফসল উৎপন্ন হয় তাতে যাকাতের পরিমাণ হলো অর্ধ ‘উশর (৫%)।

৩- যেসব খাদ্যশস্য ও ফলমূল কিছু বিনা খরচে বৃষ্টির পানিতে এবং কিছু শ্রম নির্ভর সেচ, যেমন কূপ ইত্যাদি থেকে পানি এনে সেচ দেওয়া সাপেক্ষে উৎপন্ন হয়েছে তাতে ৭.৫% হারে যাকাত ফরয।

খাদ্যশস্যে যখন দানা পরিপক্ক হয় এবং খোসাযুক্ত হয় এবং ফলমূল যখন পরিপক্ক হয়ে খাওয়ার উপযোগী হয় তখন এতে যাকাত ফরয হয়।

শাকসব্জি ও ফলমূল ব্যবসার জন্য হলে কেবল এতে যাকাত ফরয হবে, তখন এতে নিসাব পূর্ণ হলে ও বছর অতিক্রান্ত হলে এর মূল্য থেকে ২.৫% হারে যাকাত দিতে হবে।

সামুদ্রিক মূল্যবান জিনিস যেমন, মণিমুক্তা, নীলকান্তমণি ও মাছ ইত্যাদিতে কোনো যাকাত নেই। তবে এগুলো যদি ব্যবসার জন্য হয় তবে এতে ব্যবসার মালের মতো নিসাব পূর্ণ হলে ও বছর অতিক্রান্ত হলে ২.৫% হারে যাকাত দিতে হবে।

রিকায তথা গুপ্তধন বলতে জমিনের নিচে পুঁতে রাখা ধন সম্পদ। এ সম্পদ কম হোক বা বেশি হোক কেউ তা পেলে ফাইয়ের খাত তথা গরীব, মিসকীন ও কল্যাণকর কাজে এক পঞ্চমাংশ (২০%) হারে যাকাত আদায় করতে হবে।