hadith book logo

আল্লাহর রাসূলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ

লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করা:

মাতা-পিতার বড় দায়িত্ব হল সন্তানকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। সন্তানকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে না পারলে, তা যে কত যন্ত্রণা দায়ক তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এর থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হল, ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করা। ইসলাম সম্মত উপায়ে জীবন যাপন করা সন্তানের সু-শিক্ষার প্রকৃষ্ট পন্থা। রুযী রোজগারের জন্য সন্তান-সন্ততিদেরকে পার্থিব শিক্ষার সাথে সাথে শরীয়তের ইলম শিক্ষা দান করতে হবে যেন, তারা তাদের স্বভাব চরিত্র শরিয়তের বিধি বিধান মোতাবেক গড়ে তুলতে পারে। এটা মাতা-পিতার অবশ্য কর্তব্য।

এ সম্পর্কে লুকমান হাকীম রহ. এর স্বীয় সন্তানের প্রতি উপদেশ আমাদের জন্য আদর্শ। কুরআনে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তিনি প্রথমে তার ছেলেকে তাওহীদ সম্পর্কে শিক্ষা দেন। তারপর তিনি তার ছেলেকে আল্লাহর সাথে কাউকে শিরক করতে না করেন। তার আলোচনা আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে এভাবে বর্ণনা করেন:

প্রথমে তিনি তাওহীদ সম্পর্কে বলেছেন,

﴿وَإِذۡ قَالَ لُقۡمَٰنُ لِٱبۡنِهِۦ وَهُوَ يَعِظُهُۥ يَٰبُنَيَّ لَا تُشۡرِكۡ بِٱللَّهِۖ إِنَّ ٱلشِّرۡكَ لَظُلۡمٌ عَظِيمٞ ١٣﴾ [ لقمان : ١٣ ]

“আর স্মরণ কর, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল, ‘প্রিয় বৎস, আল্লাহর সাথে শির্ক করো না। নিশ্চয় শির্ক হলো বড় যুলুম”। [সূরা লুকমান, আয়াত: ১৩]

দ্বিতীয়ত: তিনি পাপ কাজ হতে বিরত থাকা সম্বন্ধে বলেছেন,

﴿يَٰبُنَيَّ إِنَّهَآ إِن تَكُ مِثۡقَالَ حَبَّةٖ مِّنۡ خَرۡدَلٖ فَتَكُن فِي صَخۡرَةٍ أَوۡ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ أَوۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ يَأۡتِ بِهَا ٱللَّهُۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٞ ١٦﴾ [ لقمان : ١٦ ]

“হে আমার প্রিয় বৎস, নিশ্চয় তা (পাপ-পুণ্য) যদি সরিষা দানার পরিমাণ হয়, অতঃপর তা থাকে পাথরের মধ্যে কিংবা আসমানসমূহে বা জমিনের মধ্যে, আল্লাহ তাও নিয়ে আসবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সুক্ষ্মদর্শী, সর্বজ্ঞ’। [সূরা লুকমান, আয়াত: ১৩]

তৃতীয়ত: সত্য ধর্মের মূলনীতি ও সার শিক্ষা সম্বন্ধে তিনি বলেছেন,

﴿يَٰبُنَيَّ أَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَٱنۡهَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَٱصۡبِرۡ عَلَىٰ مَآ أَصَابَكَۖ إِنَّ ذَٰلِكَ مِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ١٧ وَلَا تُصَعِّرۡ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمۡشِ فِي ٱلۡأَرۡضِ مَرَحًاۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخۡتَالٖ فَخُورٖ ١٨﴾ [ لقمان : ١٧، ١٨ ]

“হে আমার প্রিয় বৎস, সালাত কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ দাও, অন্যায় থেকে নিষেধ কর এবং তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধর। নিশ্চয় এগুলো অন্যতম দৃঢ় সংকল্পের কাজ’। ‘আর তুমি মানুষের দিক থেকে তোমার মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। আর যমিনে দম্ভভরে চলাফেরা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোনো দাম্ভিক, অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না”। [সূরা লুকমান, আয়াত: ১৭-১৮]