hadith book logo

মহানবীর অবমাননা ওরা যা করেছে আমরা যা করব

লেখকঃ আলী হাসান তৈয়ব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

পশ্চিমাদের দ্বিমুখী নীতি :

পশ্চিমাদের বিবেক-বিবেচনা দেখে তখনই দুঃখটা জাগে যখন দেখি তারা চিন্তা-বাকস্বাধীনতার শ্লোগান দিতে দিতেই আইন করে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করে। যখন তারা কেবল নিজেদের ভোগ-বিলাসের অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে রাজনীতির বলী বানায় অসংখ্য নিরীহ বনি আদমকে। যে নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে তারা বিশ্বজুড়ে শোরগোল করে অবলীলায় তাদেরই মিসাইল আর বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে নির্দয়ভাবে। পক্ষান্তরে কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসায় আঘাত করে যে কুলাঙ্গার সিনেমা বানায় তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় না করিয়ে প্রশ্রয় দেয়া হয়। তথাকথিত চিন্তা ও বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে আর কত অন্যায়কে জায়েয করা হবে?

বৃটিশ রাজপুত্র ইউলিয়াম তার স্ত্রী কেটকে নিয়ে ফ্রান্সের সাগরপারে বেডরুমের বিনোদন করেছেন তাঁর ‘বিশ্বব্যাপী’ দীর্ঘ মধুচন্দ্রিমার অংশ হিসেবে। সেখানে তোলা তাদের কিছু নগ্ন ছবি পত্রিকায় প্রকাশ করায় তিনি ও বৃটিশরা বেজায় চটেছেন পত্রিকার ওপর। এটাকে তিনি ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ বলে অপমান জ্ঞানে মামলা করেছেন। আদালত কালবিলম্ব না করে তাঁর পক্ষে রায়ও দিয়েছে। অথচ একই সময়ে পৃথিবীর সবচে ত্যাগী মানুষ, মানুষের মুক্তি ও শান্তির চিন্তায় অস্থির রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদাহানী করে আমেরিকায় সিনেমা বানানো হলো। তথাপি এ ব্যাপারে পশ্চিমা নেতারা পরিষ্কার নিন্দাসূচক কিছু বলেন নি। মুসলিম ঔরসে জন্ম নেয়া ইয়াহূদীবান্ধব খাঁটি খ্রিস্টান বারাক ওবামাও কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ নেন নি।

তাকে গ্রেফতার করা হয় নি। উপরন্তু মাত্র সাত দিনের মাথায় সিনেমা নির্মাণের ক্ষোভ প্রশমিত না হতেই আবার ফ্রান্সের ‘শার্লি হেবদো’ সাময়িকী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যঙ্গাত্মক দুটি কার্টুন প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সের মুসলিম নেতারা সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই কার্টুন প্রকাশের নিন্দা জানিয়েছেন। বিক্ষোভের আশঙ্কায় ফ্রান্স ২০টি দেশে তাদের দূতাবাস ও কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে। পশ্চিমাদের তথাকথিত নীতিকথা আর আদর্শের পুরোটাই যে ভেক আর ভণ্ডামি তা আরও সপ্রমাণ হলো।

পশ্চিমাদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে বলে যথার্থ মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহম্মদ। ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার’ ওপর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের এক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে মাহাথির এ মন্তব্য করেন। ওই চলচ্চিত্র তৈরি প্রসঙ্গে হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, এর প্রচার ও প্রকাশ বন্ধ করা হলে মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননা করায় সারা বিশ্বের মুসলিমরা যখন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত-সংঘর্ষে বহু মানুষ হতাহত হচ্ছে তখন চলচ্চিত্রটির প্রচার বন্ধ না করে বরং সংঘাতকে আরো উস্কে দিলেন হিলারি।

এর জবাবে মাহাথির মুহম্মদ তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন, ‘মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকারের দোহাই দিয়ে হিলারি মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী এ চলচ্চিত্রের পক্ষে কথা বলেছেন। আমি মনে করি, পশ্চিমাদের মূল্যবোধ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের কথা বলে তারা একে অপরকে অপমান করতেও আর দ্বিধা করছে না।’

মাহাথির মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘মানুষ যদি একে অপরকে অবজ্ঞা ও অপমান করতে থাকে তাহলে কি ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে? রাষ্ট্র, সমাজ, ব্যক্তি কোথাও কোন শান্তি থাকবে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকবে। কিন্তু অপমান করার অধিকার কারও নেই।’

মাহাথির মুহাম্মদ জোর দিয়ে বলেন, অন্য জাতির ধর্ম ও মূল্যবোধকে আঘাত করা হলে বিশ্ব থেকে শান্তি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও ঘৃণা ও সংঘাত বেড়ে যাবে। [দৈনিক সংবাদ ২২/৯/২০১২ সংখ্যা]