এখানে আমাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশের আওতাভুক্ত বিভিন্ন অঙ্গনে বিস্রস্তভাবে ভয়াবহ অনেক ভাইরাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যা আমাদের চিন্তা-বৃত্তিকে সারশূন্য করে দেয়, আমাদের মন-মস্তিস্ককে করে ফেলে পঙ্গু, আমাদের বিবেক-বুদ্ধিকে করে নষ্ট। যার প্রতিকারকল্পে আমাদের ব্যক্তিক ও নৈর্ব্যক্তিক মন-মানসিকতায় ধর্মীয় বেশ কিছু অনুশাসন সক্রিয় করা অপরিহার্য। এ মর্মে আমাদের এমন অপারেশন দরকার যদ্বারা আমরা উল্লেখিত ভাইরাসগুলো দূর করতে সক্ষম হব। যেমন মহান আল্লাহ অনুসন্ধান ও যাচাই-বাচাইয়ের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলেন : হে মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী তোমাদের নিকট কোন বার্তা আনয়ন করে, তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে, পাছে অজ্ঞাতবশত তোমরা কোন সমপ্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে বস, এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদেরকে অনুতপ্ত হতে হয়। [হুজুরাত : ০৬]
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন :
সত্যের পরিবর্তে অনুমান কোন কাজে আসে না। [ইউনুছ : ৩৬]
আল্লাহ তাআলা
ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও মনের খেয়াল-খুশি পরিহারের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন :
(হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর স্বাক্ষী স্বরূপ, যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা
পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে; সে বিত্তবান হোক অথবা বিত্তহীন হোক আল্লাহ উভয়েরই ঘনিষ্টতর। সুতরাং তোমরা ন্যায়বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুগামি হয়ো না। যদি তোমরা পেঁচালো কথা বল অথবা পাশ কেটে যাও তবে তোমরা যা কর আল্লাহ তো তার সম্যক খবর রাখেন।) [নিসা : ১৩৫]
মানুষ যে বিপদাপদে আক্রান্ত হয় এর কারণ উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা বলেন :
(তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তো তিনি ক্ষমা করে দেন।) [শূরা : ৩০]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন :
যে ব্যক্তির অন্তরে অনু পরিমাণ
অহংকার থাকবে সে
জান্নাতে প্রবেশ করবে না। বলা হলো : মানুষ তো তার কাপড় সুন্দর হওয়া ও তার জুতা সুন্দর হওয়া পছন্দ করে? তিনি বললেন : নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর, সুন্দরকে তিনি পছন্দ করেন। (তিরমিযি: ১৯৯৯)
এ মূলসূত্র ও উদ্ধৃতিসমূহ বোধশক্তি ও মন-মানসে উপস্থিত ও সক্রিয় করার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি বোধশক্তি ও মন-মানসকে পরিচর্যা, পরিপক্কতা, বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা এবং দুঃসাহসিকতার মাধ্যমে যত্ন নিতে হবে, করতে হবে বিকশিত ও উর্বর। যাতে তা থেকে নানা কারণে আক্রান্তকারী ভাইরাসসমূহ দূর করা সম্ভব হয়, আক্রান্তদেরকে মানসিকভাবে বর্জন করা সম্ভব হয় এবং উদাসীন ও অবচেতন ব্যক্তিদের অব্যাহতভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়া সম্ভব হয়।