hadith book logo

কোরআন ও হাদিসের আলোকে এতিম প্রতিপালন

লেখকঃ মুহাম্মদ ওসমান গনি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

সাত. এতিম প্রতিপালন করা জান্নাতী লোকদের স্বভাব

আল্লাহ তাআলার তাদের প্রশংসা করে বলেন:

وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا ﴿8﴾ إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللهِ لَا نُرِيدُ مِنْكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا ﴿9﴾ ( الإنسان :8-9)

আহার্য্যের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও তারা অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীকে আহার্য্য দান করে এবং (তারা বলে) আমারা তোমাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে খাদ্য প্রদান করি। অতএব তোমাদের থেকে কোনো প্রতিদান ও ধন্যবাদ চাইনা। (সূরা ইনসান: ৮)

এখানে জান্নাতিদের প্রাপ্ত নিয়ামতের কারণ উল্লেখ করে বলা হল যে, তারা দুনিয়াতে অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিদের সাহায্য করত। তারা শুধু নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাহায্য দরিদ্র ও এতিমদেরকে দান করতো এমটি নয়। বরং নিজেদের প্রয়োজন সত্ত্বেও দান করে।

كَلَّا بَل لَا تُكْرِمُونَ الْيَتِيمَ ﴿17﴾ ( الفجر :17)

না কখনই না। বস্তুত: তোমরা এতিমকে সম্মান করনা। (সূরা আল-ফজর: ১৭)

এ আয়াতে কাফিরদের একটি মন্দ স্বভাব বর্ণনা করে বলা হয়েছে, তোমরা এতিমদেরকে সম্মান কর না, তাদেরকে সম্মান না করার উদ্দেশ্য এই যে, তোমরা এতিমের প্রাপ্য আদায় কর না এবং তাদের প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন কর না।

এ আয়াতে আরো ইঙ্গিত রয়েছে যে, এতিমদের প্রাপ্য আদায় এবং তাদের ব্যয়ভার বহন করলেই তোমাদের মানবিক ও আল্লাহ প্রদত্ত ধন সম্পদের কৃতজ্ঞতা সম্পর্কিত দায়িত্ব পালন হয়ে যায় না, বরং তাদেরকে সম্মানও করতে হবে। অপর দিকে নিজেদের সন্তানদের মোকাবেলায় তাদেরকে হেয় মনে করা যাবে না।