১
কোরআন ও হাদিসের আলোকে এতিম প্রতিপালন
লেখকঃ মুহাম্মদ ওসমান গনি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫
এতিমদের সরদার
আবদুল মুত্তালিবের পুত্র আব্দুল্লাহ, আবদুল ওয়াহাবের মেয়ে আমিনাকে বিয়ে করলেন। এই বিয়ের কয়েক মাস পর তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফর করলেন। অত:পর তিনি রাস্তায় অসুস্থ হয়ে ইন্তেকাল করলেন।
এই সময় তার স্ত্রী আমিনা গর্ভবতী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত চিন্তিত হলেন। কারণ তার গর্ভের এই সন্তানটি কিছু দিন পরে এতিম অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করবে।
আমিনা যখন সন্তানটি প্রসব করলেন তখন তার দাদা আব্দুল মুত্তালিব অত্যন্ত খুশী হলেন এবং তার নাম রাখলেন মুহাম্মদ। মক্কার প্রথা অনুযায়ী ধাত্রীরা ধনীদের সন্তানদেরকে দুধ পান করানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসলো। যখনই কোনো মহিলা জানতে পারে যে, মুহাম্মদ একজন এতিম, তখন তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারপর অন্য এমন সন্তান খোঁজে যার বাবা রয়েছে এবং ধনী, যাতে তাকে যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ প্রদান করতে পারে। পরিশেষে হালিমা সাদিয়া আসলেন এবং এই এতিমকে গ্রহণ করলেন। পরিশেষে তিনি তার পরিবার-পরিজনের জন্য বরকতের কারণ হয়ে গেলেন।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ পাঁচ বছর তার কাছে অবস্থান করলেন। তারপর তিনি তার মায়ের কাছে ফিরে আসলেন। মায়ের কোলে মাত্র অল্প দিন তিনি তার আদর-স্নেহ ও মমতার মাঝে বসবাস করতে পারলেন। তার বয়স যখন ছয় বছর, তখন তাঁর মা চির বিদায় নিলেন। এভাবেই তিনি শৈশব থেকেই মায়ের স্নেহ ও বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হলেন, কিন্তু আল্লাহর দয়া ও করুণা তাঁকে কখনই ছেড়ে যায়নি। তাঁর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা আল্লাহ সহজ করে দিলেন। দাদা আব্দুল মুত্তালিব দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন এবং তাঁর সাথে সুন্দর ব্যবহার করলেন। কিন্তু তিনিও এর দুই বছর পর মৃত্যু বরণ করেন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল আট বছর। অত:পর লালন পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন চাচা আবু তালিব। তাঁর উপার্জন করার ক্ষমতা হওয়া পর্যন্ত তিনিই তার দেখাশুনা ও দায় দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তারপর তিনি মহান করুণাময় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নবুওয়ত প্রাপ্ত হলেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآَوَى ﴿6﴾ وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَى ﴿7﴾ وَوَجَدَكَ عَائِلًا فَأَغْنَى ﴿8﴾ ( الضحى : 6-8)
অর্থ : তিনি কি তোমাকে এতিম রূপে পাননি। অত:পর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। তিনি তোমাকে পেয়েছেন পথহারা, অত:পর পথ প্রদর্শন করেছেন। তিনি তোমাকে পেয়েছেন নি:স্ব, অত:পর অভাবমুক্ত করেছেন। (েসূরা দোহা: ৬-৮)
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় আল্লাহর বাণী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এতিম প্রতিপালন ও তাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ ﴿9﴾ ( الضحى : 9)
অর্থ: সুতারাং তুমি এতিমদের প্রতি কঠোর হবে না। (সূরা দোহা: ৯)
এই সময় তার স্ত্রী আমিনা গর্ভবতী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত চিন্তিত হলেন। কারণ তার গর্ভের এই সন্তানটি কিছু দিন পরে এতিম অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করবে।
আমিনা যখন সন্তানটি প্রসব করলেন তখন তার দাদা আব্দুল মুত্তালিব অত্যন্ত খুশী হলেন এবং তার নাম রাখলেন মুহাম্মদ। মক্কার প্রথা অনুযায়ী ধাত্রীরা ধনীদের সন্তানদেরকে দুধ পান করানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসলো। যখনই কোনো মহিলা জানতে পারে যে, মুহাম্মদ একজন এতিম, তখন তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারপর অন্য এমন সন্তান খোঁজে যার বাবা রয়েছে এবং ধনী, যাতে তাকে যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ প্রদান করতে পারে। পরিশেষে হালিমা সাদিয়া আসলেন এবং এই এতিমকে গ্রহণ করলেন। পরিশেষে তিনি তার পরিবার-পরিজনের জন্য বরকতের কারণ হয়ে গেলেন।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ পাঁচ বছর তার কাছে অবস্থান করলেন। তারপর তিনি তার মায়ের কাছে ফিরে আসলেন। মায়ের কোলে মাত্র অল্প দিন তিনি তার আদর-স্নেহ ও মমতার মাঝে বসবাস করতে পারলেন। তার বয়স যখন ছয় বছর, তখন তাঁর মা চির বিদায় নিলেন। এভাবেই তিনি শৈশব থেকেই মায়ের স্নেহ ও বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হলেন, কিন্তু আল্লাহর দয়া ও করুণা তাঁকে কখনই ছেড়ে যায়নি। তাঁর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা আল্লাহ সহজ করে দিলেন। দাদা আব্দুল মুত্তালিব দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন এবং তাঁর সাথে সুন্দর ব্যবহার করলেন। কিন্তু তিনিও এর দুই বছর পর মৃত্যু বরণ করেন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল আট বছর। অত:পর লালন পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন চাচা আবু তালিব। তাঁর উপার্জন করার ক্ষমতা হওয়া পর্যন্ত তিনিই তার দেখাশুনা ও দায় দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তারপর তিনি মহান করুণাময় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নবুওয়ত প্রাপ্ত হলেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآَوَى ﴿6﴾ وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَى ﴿7﴾ وَوَجَدَكَ عَائِلًا فَأَغْنَى ﴿8﴾ ( الضحى : 6-8)
অর্থ : তিনি কি তোমাকে এতিম রূপে পাননি। অত:পর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। তিনি তোমাকে পেয়েছেন পথহারা, অত:পর পথ প্রদর্শন করেছেন। তিনি তোমাকে পেয়েছেন নি:স্ব, অত:পর অভাবমুক্ত করেছেন। (েসূরা দোহা: ৬-৮)
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় আল্লাহর বাণী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এতিম প্রতিপালন ও তাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ ﴿9﴾ ( الضحى : 9)
অর্থ: সুতারাং তুমি এতিমদের প্রতি কঠোর হবে না। (সূরা দোহা: ৯)