hadith book logo

কোরআন ও হাদিসের আলোকে এতিম প্রতিপালন

লেখকঃ মুহাম্মদ ওসমান গনি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

এতিমের দুআ

কথিত আছে এক ব্যক্তি মদ্য পান ও গুনাহর কাজ করত। এক প্রচণ্ড শীতের রাতে রাস্তা দিয়ে চলতে ছিল। অত:পর দেখতে পেলো, একটি ছোট ছেলে ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাঁদছে ও প্রচণ্ড শীতের কারণে কাঁপছে। ছেলিটির সাথে সে কথাবর্তা বললো, পরিচয় নিয়ে জানতে পারল যে, সে একজন এতিম। তার দুরাবস্থা দেখে লোকটি প্রভাবিত হলো। সে ছেলেটিতে খানা খাইয়ে দিলো এবং নিজের পোষাক খুলে তাকে দিলো যাতে সে শীতের কষ্ট থেকে রক্ষা পায়। তারপর নিজ বাড়ীতে ফিরে আসলো এবং ঘুমিয়ে পড়লো। স্বপ্নে দেখলো যেন কেয়ামত উপস্থিত হয়েছে। মানুষ হিসাব নিকাশের জন্য দাড়িয়েছে, আর তার নিজের ব্যাপারে সে দেখছে যে, আজাবের ফেরেশতাগণ এসে তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের সামনে সে লাঞ্জিত ও অপমাণিত হচ্ছে। আর যে মুহূর্তে তাকে আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই মুহূর্তে সেই এতিমের সাথে দেখা হলো। এতিমটি তার দুরাবস্থা দেখে আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলো। আল্লাহ এতিমের প্রার্থনা কবুল করলেন এবং ফেরেশতাদেরকে এতিমের প্রতি ভাল ব্যবহারের কারণে তাকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন, লোকটির হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে সে ভীত হয়ে পড়লো। অত:পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলো। গুনাহ থেকে তাওবা করলো ও পাপকাজ ছেড়ে দিলো এবং আল্লাহর আনুগত্যশীল বান্দায় পরিণত হয়ে গেল। এবং সংকল্প করলো যে, সব সময় এতিমের প্রতি ভাল ব্যবহার করবে।

বর্ণিত আছে আব্দুল্লাহ বিন মুবারক রহ. এতিমদেরকে খেজুর দিয়ে বলতেন। তোমরা আমাকে খেজুরের আটি দাও, আমি তোমাদেরকে দিরহাম দিব। অত:পর এতিমরা তার কাছ থেকে খেজুর নিয়ে যেত এবং ঠাণ্ডা পানি পান করত ও আটিগুলি ফেরত দিয়ে প্রতিটি আটির পরিবর্তে একটি করে দিরহাম গ্রহণ করত। তারপর তারা তাদের উদর পূর্ণ ও পকেট ভর্তি করে খুশি হয়ে রেব হতো।

এদিকে আব্দুল্লাহ বিন মুবারক বিনয়ের সাথে আওয়াজ করে ক্রন্দন করতেন। এমনকি অশ্রু দিয়ে চেহারা ও দাড়ি ভিজে যেত। তার এক ছাত্র তাকে জিজ্ঞেস করল। আপনি এতিমের উদর পরিতৃপ্ত করেছেন এবং তাদের পকেট দিরহাম দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। এর পরও কোন জিনিস আপনাকে কাঁদাচ্ছে?

তিনি উত্তরে বললেন: হে ভাই! আমাদের সম্মুখে শক্ত ঘাটি রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ ﴿11﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ ﴿12﴾ فَكُّ رَقَبَةٍ ﴿13﴾ أَوْ إِطْعَامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ ﴿14﴾ يَتِيمًا ذَا مَقْرَبَةٍ ﴿15﴾ أَوْ مِسْكِينًا ذَا مَتْرَبَةٍ ﴿16﴾ ( البلد : 11-16)

তবে সে বন্ধুর গিরিপথটি অতিক্রম করতে সচেষ্ট হয়নি। আর কিসে তোমাকে জানাবে, বন্ধুর গিরিপথটি কি? তা হচ্ছে দাস মুক্তকরণ। অথবা খাদ্য দান করা দুর্ভিক্ষের দিনে। এতিম আত্বীয় স্বজনকে। অথবা ধূলি মলিন মিসকীনকে। (সূরা আল-বালাদ: ১১-১৬)

প্রিয় মুসলিম! এতিম প্রতিপালন নি:সন্দেহ এমন কাজ যার দ্বারা দুনিয়া-আখিরাত উভয় জগতের যাবতীয় কল্যাণ সাধন করা যায়। সন্তুষ্টি পাওয়া যায় মহা মহিম আল্লাহ তাআলার। তাই আমাদের সকলের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে এ বিষয়ে সচেষ্ট হয়ে উভয় জগতের সফলতা অর্জন করা। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী সকল কাজ সম্পাদন করার তাওফিক দিন। আমিন।

সমাপ্ত