hadith book logo

কোরআন ও হাদিসের আলোকে এতিম প্রতিপালন

লেখকঃ মুহাম্মদ ওসমান গনি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

এতিমের গুপ্তধন

আল্লাহর আদেশে মূসা আলাইহিস সালাম খিজির আ:-এর সাথে ঘুরাফিরার জন্য সময় নির্ধারণ করলেন। যেখানে মূসা আ: এই সামান্য সময়ে খিজির আ: থেকে অনেক শিক্ষা অর্জন করেছিলেন। খিজির আ:- কে আল্লাহ এমন ইলম দান করেছিলেন যা অন্য কাউকে দেননি। আল্লাহ তালাআ তার সম্পর্কে বলেন:

آَتَيْنَاهُ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِنَا وَعَلَّمْنَاهُ مِنْ لَدُنَّا عِلْمًا ( الكهف : 65)

অর্থ: আমি তাকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছিলাম এবং আমার পক্ষ থেকে দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান। (সূরা কাহফ: ৬৫)

তাদের দু’জনের চলার পথে বেশ ক্ষুধা পেলো। দূর থেকে একটা শহর দৃষ্টিগোচর হলে তারা সেই শহরের দিকে অগ্রসর হলেন । সেখানে গিয়ে শহরবাসীর কাছে খানার আবদেন করলেন। কিন্তু ঐ শহরের বাসীন্দারা ছিল কৃপণ । তাই তারা তাদেরকে খাদ্য দিতে অস্বীকার করলো। শেষ পর্যন্ত তারা শহরের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেলেন।

হঠাৎ করে খিজির আ: একটা পুরাতন প্রাচীর দেখতে পেলেন যা ভেংগে পড়ার উপক্রম ছিল। তিনি প্রাচীরের কাছে গেলেন এবং তা মেরামত করে দিলেন। এদিকে খিজির আ:-এর কাজ দেখে মূসা আ: আশ্চর্য্য ও বিস্মিত হয়ে গেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, কি করে এমন সম্প্রদায়ের দেয়াল মেরামত করে দেয়া হলো যে সম্প্রদায় এক লোকমা খাদ্য প্রদান করলো না।

প্রকৃত পক্ষে খিজির আ:-এর এই কাজের পিছনে হিকমত ছিল। তিনি মূসাকে আ: সেই গোপন তথ্য বর্ণনা করে বলেন যে, প্রাচীরের নিচে মূল্যবান গোপ্তধন লুকায়িত আছে যার মালিক হচ্ছে শহরের দুই জন ছোট এতিম। যদি তিনি প্রাচীরটি ঐ অবস্থায় রেখে যেতেন তাহলে অনতিবিলম্বে দেয়ালটি ভেংগে পড়ে গুপ্তধনটি প্রকাশ হয়ে যেত এবং জালিম কৃপণ সম্প্রদায় এগুলি নিয়ে নিত। তিনি প্রাচীরটি মেরামত করেছেন যাতে গুপ্তধন এতিমদ্বয় বড় হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে। বড় হওয়ার পর কেউ আর তাদের থেকে তাদের সম্পদ কেড়ে নেয়ার সাহস পাবে না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:

وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنْزٌ لَهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَنْ يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنْزَهُمَا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي ذَلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا ﴿82﴾ ( الكهف : 82)

অর্থ: আর প্রাচীরের বিষয়টি হল, তা ছিল শহরের দু’জন এতিম বালকের এবং তার নিচে ছিল তাদের গুপ্তধন। আর তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। তাই আপনার রব চাইলেন যে, তারা দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে তাদের গুপ্তধন বের করে নেবে। এসবই আপনার রবের রহমত স্বরূপ। আমি নিজ থেকে তা করিনি। এ হলো সে বিষয়ের ব্যাখ্যা, যে সম্পর্কে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি। (সূরা কাহাফ: ৮২)