১
আত্মশুদ্ধি
লেখকঃ খালেদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-মুসলেহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
তৃতীয় ঔষধ: আল্লাহর যিকির বা স্মরণ:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿أَلَا بِذِكۡرِ ٱللَّهِ تَطۡمَئِنُّ ٱلۡقُلُوبُ ٢٨﴾ [ الرعد : ٢٨ ]
“আল্লাহর স্মরণেই চিত্ত (অন্তর) প্রশান্ত হয়।” [সূরা আর-রা‘দ, আয়াত: ২৮]
সহীহ হদীসে আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مثل الذي يذكر ربه والذي لا يذكر ربه كمثل الحي والميت»
“যে ব্যক্তি তার রবকে স্মরণ করে, আর যে ব্যক্তি তার রবকে স্মরণ করে না, তাদের উভয়ের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত এবং মৃতের ন্যয়।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪০৭।]
অতএব, অন্তরের জন্য আল্লাহর যিকির বা স্মরণ হলো যেমন, পানিতে মাছের অবস্থা। পানি থেকে মাছকে উপরে উঠানো হলে মাছের অবস্থা কেমন হতে পারে? অন্তরকে যদি যিকির থেকে বিরত রাখা হয় তাহলে তার অবস্থা উক্ত মাছের অবস্থার ন্যায় হয়ে যায়। তাই অন্তরকে আল্লাহর যিকির থেকে বিরত রাখা হলে অন্তর কঠিন ও শক্ত, অন্ধকার ও তমাসাচ্ছন্ন হয়ে যাবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَوَيۡلٞ لِّلۡقَٰسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكۡرِ ٱللَّهِ﴾ [ الزمر : ٢٢ ]
“দুর্ভোগ সেই কঠোর হৃদয় ব্যক্তিদের জন্যে, যারা আল্লাহর স্মরণে পরন্মুখ।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ২২]
ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর জন্য উজ্জ্বলতা প্রদানকারী বস্তু রয়েছে আর অন্তরের উজ্জ্বলতা বা আলো হলো আল্লাহর যিকির বা স্মরণ’।
এক ব্যক্তি হাসান বাসরীকে জিজ্ঞাসা করল: “হে আবু সাঈদ, আপনার কাছে আমার অন্তর শক্ত ও কঠিন হওয়া সম্পর্কে অভিযোগ করছি। এ কথা শুনে আবু সাঈদ হাসান বাসরী বললেন: আল্লাহর যিকির দ্বারা তা তরল ও গলিয়ে দাও। আল্লাহর যিকির এর ন্যায় এমন অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই, যার দ্বারা অন্তরের কঠিনতাকে তরল করা সম্ভব। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদেরকে অধিক মাত্রায় তাঁকে স্মরণ করার জন্য কুরআনে বিভিন্ন স্থানে নির্দেশ প্রদান করেছেন। তার মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার বাণী হলো:
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ ذِكۡرٗا كَثِيرٗا ٤١ وَسَبِّحُوهُ بُكۡرَةٗ وَأَصِيلًا ٤٢﴾ [ الاحزاب : ٤١، ٤٢ ]
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে এবং সকাল-সন্ধায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করবে।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪১-৪২ আয়াত]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা জানিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতেন। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জ্ঞানী বলে উল্লেখ করেছেন যারা সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ٱلَّذِينَ يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِم﴾ [ ال عمران : ١٩١ ]
“যারা দণ্ডায়মান, উপবেশন ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯১]
কমপক্ষে শর্তযুক্ত আযকারগুলো হিফাযত করা। যেমন, সকাল ও বিকালে পাঠ করার দো‘আ এবং সালাতের পর যে সমস্ত আযকার পাঠ করা হয় তার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং ঐ সমস্ত দো‘আ যা কোনো কারণে অথবা বিশেষ অবস্থায় পাঠ করা হয়।
প্রিয় পাঠক! আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তুমি আল্লাহর যিকির করার ব্যাপারে যথাসাধ্য যত্নবান হবে। কারণ, আল্লাহর যিকির বা স্মরণ হলো অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের হয়ে আসার এবং আল্লাহ তা‘আলার কাছ থেকে রহমত, দয়া ও অনুগ্রহের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে বেশি বেশি স্মরণ এবং সকাল এবং বিকাল তাঁর তাসবীহ পাঠ করার নির্দেশ প্রদান করার পর এর প্রতিদান উল্লেখ করে বলেন,
﴿هُوَ ٱلَّذِي يُصَلِّي عَلَيۡكُمۡ وَمَلَٰٓئِكَتُهُۥ لِيُخۡرِجَكُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِۚ وَكَانَ بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ رَحِيمٗا ٤٣﴾ [ الاحزاب : ٤٣ ]
“তিনি (আল্লাহ) তোমাদের ওপর সালাত প্রেরণ করেন আর তাঁর ফিরিশতারাও; তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনার জন্যে এবং তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালূ।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪৩]
তাই আল্লাহকে স্মরণকারীর প্রতিদান হলো অন্ধকার থেকে বের করে আলোর পথে নিয়ে আসা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত বা রহমত এবং ফিরিশতার পক্ষ থেকে ক্ষমার দো‘আ করা।
﴿أَلَا بِذِكۡرِ ٱللَّهِ تَطۡمَئِنُّ ٱلۡقُلُوبُ ٢٨﴾ [ الرعد : ٢٨ ]
“আল্লাহর স্মরণেই চিত্ত (অন্তর) প্রশান্ত হয়।” [সূরা আর-রা‘দ, আয়াত: ২৮]
সহীহ হদীসে আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مثل الذي يذكر ربه والذي لا يذكر ربه كمثل الحي والميت»
“যে ব্যক্তি তার রবকে স্মরণ করে, আর যে ব্যক্তি তার রবকে স্মরণ করে না, তাদের উভয়ের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত এবং মৃতের ন্যয়।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪০৭।]
অতএব, অন্তরের জন্য আল্লাহর যিকির বা স্মরণ হলো যেমন, পানিতে মাছের অবস্থা। পানি থেকে মাছকে উপরে উঠানো হলে মাছের অবস্থা কেমন হতে পারে? অন্তরকে যদি যিকির থেকে বিরত রাখা হয় তাহলে তার অবস্থা উক্ত মাছের অবস্থার ন্যায় হয়ে যায়। তাই অন্তরকে আল্লাহর যিকির থেকে বিরত রাখা হলে অন্তর কঠিন ও শক্ত, অন্ধকার ও তমাসাচ্ছন্ন হয়ে যাবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَوَيۡلٞ لِّلۡقَٰسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكۡرِ ٱللَّهِ﴾ [ الزمر : ٢٢ ]
“দুর্ভোগ সেই কঠোর হৃদয় ব্যক্তিদের জন্যে, যারা আল্লাহর স্মরণে পরন্মুখ।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ২২]
ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর জন্য উজ্জ্বলতা প্রদানকারী বস্তু রয়েছে আর অন্তরের উজ্জ্বলতা বা আলো হলো আল্লাহর যিকির বা স্মরণ’।
এক ব্যক্তি হাসান বাসরীকে জিজ্ঞাসা করল: “হে আবু সাঈদ, আপনার কাছে আমার অন্তর শক্ত ও কঠিন হওয়া সম্পর্কে অভিযোগ করছি। এ কথা শুনে আবু সাঈদ হাসান বাসরী বললেন: আল্লাহর যিকির দ্বারা তা তরল ও গলিয়ে দাও। আল্লাহর যিকির এর ন্যায় এমন অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই, যার দ্বারা অন্তরের কঠিনতাকে তরল করা সম্ভব। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদেরকে অধিক মাত্রায় তাঁকে স্মরণ করার জন্য কুরআনে বিভিন্ন স্থানে নির্দেশ প্রদান করেছেন। তার মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার বাণী হলো:
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ ذِكۡرٗا كَثِيرٗا ٤١ وَسَبِّحُوهُ بُكۡرَةٗ وَأَصِيلًا ٤٢﴾ [ الاحزاب : ٤١، ٤٢ ]
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে এবং সকাল-সন্ধায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করবে।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪১-৪২ আয়াত]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা জানিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতেন। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জ্ঞানী বলে উল্লেখ করেছেন যারা সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ٱلَّذِينَ يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِم﴾ [ ال عمران : ١٩١ ]
“যারা দণ্ডায়মান, উপবেশন ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯১]
কমপক্ষে শর্তযুক্ত আযকারগুলো হিফাযত করা। যেমন, সকাল ও বিকালে পাঠ করার দো‘আ এবং সালাতের পর যে সমস্ত আযকার পাঠ করা হয় তার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং ঐ সমস্ত দো‘আ যা কোনো কারণে অথবা বিশেষ অবস্থায় পাঠ করা হয়।
প্রিয় পাঠক! আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তুমি আল্লাহর যিকির করার ব্যাপারে যথাসাধ্য যত্নবান হবে। কারণ, আল্লাহর যিকির বা স্মরণ হলো অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের হয়ে আসার এবং আল্লাহ তা‘আলার কাছ থেকে রহমত, দয়া ও অনুগ্রহের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে বেশি বেশি স্মরণ এবং সকাল এবং বিকাল তাঁর তাসবীহ পাঠ করার নির্দেশ প্রদান করার পর এর প্রতিদান উল্লেখ করে বলেন,
﴿هُوَ ٱلَّذِي يُصَلِّي عَلَيۡكُمۡ وَمَلَٰٓئِكَتُهُۥ لِيُخۡرِجَكُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِۚ وَكَانَ بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ رَحِيمٗا ٤٣﴾ [ الاحزاب : ٤٣ ]
“তিনি (আল্লাহ) তোমাদের ওপর সালাত প্রেরণ করেন আর তাঁর ফিরিশতারাও; তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনার জন্যে এবং তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালূ।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪৩]
তাই আল্লাহকে স্মরণকারীর প্রতিদান হলো অন্ধকার থেকে বের করে আলোর পথে নিয়ে আসা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত বা রহমত এবং ফিরিশতার পক্ষ থেকে ক্ষমার দো‘আ করা।